ক্রিকেটারদের প্রাণের লিগ শুরু
ছবি- বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১৩:৩৮ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ | ১৩:৪৫
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) থাকে উৎসবের বাতাবরণ। ক্রিকেটারদের কাছে প্রাণের লিগ। উৎসবের মোড়কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ থাকে। ক্লাবে ক্লাবে মর্যাদার লড়াই থেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসন করে নিয়েছে ডিপিএল। ১২ দলে ২০০ জনের বেশি ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ বিশালতা প্রকাশ করে। এই লিগ ঘিরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে বলে দাবি ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের। কলেবরে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট লিগের ৩৭তম আসর মাঠে গড়াচ্ছে আজ।
মোহামেডানে তারার মেলা: রোল অব অনার ঠিক থাকলে মোহামেডান শেষবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জিতেছিল ২০০৯-১০ মৌসুমে। পরের ১৫ বছর আবাহনী লিমিটেডের ছায়া হয়ে থাকতে হয়েছে বেশির ভাগ সময়। আর্থিক অনটনে বেশির ভাগ সময় চ্যাম্পিয়ন দল গড়া হয়নি বিএনপিঘেঁষা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির। দুই বছর ধরে মোহামেডান মোটামুটি ভালো দল গড়েও শিরোপা জিততে পারেনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী নিজেদের খারাপ সময়েও হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছে। অথচ ভালো দল গড়েও গত দুই মৌসুম ধরে রানার্সআপ ছিল মোহামেডান। এবার দলবদলের মাঠে টাকার ‘বস্তা’ নিয়ে নেমেছিল তারা। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে ভালো সম্মানীতে। সাদা বলের ক্রিকেটে সেরা ছন্দে থাকা তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে মোহামেডান আজ লিগের প্রথম রাউন্ডে নবাগত সিটি ক্লাবের মুখোমুখি হবে বিকেএসপিতে।
জাতীয় দলের এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার লিগের শুরুটা ভালো করতে চান। তাঁর মতে, ‘শুরুটা ভালো হলে দল উজ্জীবিত থাকে। বাকি পথচলা কিছুটা সহজ হয়। এবার খুব ভালো একটি দল হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে পুরো টানা ভালো খেলতে হবে।’ এনামুল হক বিজয়, পারভেজ হোসেন ইমন, ইয়াসির আলী চৌধুরী, রিশাদ হোসেন, আফিফ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, রিপন মণ্ডল, নাঈম শেখ, তাসকিন আহমেদ, মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরীর মতো তারকা ক্রিকেটার আছেন মোহামেডানে।
আবাহনীর কান্ডারি মোসাদ্দেক: মোহামেডানের বুলবুল, বিমানের ফারুক, আবাহনীর আকরাম– একসময়ে দেশের তারকা ক্রিকেটাররা ক্লাবের নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা থাকেনি সাকিব-তামিমদের সময়ে। পঞ্চপাণ্ডবের কাউকেই টানা পাঁচ বছর কোনো এক ক্লাবে খেলতে দেখা যায়নি। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ১৪ বছর ধরে আকাশি-নীল দলে খেলছেন ময়মনসিংহের এই অলরাউন্ডার। ক্লাবের খারাপ সময়েও ছেড়ে যাননি তিনি। মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে ২৪ বারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী মাঠে নামছে আজ। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে নবাগত ঢাকা লিওপার্ডসের মুখোমুখি হবেন মোসাদ্দেকরা।
এই অলরাউন্ডারের মতে এবারও চ্যাম্পিয়ন রেসে থাকার মতো দল গড়েছে আবাহনী, ‘আমাদের দলটি যথেষ্ট ভালো। অভিজ্ঞ ও নবাগতদের মিশেল একটি দল। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে প্রথম ম্যাচ থেকে ভালো করা সম্ভব।’ প্রতিপক্ষ লিওপার্ডসকে সম্মান করে তিনি বলেন, ‘লিওপার্ডসের অনেকেই গতবার আমাদের সঙ্গে খেলেছে। খুব বেশি তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও লিগে ভালো করার মতো সক্ষমতা আছে। তাদের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে আমাদের।’
প্রাইম ব্যাংক স্পোর্টিং তৃতীয় শক্তি: প্রতিবার তারকায় ঠাসা দল গড়েও শিরোপা রেসে থাকতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। বেশির ভাগ সময় ক্লাব রাজনীতির শিকার হতে হয়েছে। সেই চক্রান্তকারীরা পলাতক হলেও প্রাইম ব্যাংক বড় দল গড়েনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছাড়া খুব বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই দলে। লিগের উদ্বোধনী দিনে প্রাইম ব্যাংক বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হবে। দুই ব্যাংকের লড়াইয়ের দিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এই দুই দলের ম্যাচটি হবে ঢাকার ইউল্যাব মাঠে। লিজন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে খেলবে রূপগঞ্জ টাইগার্স, ক্রিকেটার্স একাডেমিতে। পিকেএসপিতে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
প্রথমবার ছয় ভেন্যু: প্রথমবারের মতো ছয়টি মাঠে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ডিপিএলের প্রতিটি রাউন্ড। এতে করে ক্লাবগুলোর ম্যাচ ছেড়ে দেওয়া বা টেকনিক্যালি পাতানোর সুযোগ কিছুটা হলেও কমবে। এ ছাড়া এবার প্রতিটি ভেন্যুতে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকবে। ড্রেসিংরুমে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর ক্লাব কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এবারের লিগে বাধা হতে পারে বৃষ্টি। কার্টেল ওভারের ম্যাচ হতে পারে বৃষ্টি হলে।
তিন কোটি টাকার অনুদান: আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সময়ই ডিপিএলে ক্লাব অনুদান ১৫ লাখ থেকে ২৫ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। লিগ আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় সেটি কার্যকর করতে পারেনি। তামিম ইকবাল অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়ে সেটি বাস্তবায়ন করেন। সেক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে ১২ ক্লাবকে তিন কোটি টাকা দিতে হবে বিসিবি থেকে। এ ছাড়া পরিবহন, পোশাক মিলিয়ে আরও দুই লাখ টাকা করে পাবে। প্রতিটি ক্লাবকে ২৭ লাখ টাকা করে দেবে বোর্ড। তিন কোটি ২৪ লাখ টাকা বিসিবি থেকে নেবে ক্লাবগুলো। এ ছাড়া লিগ পরিচালনার করতে আরও দুই কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বিসিবির।
