যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে
হলিউড থ্রিলারের অপেক্ষা
সঞ্জয় সাহা পিয়াল, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:০৫
শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল এ বুঝি বিশ্বকাপ ফুটবলেরই কোনো উন্মাদনা, ম্যাডিসন স্কয়ারে হাজারো তরুণ-তরুণীর রাতজাগা পার্টি। ভুলটা ভাঙিয়ে দিলেন সঙ্গী এক প্রবাসী বাংলাদেশি। ‘এটি ফুটবল নয় বাস্কেট বলের পাগলামি। ফাইনালে ৩-১ এ এগিয়ে গেছে নিউইয়র্ক নিকস। এবার ওদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।’ কিন্তু ম্যাচ তো শেষ হলো মাত্রই, সবাই স্টেডিয়ামের বাইরে এসে স্লোগান দিচ্ছে যে। এখানেও আছে ভ্রান্তি–যুক্তরাষ্ট্রের এই এনবিএ (ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন) ফাইনাল হয় সাত ম্যাচের সিরিজ নিয়ে। আর ২৭ বছর পর নিউইয়র্ক নিকস শিরোপা জিততে যাচ্ছে। পুরো নিউইয়র্ক এখন বুঁদ হয়ে আছে বাস্কেটবলের ঘোরে। সেখানে ফুটবল খুঁজতে গেলে হলিউডের খবর নিতে হবে! কেননা সেখানে লস অ্যাঞ্জেলেসে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৭টায়) সোফাই স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
আর কে না জানে লস অ্যাঞ্জেলেস মানেই তো সেই পাহাড়ের গায়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘হলিউড’। বিশ্বকাপে নিজেদের দেশে উদ্বোধনে তাই হলিউডও থাকছে গ্ল্যামার নিয়ে। উইল ফেরেল, ইভা লংগেরিয়া, ল্যান্স ব্যাসের মতো তারকাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে ফিফার মিডিয়া উইং। মেক্সিকোতে শাকিরা আগুন পারফর্মের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় সেই দায়িত্ব পড়েছে কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা, টাইলার মতো শিল্পীদের। আমেরিকার এই উত্তর আর দক্ষিণের লড়াইয়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে প্যারাগুয়ে। তাদের ৪১ র্যাঙ্কিংয়ের সামনে যুক্তরাষ্ট্র (১৭) বেশ ভালো। তবে কিনা প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের শারীরিক শক্তি দিয়ে মাঠে দখলের একটা বদনাম আছে। তা ছাড়া উদ্বোধনী ম্যাচ হলেও এদিন মাঠে আসার কোনো পরিকল্পনা রাখেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই যা লড়াই তা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদেরই করতে হবে। রবিনসন, রিম, পুলিসিকদের একেকজনকে টম ক্রুজ আর রকদের মতোই লড়তে হবে।
যদিও দুই দলের ইতিহাস বলে প্যারাগুয়ের চেয়ে সবসময়ই বেশ এগিয়ে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র। ৯ বারের দেখায় পাঁচবারই জিতেছে মার্কিনিরা। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেট প্যাটেনাইড এই প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই। সেবার সেমিফাইনালেও উঠেছিল তারা। তবে গত ৯ আসরে আটবার অংশ নিয়ে শুধু একবার শেষ ষোলোতে গেছে তারা। তবে এবার দলটি বেশ ভালো। ফ্রান্স-ইতালি মিলিয়ে দলের অন্তত সাতজন ইউরোপে খেলেন। সেখানে প্যারাগুয়েকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং তাদের দলের চার ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই মেসিদের বিপক্ষে লিগ খেলেন। ইউরোপীয় দর্শনের ধার ধারেন না তারা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১৮ ম্যাচে মাত্র ১০টি গোল হজম করেছে দলটি। রক্ষণে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা একেকজন রীতিমতো আতঙ্কের নাম। ড্যামিয়ান, কুবাস, গুস্তাভোদের শরীরে যখন লাতিন রক্ত, তখন ছেড়ে দেওয়ার পাত্র তারা নন। তা সে গ্যালারিতে যতই হলিউডি মেজাজ থাকুক না কেন।
এই গ্রুপে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে ট্রাম্পের দেশের ছেলেরা চাইবে আজ শুধু জয়ই নয়, গোল ব্যবধানেও কিছুটা এগিয়ে থাকতে। কেননা এই গ্রুপ থেকে তুরস্কই ফেভারিট, এরপর কিন্তু বাকি দলগুলোর জন্য জানালা খোলা। তবে মার্কিন মুল্লুকে উদ্বোধনী এই ম্যাচে ইয়াংকসদের কেউ নন থ্রিলার ম্যাচে আসল ‘ডন’ কিন্তু একজন আর্জেন্টাইন। ডাগ আউটে বসেই যিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরেসিও পচেত্তিনো। নামটি ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে বেশ পরিচিত। টটেনহাম, পিএসজি, এস্পানিওলের মতো দলগুলোকে সাফল্য এনে দিয়েই বছর দুই আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিটা নিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাগতিকদের অন্তত নকআউট পর্বে পৌঁছে দেবেন।
বিশ্বকাপের গা গরমের ম্যাচে আফ্রিকান দল সেনেগালকে হারিয়ে পচেত্তিনোর ছেলেরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছে মাঠে গা জোয়ারি দেখালে তারাও পাল্টা মারের কৌশল জানে। তা ছাড়া ভাগ্যও বলে স্বাগতিক হলে কপাল খোলে মার্কিনিদের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে গিয়ে যার প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে লাতিন কাঁপিয়ে ফেললেও বিশ্বকাপের মঞ্চ তাদের কাছে বরাবরই কাঁটায় ভরা। ৯ বার বিশ্বকাপে এসে আটবারই তারা প্রথম ম্যাচে হেরেছে। এসব নিয়েই নিউইয়র্কের বেটিং সাইটগুলো আজ লস অ্যাঞ্জেলেসের তারকাখচিত গ্যালারির সঙ্গেই থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো সাইটে ম্যাচের ফলাফল হবে ২-০, কোনো সাইটে ২-১। বাস্কেটবলের নিউইয়র্ক নিকসের মতোই সবার ধারণা বিশ্বকাপের হলিউডের সেটে লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন মিলিয়ে দারুণ একটা চিত্রনাট্য তৈরি হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- বিশ্বকাপ ফুটবল
