ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’!

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’!
×

ইনজুরি নাটক করায় ইমাম-উল হককে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৫

ক্রিকেট ইতিহাসে কখনও কি এমন হয়েছে– সিরিজের মাঝখানে কোচ ছাঁটাই, সাত খেলোয়াড়কে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া এবং নতুন সাতজনকে উড়িয়ে আনা? এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটাই করেছে ইংল্যান্ড সফররত পাকিস্তান দল। আর সিরিজের মাঝখানে এভাবে দল উলটপালট করার প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মিসবাহ-উল হক। 

তবে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ জানতে পেরেছে, মিসবাহর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সাবেক এ অধিনায়ক অবশ্য এসবে তোয়াক্কা করছেন না। একই সঙ্গে তিনি লাহোরে অবস্থিত পিসিবির জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। এ বোর্ডের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না বলে ঘনিষ্ঠজনদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মিসবাহ। 

তিন টেস্টের সিরিজে ২-০তে পিছিয়ে পড়ার পর, বিশেষ করে লর্ডসে ১৯৪ রানে হারার পর পিসিবি ইংল্যান্ড সফরের দল থেকে সাত খেলোয়াড়কে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সে সঙ্গে টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন মাইক হেসন, আর বোলিং কোচ থাকবেন অ্যাশলে নফ। বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া সাত ক্রিকেটার হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল হক, সালমান আগা, আলি উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ। তাদের বদলে ডাকা সাতজনের মধ্যে কেবল সাইম আইয়ুব ৮ টেস্ট ও আবদুল্লাহ ফজল ২ টেস্ট খেলেছন। আরাফাত মিনহাস ৩টি ওয়ানডে ও ৪টি টি২০ খেললেও টেস্টে খেলেননি। মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজাউল্লা এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাননি। 

মোহাম্মদ রিজওয়ান যে বাদ পড়তে পারেন, সে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। তাই বলে এভাবে  বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টা আঁচ করা যায়নি। সালমান আগা তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরের টেস্টে বাদ, এবার একেবারে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। সবচেয়ে দুর্ভাগা হলেন স্পিনার আলি উসমান। মাত্র কদিন আগে উইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিনিদাদে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এরপর চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলির পেসবান্ধব পিচে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। কিন্তু লর্ডস টেস্ট ভালো না করায় দেশের বিমানে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

বাড়ি পাঠানোদের মধ্যে ইমাম-উল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। ফিল্ডিংয়ের সময় পায়ে চোট পেয়ে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি বাঁহাতি এ ওপেনার। পাকিস্তানের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইমাম নাকি চোট পাননি। লর্ডসের কঠিন পিচে ব্যাটিং এড়াতেই চোটের নাটক করেছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডেও নাকি একই কাজ করেছিলেন। গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন বলে দাবি করলেও স্ক্যানে কিছু পাওয়া যায়নি। ওই দিন চিকিৎসকদের সামনে খুঁড়িয়ে হাঁটলেও সন্ধ্যায় ঠিকই ৫০০ মিটার হেঁটে ইফতারের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁকে শাস্তি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন বেঁচে গেলেও এবার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ইমাম।

আরও পড়ুন

×