ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিরিজ জয়ের ফয়সালা হোক রাজকোটেই

সিরিজ জয়ের ফয়সালা হোক রাজকোটেই
×

আলী সেকান্দার, রাজকোট থেকে

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:১৯

জাতীয় দলের সমর্থক তো দেশের সব মানুষই; তারপরও হাল-আমলের ক্রিকেটে টিভি ক্যামেরার সৌজন্যে কোনো কোনো সমর্থক বিশেষভাবে চেনামুখ হয়ে ওঠেন। রাজকোটে খেলা দেখতে আসা এমন দু'জন দর্শক বাংলাদেশের শোয়েব আলি আর ভারতের সুধীর। গতকাল সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজ নিজ দেশের অনুশীলন দেখতে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন তারা। কোন দল জিতবে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচটি- এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে চলছিল খুনসুটি। শোয়েব বললেন, ট্রফি নিতে এসেছি। সুধীরের জবাব, টুপি দিয়ে দেব; ট্রফিটা ভারতেই থাক। টি২০ সিরিজের ট্রফি নিয়ে দু'জনের এ এক মধুর টানাটানি খেলা। রাজকোটে আজ জিতলেই ট্রফি বাংলাদেশের। ভারত জিতলে ট্রফির মীমাংসা হবে নাগপুরের তৃতীয় টি২০-তে, যেখানে দুই দলের জন্যই সমান সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কথা- সুযোগ যেহেতু এসেছে, তখন আর দেরি করে লাভ কী। রাজকোট থেকে রাজার মতো বিদায় নিতে চান তারা। তবে প্রকৃতি বৈরী হলে এ উচ্ছ্বাস ও উত্তাপ ভেসে যাবে। কয়েক দিন ধরেই ঘূর্ণিঝড় 'মহা'র কথা শোনা গেছে। শেষ পর্যন্ত ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানলে এর প্রভাবে বৃষ্টিভেজা হবে রাজকোট। তাই ট্রফির টানাটানি ধরে রাখতে ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা করার পাশাপাশি দুই দলকেই নিয়মিত খোঁজ রাখতে হচ্ছে আবহাওয়া বিভাগে।


গত কয়েক দিনের মতো রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খেলা শুরু হবে, যে ম্যাচে টস জিতলে ফিল্ডিং নেওয়ার পরিকল্পনা বাংলাদেশের। দিল্লির মতো সৌরাষ্ট্রের ভেন্যুতেও রান তাড়া করে জিততে চান মাহমুদুল্লাহরা। আর সিরিজ নির্ধারণী এ ম্যাচে মানসিকভাবে এগিয়ে থেকে খেলতে পারছে বাংলাদেশ। কিছুতেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না টাইগাররা। ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের মুখে জয় ছাড়া কোনো কথা নেই। দলের ভেতর ও বাইরের স্লোগান- 'জয় এবং জয়'। কিঞ্চিৎ চাপে থাকা ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন, রাজকোটে তারাই জিতবেন। এতেই বোঝা যায়, ট্রফি নিয়ে টানাটানির রেস শুধু সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, রয়েছে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেও। রেসে এগিয়ে থাকা দলের নাম বাংলাদেশ। জয়ের পাল্লাও টাইগারদের দিকেই ভারী। কারণ, সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে তো তারাই।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজকোটের আবহাওয়া ছিল শুস্ক। মৃদুমন্দ বাতাসে সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের অনুশীলন বেশ উপভোগ্য ছিল ক্রিকেটারদের কাছে। গুজরাটের এ অঞ্চলের জল-হাওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণেই ব্যাটিং উইকেটে খেলা হবে। এ মাঠে আগে তিন সংস্করণের যে ছয়টি (টেস্ট দুটি, ওয়ানডে দুটি ও টি২০ দুটি) ম্যাচ হয়েছে, তাতেও রানের উইকেট ছিল। গতকাল উইকেট দেখার পর দুই দল থেকেই জানানো হয়, ব্যাটিং ট্র্যাক করা হয়েছে, যেখানে গড় ইনিংস স্কোর ১৭৫ রান। বাংলাদেশ দলের ভারতীয় ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর ক্রিকেটারদের ভেন্যু ও প্রতিপক্ষের সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে জানান, জিততে আরও বড় স্কোর করতে হবে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মতে, 'মাঠ অনেক বড়। বড় শট খেলা চ্যালেঞ্জিং। বাউন্ডারিতে বল পাঠাতে হলে কৌশলী হতে হবে।' পিচ বিশ্নেষণে স্পষ্ট, নিখাদ ব্যাটিং ট্র্যাকটিতে ইভেন বাউন্স আছে। বল বেশি ওঠে না। জোরের ওপর বল করতে গেলে মার খাওয়ার আশঙ্কা বেশি। রান চেক দিতে হবে ইয়র্কার ও স্লোয়ারে। স্লো ও ইয়র্কার এ দুটি দিয়েই আইপিএল মাতিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও আইপিএল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। মুস্তাফিজ তার অভিজ্ঞতা সতীর্থ পেস বোলারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। জিততে হলে দিল্লির মতো দ্বিতীয় টি২০-তেও বোলিং ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করতে হবে টাইগারদের। শফিউল ইসলামের দাবি, বোলিং ভালো করবেন তারা, 'গেমপ্ল্যানে বোলারদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা থাকে। সেটা মেনে বল করতে পারলে ভালো হবে। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, টিম রুলস মেনে সেটা করতে পারব।'

