ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে মিকি আর্থার

এদেশে কোচকে শিক্ষকের সম্মান দেওয়া হয়

এদেশে কোচকে শিক্ষকের সম্মান দেওয়া হয়
×

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৩৩

মিকি আর্থারকে বৈশ্বিক কোচ বলা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিতই কাজ করছেন। রংপুর রাইডার্সের নিয়মিত কোচ হয়ে গেছেন তিনি। গ্লোবাল সুপার লিগ, বিপিএলে কাজ করছেন দলটিতে। কিছুটা মেজাজি এবং কর্তৃত্বপরায়ণ এই ক্রিকেট কোচকে টি২০ বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকরা ফিল সিমন্সের জায়গায় চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে এই বার্তা ছড়িয়েও গেছে। শনিবার সিলেটে রংপুর রাইডার্সের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী।  

সমকাল: বিপিএলে রংপুর রাইডার্সে কাজ করতে কেমল লাগছে? 
মিকি:
আমি রংপুরকে ভালোবাসি, এটি একটি দুর্দান্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যেক মানুষকে ভালোবাসি। আমাদের মালিকরা অসাধারণ। আমি এখন সত্যিই রংপুর পরিবারের অংশ অনুভব করি। এই দলটিকে নিজের মনে হয়। 

সমকাল: গত পাঁচ বছরে বিপিএলে কী পরিবর্তন দেখছেন?
মিকি:
আমি দেখতে পাচ্ছি প্রচুর স্থানীয় প্রতিভা। এখানে প্রচুর স্থানীয় প্রতিভা রয়েছে। প্রতিযোগিতা আগের থেকে আরও ভালো হয়েছে। আমি খুব ভালো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ। রংপুর রাইডার্স একটি ব্র্যান্ড এবং সবাই এই দলের অংশ হতে চায়।

সমকাল: বিপিএলের কোন জায়গায় উন্নতি করার সুযোগ আছে?
মিকি:
আমি মনে করি বিপিএলের উন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মালিকানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রংপুর রাইডার্স ছাড়া বাকি সব দলের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এভাবে পরিবর্তন হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারবেন না। মানুষ মালিক সম্পর্কে জানে না। তারা জানেন না কী ঘটতে চলেছে। তাই আমি বলতে চাই, আপনি সামঞ্জস্যপূর্ণ মালিক পেলে এটি একটি দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা হবে। তারা ভালো দল গড়তে চেষ্টা করবে। নিজের দলকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে। যেটি বিপিএলের জন্য ভালো।  

সমকাল: আগের তুলনায় এখন অনেক সাদামাটা বিদেশি ক্রিকেটার খেলে বিপিএলে।
মিকি:
এখন যা লক্ষ্য করেছি তাহলো স্থানীয় খেলোয়াড়দের বিকাশের দুর্দান্ত একটি গতি দেখছি। চমৎকার কিছু স্থানীয় খেলোয়াড় আছে। তাদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম দরকার। বিপিএল খেলোয়াড়দের দ্রুত বিকাশে সহায়তা করে। আমি মনে করি স্থানীয় খেলোয়াড়দের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিত্তি বড় হয়েছে। আগের থেকে প্রতিযোগিতা মানসম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যেটি দুর্দান্ত। 

সমকাল: আপনি যখন একজন বোলারকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে দেখেন তখন এটি আপনাকে কেমন রোমাঞ্চিত করে?
মিকি:
এটি সত্যিই আমাকে উত্তেজিত করে। এটি অবিশ্বাস্যভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। গত রাতে (শুক্রবার) নাহিদ রানাকে দেখে আশ্চর্য লেগেছে। তাকে শুধু লালন করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তার দক্ষতা আরও উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে।  

