স্বপ্ন এবার অর্পিতাদের নিয়ে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৪ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪২
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছিল এএফসি নারী এশিয়ান কাপ। এক মাসের ব্যবধানে এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবার খেলতে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে থাইল্যান্ডের এই আসরটি জাতীয় দলের নয়, বয়সভিত্তিক। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে মাঠে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার খেলার অভিজ্ঞতাকে বড় পুঁজি হিসেবে নিচ্ছে পিটার বাটলারের দল। সিনিয়রদের পর বয়সভিত্তিক এই আসরে এবার অর্পিতা বিশ্বাসদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন সবাই। সেই স্বপ্ন পূরণে অনেক আগেই থাইল্যান্ডে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার মাঠে নামার অপেক্ষা। ইতিবাচক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলে নিজেদের ছাপ রেখে যেতে চান আফঈদা খন্দকার-সাগরিকারা। পাথুম থানির থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে বুধবার থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। ‘এ’ গ্রুপে আফঈদা-প্রীতিদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ চীন ও ভিয়েতনাম।
সিনিয়র পর্যায়ের মতো অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে খেলেও আছে বিশ্বকাপের টিকিট কাটার সুযোগ। এই আসরের সেরা চারটি দল আগামী সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ ফিফা নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্নটা দূরের বাতি। কারণ গ্রুপ ‘এ’তে চীন ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন। ২০০৪ সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল থাইল্যান্ড। সর্বশেষ তিন আসরে খেলেছে ভিয়েতনাম। বলা যায় এই গ্রুপে চার দলের মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে আনকোরা। প্রথমবার বয়সভিত্তিক এশিয়ান কাপে খেলা আফঈদা খন্দকারদের নিয়ে তাই স্বপ্ন দেখতে মানা বাংলাদেশ কোচের। বরং অস্ট্রেলিয়ায় অর্জন করা শিক্ষা থাইল্যান্ডে কাজে লাগাতে চান তিনি। আর প্রতিপক্ষের নাম শুনে ভড়কে না গিয়ে ইতিবাচক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলার আশা তাঁর, ‘আমি সবসময় এই তরুণীদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং অকৃত্রিম থাকার ওপর জোর দিয়েছি।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এএফসি এবং সাফের মান সম্পূর্ণ আলাদা। আমি জানি, আমি সবসময় এটি নিয়ে কথা বলি, তবে এএফসিই হলো সেই জায়গা, যেখানে আপনি খেলতে চাইবেন– সেটি সিনিয়র হোক বা অনূর্ধ্ব-২০ দলের টুর্নামেন্ট হোক। এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত এবং আমি শুধু আশা করি, মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে। আমার মনে হয়, সিনিয়র জাতীয় টুর্নামেন্টে তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’
সিনিয়র এশিয়ান কাপে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে আছেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, ডিফেন্ডার আফঈদা খাতুন, নবীরন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী, উমহেলা মারমা, মুনকী আক্তার, ফরোয়ার্ড সাগরিকা, সুরভী আকন্দ প্রীতি ও আলফি আক্তার। এই ফুটবলারদের অনেকে অবশ্য খেলার সুযোগ পাননি। তার পরও অস্ট্রেলিয়ায় দলের সঙ্গে থেকে অনেক কিছু শিখেছেন। সিনিয়র প্রতিযোগিতার মতো বয়সভিত্তিক আসরেও তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। ঋতুপর্ণা চাকমা-মনিকা চাকমারা অস্ট্রেলিয়ায় কোনো কিছুই পূরণ করতে পারেননি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই হেরেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার আসরের সেই ব্যর্থতার প্রসঙ্গও বাংলাদেশ কোচ বাটলার টেনেছেন মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমরা সিনিয়র এশিয়ান কাপ শেষ করে এখানে এসেছি। আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে, যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন এবং আমি আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হবে এবং তারা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিখতে পারবে। আমি অনূর্ধ্ব-২০ দলের ১০ থেকে ১২ জন তরুণ খেলোয়াড়কে সিনিয়র এশিয়ান কাপে নিয়েছিলাম; কারণ, তারা জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। আমরা ম্যাচগুলো হেরেছি ঠিকই, তবে এই যাত্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে।’
- বিষয় :
- ফুটবল
- এএফসি নারী এশিয়ান কাপ