ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপিএল ফিক্সিং

নিষিদ্ধ বিসিবির সাবেক পরিচালক

নিষিদ্ধ বিসিবির সাবেক পরিচালক
×

মোখলেসুর রহমান শামীম ও রাকিবুল ইসলাম সানি। অপর অভিযুক্তের নাম জাকির হোসেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৮

বিপিএলে ম্যাচ পাতানো ও জুয়াবাণিজ্যের দাগ এর আগেও লেগেছিল। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের নামও উঠে এসেছিল। তবে এবার রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায়। বিপিএলের ফিক্সিং ও দুর্নীতি তদন্তে ফেঁসে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীম। তাঁর সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি এবং বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ পেয়েছে বিসিবি। গেলোবারের বিপিএল ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, জুয়া ও দুর্নীতি নিয়ে অ্যালেক্স মার্শালের করা তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে বিসিবিতে। সেখানে মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি কোড অব কন্ডাক্টের চারটি ধারা, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারা এবং রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি ধারা ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি। এই তিনজনকেই তৎক্ষণাৎ ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৪ দিনের মধ্যে বিসিবির এই বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন তারা। এরপরই তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিবি।

অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান শামীম ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের একজন প্রভাবশালী পরিচালক। তিনি সেবার বিপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বারোতম বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল ও সার্বিক আসর তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ আছে, বিপিএলের সিলেট পর্ব চলাকালীন ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ দলের ম্যাচগুলোকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও ফিক্সিং করার পরিকল্পনা এবং ফিক্সারদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের একাধিক কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। যদিও এই ব্যাপারটি বিসিবি তাদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ২.১.১ ধারায় আসরের কোনো ম্যাচ বা একাধিক ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয় ফিক্স করা, অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা কিংবা ফিক্সিং বা অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়াও তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক বা প্রমাণের ভিত্তি হতে পারে এমন কোনো যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করার মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে কমিটি। 

অভিযুক্ত আরেক সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানির বিপক্ষে তিনটি ধারা ভঙের অভিযোগ আনা হয়েছে। বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব সানির বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর সেটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে অযথা বিলম্ব না করে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়ে পরিচালিত তদন্তে যথার্থ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষে বিসিবি’র অ্যান্টি-করাপশন কোড অব কনডাক্ট অনুযায়ী, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং এর পাশাপাশি মোটা আর্থিক জরিমানা করার নিয়ম রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রা বিবেচনা করে ১ থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়ার বিধান আছে। এর আগে দুর্নীতি তদন্তে ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনের তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে বিপিএলের বিভিন্ন ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়। সেই সব ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তি পেয়েছেন ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

×