সমকাল: দেড়শ কিলোমিটার গতির বোলার পাওয়া কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষণ?
মিকি:
শতভাগ। আমার মনে আছে ২০১৫ সালে এসেছিলাম। তখন মনে হয়নি এখানে অত বেশি ফাস্ট বোলার আছে। জানতাম এখানে দুর্দান্ত কয়েকজন স্পিনার আছে। এখন দেখেন, প্রতিটি দলেই ফাস্ট বোলার রয়েছে। গত রাতে আমাদের বিপক্ষে হাসান মাহমুদ সুন্দর বোলিং করছিল। আরেকটি ছেলে আছে, সম্ভবত রিপন মণ্ডল। সে দারুণ একজন বোলার। একটি সুপার ওভার করেছিল আমাদের বিরুদ্ধে। ছেলেটা কম বয়সী কিন্তু দারুণ বোলিং করে। চট্টগ্রামের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম আছে। বাংলাদেশের দারুণ একটি ফাস্ট বোলিং ইউনিট আছে। পেস বোলিং কোচ হিসেবে শন টেইট কাজ করছে। এই ছেলেগুলো অনেক কিছু শিখতে পারবে।

সমকাল: গুঞ্জন আছে বিশ্বকাপের পর আপনাকে বাংলাদেশের কোচ করা হতে পারে। প্রস্তাব পেলে রাজি হবেন?
মিকি:
আমি এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ এখানে একজন প্রধান কোচ আছেন; যাকে আমি সম্মান করি। 

সমকাল: একজন ভালো কোচ কীভাবে দল পরিচালনা করেন?
মিকি:
আপনি দলকে ঠিক সেইভাবে পরিচালনা করবেন যে, আমার জন্য সবাই সমান। সর্বকনিষ্ঠ, অভিজ্ঞ এবং তারকা ক্রিকেটারকে দলের জন্য একই স্তরে বিবেচনা করতে হবে। পরিবেশ বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করতে হবে। আপনি তাদের কাছে থেকে কী আশা করেন, খেলার ধরন কী, নিজেদের শৈলী দিয়ে তারা কী ভূমিকা রাখতে চায়। আমি অনেক খেলোয়াড়কে এদিক ওদিক ঘুরতে দেখেছি, তারা জানে না তাদের কাছ থেকে কী আশা করা হচ্ছে। তারা জানে না তাদের ভূমিকা কী। খেলোয়াড়দের সব সময় জানতে হবে তাদের কাছ থেকে ঠিক কী প্রত্যাশিত এবং তাদের ভূমিকা ঠিক কী। 

সমকাল: আপনি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় কোচিং করেছেন, এখন বাংলাদেশে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড থেকে উপমহাদেশে কোচিং কতটা আলাদা? 
মিকি:
এটি খুবই আলাদা। সাংস্কৃতিকভাবে অনেক আলাদা। মানসিক নাকি সংস্কৃতি, সংস্কৃতি। তবে আমি উপমহাদেশের কোচিং করাতে পছন্দ করি। এখানে খেলোয়াড়রা শিখতে চায়। উপমহাদেশে একজন কোচ হিসেবে আপনি যে সম্মান পান, পশ্চিমা বিশ্বে তা পাবেন না। আপনি এমন খেলোয়াড়দের খুঁজে পাবেন যে সুযোগের জন্য মরিয়া। আমি মনে করি এটিই উপমহাদেশকে পশ্চিমা বিশ্বের কোচিংয়ের সম্পূর্ণ আলাদা করে তোলে। এ কারণেই আমি মনে করি আমি উপমহাদেশে অনেক সাফল্য পেয়েছি। কারণ আমি খেলোয়াড়দের দেখেছি, যাদের কোচিং করানো সহজ। পশ্চিমা বিশ্বে এটি সম্ভব না। এখানে কোচকে দেখা হয় শিক্ষকের মতো করে। এই অঞ্চলের খেলোয়াড়রা কোচদের সম্মান দেয়। এজন্য এখানে বেশি ভালো লাগে। কাজ করে আরাম পাই।

আরও পড়ুন

×