ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

ওয়েসলির চোটে ব্রাজিল শিবিরে দুশ্চিন্তা

ওয়েসলির চোটে ব্রাজিল শিবিরে দুশ্চিন্তা
×

 স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:৩৫

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্যতম দ্রুতগতির ফুটবলার ওয়েসলি। রোমার রাইট-ব্যাকের এই গতি কাজে লাগানোর জন্যই কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু গত শনিবার মিসরের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়েছেন ওয়েসলি। তাঁর চোটে ব্রাজিল কোচের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবশ্য এখনও ওয়েসলিকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল রোববার তাঁর টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার কথা। এর পরই সিদ্ধান্ত হবে।

তবে রিপোর্ট না পেলেও বাহ্যিক যে লক্ষণ দেখা গেছে, তাতে ভয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের ১৬ মিনিটে পাকেতার একটি পাস ধরতে গিয়ে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে ওয়েসলির। এরপরই  মাঠ ছেড়ে যান ২২ বছর বয়সী এ উইং-ব্যাক। ডাগ আউটে যাওয়ার পর তাঁর বাঁ উরুতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়। বদলি হিসেবে নামেন দানিলো। প্রথমার্ধের বাকি সময়টা ডাগ আউটে বসে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে তাঁকে। শুশ্রূষা করা ডাক্তার রদ্রিগো লাসমারের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল টিমের সদস্যরা তো বটেই, সতীর্থরাও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁর কান্না থামাতে পারেননি।

পুরোটা সময় তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা গেছে তাঁকে। ব্যথার কারণে এভাবে কাঁদার কথা নয়, সম্ভবত বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাতেই নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না তরুণ এ ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধ শেষে খোঁড়াতে খোঁড়াতে লকার রুমে যান ওয়েসলি। তখনও সতীর্থদের তাঁকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। এরপর আর মাঠে ফেরেননি। লকার রুমেই চিকিৎসা নিয়েছেন। ম্যাচের পর ব্রাজিল জাতীয় দলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো ওয়েসলির চোটের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। টেস্টের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানানো হবে। আমরা আশা করছি, গুরুতর কিছু হবে না এবং সে আমাদের সঙ্গেই বিশ্বকাপ অভিযানে থাকবে। তাঁর প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের দিন পাঁচেক আগে এমন চোটে তো দুশ্চিন্তা হবেই।’ ব্রাজিল কোচও বিষয়টা নিয়ে শঙ্কায় আছেন, ‘ওয়েসলির মাংসপেশিতে সমস্যা। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। আমার মনে হয়, গুরুতর কিছু হয়নি। সে নির্ধারিত সময়েই ফিট হয়ে যাবে এবং বিশ্বকাপে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আর সে যদি ছিটকেই যায়, তাহলে আমাদের অন্য কাউকে খুঁজে নিতে হবে। আমাদের হাতে যথেষ্ট ভালো বিকল্প রয়েছে। তবে সবকিছু গুছিয়ে আনার পর কেউ চোটে পড়াটা অবশ্যই ধাক্কা।’ ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডের দানিলোর পাশাপাশি ইবানেজেরও রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার ২৪ ঘণ্টা আগে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে পারবে ব্রাজিল। তবে সে পরিবর্তনটা ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকাদের মধ্য থেকে করতে হবে। ওই তালিকায় রাইট-ব্যাক হিসেবে আছেন বোতাফোগোর ভিতিনহো ও ভাস্কোর পাওলো হেনরিক।  

আরও পড়ুন

×