ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টিকে থাকার পথ খুঁজছেন বুলবুল

টিকে থাকার পথ খুঁজছেন বুলবুল
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৩ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৩

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিদেশযাত্রা মানেই এখন গরম খবর। তিনি কখন কোন দেশে গেলেন, এ তথ্য জানার জন্য উন্মুখ থাকেন সাংবাদিকরা। বিমানবন্দর প্রতিনিধির মাধ্যমে মুহূর্তে সে খবর বাইরেও চলে আসে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম গতকাল সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি চ্যানেল পর হওয়ার খবর বিমানে ওঠার আগেই সংবাদমাধ্যম জেনে গেছে। বিসিবি থেকেও সভাপতির অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যাত্রাবিরতিতে থাকার সময় বিসিবি সভাপতি হোয়াটসঅ্যাপে সমকালকে জানান, অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটিয়ে দেশে ফিরবেন তিনি।

বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হলেও বিবাদ লেগে আছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে মামলাও হয়েছিল উচ্চ আদালতে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সহসভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল ক্লাব সংগঠকদের পক্ষ থেকে। বিসিবির নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিএনপি সমর্থিত ক্রিকেট সংগঠকরা ঢাকা লিগ বয়কট করেছেন। আবাহনী, মোহামেডানসহ ৪৫টি ক্লাব ঢাকা লিগ বয়কট করেছে। বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ক্রিকেটারদেরও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। 

সভাপতি বুলবুলের বিরুদ্ধে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-কোয়াবের। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করায় ক্রীড়া সংগঠকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশীর্বাদপুষ্ট বিসিবির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করা হবে। আদালতের মাধ্যমেই সেটি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা। কারণ, সরকার ও আইসিসি বুলবুলের পক্ষে নেই বলে জানান বিসিবির একজন পরিচালক। তাই বলে বুলবুল বসে নেই। অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তিনি। বুলবুল বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে দেখা নেই। রোজার শুরুতে পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাই। কিছুদিন পর দেশে ফিরে পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে কাজ করতে হবে। টিভি সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করা, সিরিজ সফল করা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। শিগগিরই চলে আসব।’

দেশ ছাড়ার আগে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে একান্তে সভা করেছেন বুলবুল। বিসিবির একটি সূত্রে জানা গেছে, কোন কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একজন পরিচালক বলেন, ‘শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড সরকার হস্তক্ষেপ করায় নিষিদ্ধ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনাও গ্রহণ করেনি। এই বোর্ডও নির্বাচন করে এসেছে। আইসিসি, এসিসি বিষয়টি ভালো করেই তা জানে। আদলত নির্বাচন বাতিল করলে তা নাও মানতে পারে আইসিসি।’ তবে তিনি মনে করেন, সরকার চাইলে বিকল্প পথ খোলা থাকে। ‘আদালতের নির্দেশনা নিয়ে তিন মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করে নতুন নির্বাচন করা হতে পারে। এই বোর্ড থেকেও কয়েকজনকে পদত্যাগ করিয়ে ১০ জনকে বাই ইলেকশনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য পরিচালনা পর্ষদে থাকা দুজন সংসদ সদস্যের আত্মীয়কে কাজে লাগাতে চেষ্টা করা হবে।’ 

আলী আসগর লবি ক্রীড়ামন্ত্রী হলে সৈয়দ আশরাফুল হক সভাপতি হতে পারেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে বুলবুল-ফারুকদের ভয় আমিনুল হককে নিয়ে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হলেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হলে বিসিবি পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেবেন তিনি। কারণ, তিনি বিসিবির ৬ অক্টোবরের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে বুলবুলের জায়গায় সভাপতি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল হক, তামিম ইকবালের সঙ্গে ফারুক আহমেদও। বিসিবির বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ফারুক লবিং করছেন বলে একটি সূত্র জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×