ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টি২০ বিশ্বকাপের ত্রিমুকুট

টি২০ বিশ্বকাপের ত্রিমুকুট
×

ছবি- আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৫

সেবারও এমনই নীলাম্বরীর সাজে সেজেছিল আহমেদাবাদ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা হেরে সেই নীল হয়েছিল বিষাদের রং। গতকাল রোববার অবশ্য সেই মঞ্চ রঙিন হয়ে উঠেছিল ভারতের জয়ে। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের ত্রিমুকুট জিতল ভারত। ২০০৭ সালে ধোনি, ২০২৪-এ রোহিতের পর এদিন সূর্যকুমার যাদবের ভারত জিতল টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা। সেই সঙ্গে আহমেদাবাদের এই মোদির মাঠেও ‘শাপমোচন’ হলো তাদের। আর নিউজিল্যান্ড, পোড়া কপাল! গত ১১ বছরের পাঁচটি ফাইনালের একটিতেও শিরোপা জিততে পারল না কিউইরা। ডেইল স্টেইনের কথা মেনে নিলে আজ থেকে ‘চোকার্স’ অপবাদটা তাদেরই মাথা পেতে নিতে হবে।

আসলে এদিন সঞ্জু স্যামসনের ঝড়, অভিষেকের সাইক্লোন আর ইশান কিশানের তাণ্ডবে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছিল কিউইরা। তিন টপঅর্ডার মিলে রানের পাহাড় ছাপিয়ে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের হিমালয়ে পৌঁছে দিয়েছিল ভারতের রান। অবশ্য কিউইরা ভেবেছিল, ফিন অ্যালেন আর শেফার্টের মতো ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার’ সঙ্গে নিয়েই এই হিমালয় পাড়ি দেবে তারা! শূন্য রানে জীবন পেয়ে অ্যালেন তা কাজে লাগাতে পারেননি। যে রাচিনকে নিয়ে কিউইদের ভরসা ছিল, তিনিও ফিরেছেন ১ রানে। ৭২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর স্যান্টনার একাই যেন খালি পায়ে হিমালয় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন! শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রান তুলে তাদের দম ফুরিয়ে যায়।

এদিনের হাইভোল্টেজ ফাইনালে শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং পেয়েই যেন বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। প্রথম ওভারে ম্যাট হেনরির প্রথম পাঁচটি বল ডট দেওয়ার পর ছক্কার হাত খোলেন সঞ্জু। থামেন তিনি ৪৬ বলে ৮৯ রান করে। ঠান্ডা মাথায় আট ছক্কার তাণ্ডব চালান সঞ্জু। তবে নর্মদার পাড়ে ঝড়টি শুরু হয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারটি থেকেই। কিউই পেসার ডাফি আর ফার্গুসনকে পাড়ার বোলার বানিয়ে পরের তিন ওভারে ৬০ রান তুলে নেন সঞ্জু আর অভিষেক। অভিজ্ঞ সঞ্জু ঠান্ডা মাথায় দুর্দান্ত সব ফ্লিক খেলতে থাকেন। অন্যদিকে অভিষেক যেন তখন ‘তাজা গ্রেনেড’। পুরো আসরে প্রত্যাশা পূরণ না করার জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটান তিনি একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে। দুজনে এতটাই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন যে পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই ৯২ রান তুলে নেন, যা কিনা টি২০ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে কোনো ওপেনিং জুটি গড়তে পারেনি। আগের সেরাটা ছিল গত আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১ উইকেটে ৯২।

মাত্র ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যান অভিষেক।  এটাও টি২০ বিশ্বকাপ আসরের নকআউট ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বলে হাফ সেঞ্চুরি। তবে এতসবের মধ্যেও দুই কিউই স্পিনার রাচিন আর স্যান্টনার যা একটু সম্মান আদায় করে নিতে পেরেছিলেন। দুজনে মিলে মাত্র ১৫ ওভারেই দলের স্কোর দুইশ পার করে দেন। সে সময় এমনও মনে হয়েছিল, তিনশ ছাপিয়ে যেতে পারে তা। তবে ১৬তম ওভারে নিশামের দুটি সহজ-সরল ফুলটসে উইকেট দিয়ে আসেন স্যামসন, ইশান আর সূর্যকুমার। শেষ ওভারে শিভম দুবের ২৪ রান দিয়ে অবশেষে আড়াইশ পার করে ভারত। রেকর্ড বলে, এর আগে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৭৭। রেকর্ড এটাও বলে, ভারতের মতো এমন তিনবার এই ট্রফি কোনো দলই জিততে পারেনি। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের একটা ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হলো সূর্যকুমারদের। মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে ৩২১ করে টুর্নামেন্ট সেরা হলেন সঞ্জু স্যামসন।

আরও পড়ুন

×