বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনায় অনড় অবস্থান নিয়েছে: আইসিসি
ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপে অনিশ্চিত বাংলাদেশ।
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০৬ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:২৪
আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ঘটনায় বাংলাদেশ ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলেছে। আইপিএল ভারতের একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা মাত্র। অথচ ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার অনড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিসির পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ ও বৈঠক করেও বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বাকপ খেলতে রাজি করাতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশের দাবি মেনে ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় এবং এভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ভেন্যু পরিবর্তন করলে তা ভবিষ্যতে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও নায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
আইসিসি বলেছে, আইসিসি আজ নিশ্চিত করছে যে, আগামী টি-২০ বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময় ও সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়াবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই হবে। বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। যার প্রেক্ষিতে আইসিসি এক বোর্ড সভা ডেকেছিল। সেখানে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, স্বাধীন পর্যালোচনাসহ সব ধরনের দিক বিবেচনা করেছে। সব রিপোর্টই নির্দেশ করে যে, ভারতের টুর্নামেন্ট খেলতে কোন ভেন্যুতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য কোন হুমকি নেই। যে কারণে টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি এসে কোন ধরনের পরিবর্তন কার্যকরী নয়। বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকায় সূচিতে অহেতুক পরিবর্তন আনলে আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং বৈশ্বিক কাউন্সিল হিসেবে নায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে আইসিসি এক মুখপাত্র বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবির সঙ্গে আইসিসি ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলাপে যুক্ত ছিল। এর স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল- বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে রাজী করানো। এই সময়ে, আইসিসি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, সরকারের পর্যায় থেকে ভেন্যুর শতভাগ নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। আয়োজকরা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সকল নথি দাখিল করেছে, যা থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য কোন হুমকি নেই।
এতো চেষ্টার পরও, বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে। বারবার তাদের টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার পেছনে একজন ক্রিকেটারের একটি ঘরোয়া লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ পড়ার বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাকে যুক্ত করেছে। তাকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সঙ্গে টি-২০ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামো বা অংশগ্রহণের অন্য শর্তের কোন সম্পর্ক নেই।
আইসিসির ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণের আগে নিরাপত্তাসহ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সকল শর্তা যাচাই করেছে। যা অংশ নেওয়া ২০ দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে এমন কোনো তথ্য না থাকায় আইসিসি সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনে অক্ষম। এটি করলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। যা আইসিসির নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আইসিসি ক্রিকেটের বৈশ্বিক মান, বিশ্বাস ও সুরক্ষায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- বিষয় :
- টি-২০ বিশ্বকাপ
- বিসিবি
- আইসিসি
