টেলিভিশনের শেষ ভরসা ফিফা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১২:২৭
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে শুরু হবে এবারের আসর। অথচ এখনও ঠিক হয়নি বাংলাদেশের কোন টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচ। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশে খেলা দেখানোর মিডিয়া স্বত্ব কিনে নিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবুক পিটিই লিমিটেড’। এখন সেই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তা বিক্রি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য হাঁকাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যা কিনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিসহ বেসরকারি চ্যানেল– টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভির পক্ষেও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় কি তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারবেন না এবারের বিশ্বকাপ?
একেবারে আশা ছাড়ছেন না টি স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভীর উল ইসলাম। ‘সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠানটি একটা অবাস্তব দাম হাঁকিয়েছে, যেটা গ্রহণ করা অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে ফিফা যদি পুনর্বিবেচনা করে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য কমিয়ে দেয়, তাহলেই কেবল বিশ্বকাপের খেলা দেখানো সম্ভব।’ তাঁর আশাবাদী হওয়ার কারণ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে উত্তর কোরিয়া আর ইরান ছাড়া এখনও পর্যন্ত কোনো দেশে ফুটবলের এই সর্ববৃহৎ আসর কখনও ব্ল্যাকআউট হয়নি। দুটি দেশেই রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা হয়নি।
গোপাল পাডিয়ার মালিকানাধীন সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠাটির দাবি, তারা ৭ দশমিক ২১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) স্বত্ব অধিগ্রহণ করেছে। তারা বিটিভির কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে আরও আট মিলিয়ন ডলার লাভ করতে চেয়েছে।
সূত্রের খবর, তারা এমনটা দাবি করলেও এখনও ফিফার সঙ্গে চুক্তি করা অর্থ দেয়নি। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ব্ল্যাক লিস্ট’ করতে পারে ফিফা। একই সমস্যা হয়েছে ভারত এবং চীনেও। সেখানেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব বিক্রি করে বিপাকে পড়েছে ফিফা। এখনও তৃতীয় পক্ষ এতে বেশি দাম হাঁকাচ্ছে ভারত ও চীনের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে। যে কারণে তারাও কেউ কিনতে পারেনি। সর্বশেষ খবর, তৃতীয় সেই পক্ষ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে না পারায় ফিফার কাছে সারেন্ডার করেছে। সে ক্ষেত্রে ফিফা এখন ভারতীয় চ্যানেল জি স্টার এবং অন্য চ্যানেলগুলোর কাছে সরাসরি সম্প্রচার বিক্রি করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবুক পিটিই লিমিটেডও তিন দফা সময় নিয়েও ফিফাকে প্রাথমিক অর্থ দিতে পারেনি। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধেও ফিফা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছে বলে জানান দেশে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তিনি আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত ফিফার মার্কেটিং বিভাগ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যাপারটি নিশ্চিত করবে।
কিন্তু প্রতিবার যেখানে সহজেই বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারেন বাংলাদেশি দর্শকরা, এবার সেখানে অনিশ্চয়তা কেন? খোঁজ নিয়ে যায়, গত বিশ্বকাপে বাফুফের একটি প্রভাবশালী চক্র বিশ্বকাপের বাজার অতিমূল্যায়ন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে বিটিভিকে বাধ্য করেছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকায় বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনতে। তখন বিটিভিকে বলা হয়েছিল, যে টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের জন্য আলাদা লাইসেন্স প্রয়োজন। অথচ অতীতে বিশ্বকাপগুলোতে বিটিভি বড় অঙ্কের অর্থ ছাড়াই সম্প্রচার সুবিধা পেয়েছিল।
কাতার বিশ্বকাপে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিমোর পিটিই লিমিটেড’ স্বত্ব কিনেছিল, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে আর্থিক সমন্বয়ের কাজ করেছিল তখন বাফুফের তৎকালীন সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের ‘তমা কনস্ট্রাকশন’। এই প্রতিষ্ঠানটিই মূলত বিটিভিকে প্ররোচিত করেছিল সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে। সেই সময় বিটিভির অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বাজারমূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়। যার প্রভাব পড়েছে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বত্ব নির্ধারণে। বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপনের বাজার বিশ্লেষণ করে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকতা জানান, সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য হওয়া উচিত।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- বিশ্বকাপ ফুটবল
