আপন ঘরে নেই রোনালদো
ছবি: ফাইল
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২০ | ০১:৩৯
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে পর্তুগালে আসা শুরু করেছেন আট ক্লাবে খেলা বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা। কিন্তু ফুটবলবিশ্বে পর্তুগাল বললে যার নাম উঠে আসে, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই নেই তার নিজ দেশে। উপরন্তু, রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে রোনালদোর জুভেন্তাস ছিটকে গেছে যে দলের কাছে, সেই লিও ১৬ আগস্ট ম্যানসিটির বিপক্ষে খেলবে হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে, যে মাঠটি পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী রোনালদোর আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত।
স্পোর্টিং সিপির মাঠে ম্যানসিটি-লিও খেলবে, সেমিতে উঠলে লিওনেল মেসি বা রবার্ট লেভানডস্কিরাও খেলবেন; কিন্তু ঘরের ছেলেরই থাকা হবে না সেখানে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তাই সিঙ্গেল রাউন্ড আর টুর্নামেন্ট আদলের কারণেই নয়, রোনালদোর শহরে রোনালদো না থাকার কারণেও অন্যরকম।
একটি জায়গায় অবশ্য সিআর সেভেন ঠিকই থাকছেন। জুভেন্তাস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার পর কোচ মাওরিসিও সারি বরখাস্ত হয়ে গেছেন। গুঞ্জন উঠেছে, রোনালদোও ইতালি ছাড়ছেন। নতুন গন্তব্য হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে পিএসজির নাম।
'ফুট মার্কেতো' জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চলাকালে রোনালদোর ট্রান্সফার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা আছে। পিএসজির স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিওনার্দোর সঙ্গে কথা বলবেন রোনালদোর এজেন্ট জর্জ মেন্ডেস। একই সময়ে রোনালদোও পর্তুগালে থাকবেন কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে দলবদল বিষয়ক আলোচনা তো নেপথ্যের ঘটনা। সবার সামনে চলবে ফুটবল, এখানেই রোনালদোকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বাধিক গোলের মালিক তার নিজের শহর এবং নিজের গড়ে ওঠা যে মাঠে সেখানেই খেলতে পারছেন না।
২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়ার আগে স্পোর্টিং সিপিতে খেলেই বিশ্বফুটবলে আলো ছড়িয়েছিলেন এখনকার ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। একই বছরে ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮, বি দল এবং মূল দলে খেলেছিলেন তখন। পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুটা যেখানে, ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়ও (বয়স বিবেচনায়) সেখানে নামার অপূর্ব সুযোগ ছিল এবার। কিন্তু ফরাসি ক্লাব লিওর সঙ্গে সমানতালে লড়েও অ্যাওয়ে গোলে কপাল পুড়েছে জুভেন্তাস এবং রোনালদোর।
নিজের শহরে একটি রেকর্ডও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা আছে সিআর সেভেনের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৭ গোলের রেকর্ড আছে তার। চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে ১৩ গোল করে পিছু ধাওয়া করছেন লেভানডস্কি। সব মিলিয়ে রোনালদোর জন্য অদ্ভুত এক সময় অপেক্ষা করছে দর্শকবিহীন এবারের সিঙ্গেল লেগ পদ্ধতির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে বড় খারাপ অনুভূতিটা হবে লিসবনের মাঠে নামতে না পারাটাই।