গত ম্যাচের একাদশ ধরে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে কোচ জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আজ বিকেলে উইকেট দেখার পর। শেষ পর্যন্ত একজন স্পিনার বাড়াতে হলে একজন পেস বোলার কমবে। দুই বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি ও তাইজুল ইসলামের যে কোনো একজনের কপাল খুলতে পারে। দৌড়ে খানিকটা এগিয়ে সাড়ে তিন বছর পর দলে আসা সানি। তা যে-ই খেলুক, ভারতের ওপর প্রভাব বিস্তার করার দারুণ একটা সুযোগ দেখছেন টাইগাররা। কোচিং স্টাফরাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ জিতবে। স্পিন বোলিং পরামর্শক কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি জানালেন, তারা জিততে চান এবং জিতবেন। রাসেল ডমিঙ্গোও সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকালেন। যে ভারতের বিপক্ষে খেলা, সে দেশের নাগরিক টাইগারদের ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন তো মাহমুদুল্লাহদের সিরিজ জিততে দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন। জাতীয় দলের শ্রীলংকান ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারানে খেলোয়াড়দের মতোই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

তবে স্বাগতিক শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কিছু ঘাটতি থাকলেও চ্যালেঞ্জ জানাতে ছাড়েনি। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা জানান, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শটস খেলতে পছন্দ করেন। দিল্লির স্লো অ্যান্ড লো উইকেটে সেটা সম্ভব হয়নি। রাজকোটের কন্ডিশন ব্যাটিংবান্ধব। বড় শটস খেলার অনুকূলে। আগে ব্যাটিং পেলে বড় স্কোর গড়ে সফরকারীদের চাপে ফেলতে চান তারা। সিরিজে সমতা আনতে অলআউট ক্রিকেট খেলার প্রতিজ্ঞাও নিয়েছে রোহিতের দল, 'আগের ম্যাচে ইউনিট হিসেবে খেলতে পারিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো খেলতে পারিনি। এ ম্যাচে সব ঠিকঠাকমতো করতে চাই এবং ম্যাচটা জিততে চাই।' পরে সংবাদ সম্মেলনে আসা টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছেন, 'ওরা মরিয়া হয়ে আছে, আমরাও কিন্তু মরিয়া হয়ে আছি। এটা কিন্তু অনেক বড় একটা সুযোগ আমাদের জন্য, আমাদের ক্রিকেটের জন্য। আমরা প্রথমবারের মতো ভারতে একটা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছি। যদি আমরা ভালো খেলে সিরিজটা জিততে পারি, আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে।'

সেই অর্জনের অপেক্ষায় দেশবাসী।

আরও পড়ুন

×