ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেখ মেহেদীতে মুগ্ধ বাশার

শেখ মেহেদীতে মুগ্ধ বাশার
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩১

শেখ মেহেদীকে যখন বাংলাদেশ টি২০ দলের সহঅধিনায়ক করা হয়, তখন কোনো ধরনের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাই ছিল না তাঁর। জাতীয় দলে নিয়মিত না হওয়ায় দুই সিরিজ পর সহঅধিনায়কত্ব থেকেও বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। মেহেদীর জায়গায় জাতীয় টি২০ দলের সহঅধিনায়ক সাইফ হাসান। 

এই বিপিএলের পর মেহেদীকে হয়তো সহকারী ভূমিকায় থাকতে হবে না, অদূর ভবিষ্যতে অধিনায়ক করা হতে পারে। বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ফাইনালে তুলে নেতৃত্বের পরীক্ষায় পাস করে গেছেন তিনি। চট্টগ্রামের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার অধিনায়ক শেখ মেহেদীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা বলেন, মেহেদীর বলিষ্ঠ ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বের কারণে চট্টগ্রামের ফাইনালে উন্নীত হওয়া সহজ হয়েছে।

বিপিএল শুরুর আগে চট্টগ্রাম দলের অস্তিত্বে টান পড়েছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছিল না। টালমাটাল পরিস্থিতি থেকে চট্টগ্রাম দলের দায়িত্ব নেয় বিসিবি। নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহ করছে দলটির। কোচিং ও টিম ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন এনে ক্রিকেটারদের একাট্টা হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সেই সঙ্গে ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যাডাম রসিংটন যোগ দেওয়ায় দল হিসেবে দারুণ ক্রিকেট খেলে। সেই সময় অধিনায়ক শেখ মেহেদী দলটাকে আগলে রেখেছিলেন। ফিরতি লেগের শেষ দুটি ম্যাচ বাদ দিলে অসাধারণ খেলেছে তাঁর দল। 

কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের দৃষ্টিতে, ‘সে যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়, একদম সময়োপযোগী। কালকের ম্যাচে ওদের দুজন বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় চিন্তা করছিলাম একজন ডানহাতি বোলার বোলিং পেলে ভালো করবে। দেখলাম ও নিজে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও না নিলে আমাকে মাঠে বার্তা পাঠাতে হতো। সে যে ডিসিশনগুলো নেয়, এটা সময়োপযোগী এবং বোলিং হ্যান্ডলিং খুবই ভালো। ফিল্ডিং সেট করায় বুদ্ধিদীপ্ত। এক কথায়, সে আক্রমণাত্মক অধিনায়ক। আরেকটু স্থির হলে ভালো করবে।’ 

বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার চাপটা সহজে সামলেছেন শেখ মেহেদী, ‘আসলে এটা সহজ ছিল না নেতৃত্ব দেওয়া। কারণ, দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। একসঙ্গে খেলছে তারা। অধিনায়ক পারফর্ম না করলে বাকিদের কাছে থেকে গুরুত্ব পেত না। সে ভালো বোলিং এবং ব্যাটিং করায় বাকিরা সম্মানের জায়গায় রেখেছে। অধিনায়কত্ব করা সহজ হয়ে গেছে মেহেদীর জন্য।’

চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী ১১ ম্যাচ খেলে ১৫টি উইকেট শিকার করেন। বোলিং ইকোনমি ৬.৭২। টি২০ ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স। চট্টগ্রামের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন মেহেদীর, ‘তার ক্যাপ্টেন্সিতে ফাইনালে উঠেছে দল। অধিনায়ক হিসেবেও তাকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হলো। সক্রিয় অধিনায়ক মনে হয়েছে। নিজে বোলিং ভালো করছে, নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ফাইনালে নিয়ে গেছে। ওরে তো অনেক দিন আগে থেকে চিনি। ক্রিকেট নিয়ে চিন্তাভাবনা ভালো। তবে অধিনায়ক না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যায় না সে কেমন করবে। মাঠে এবং মাঠের বাইরে খুবই ভালো করছে মেহেদী। চিন্তাভাবনা খুবই ভালো।’ 

আরও পড়ুন

×