কানাডা-বসনিয়ার চোখ ইতিহাসে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ১১:০৩ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ১১:২৮
খাতাটা শূন্য। ভরে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। কারণ বিশ্বকাপ ঘিরে কানাডায় যা ঘটছে, সবই ইতিহাস। যৌথভাবে হলেও প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাগতিক তারা। বাংলাদেশ সময় (শুক্রবার) রাত ১টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের ‘ও কানাডা। আওয়ার হোম…’ বাজলে যেমন ইতিহাস হবে। গোল দিলে কিংবা খেলেও উঠে যাবে পাতায়। আর ঘরের মাঠে কানাডা জয় পেলে তো কথাই নেই। কারণ আগের দুই বিশ্বকাপের ছয় ম্যাচে কোনো জয় পায়নি লেস রোগেসরা। এমনকি ড্রও করতে পারেনি।
বিশ্বকাপে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসের খাতায়ও লেখা নেই তেমন কিছু। ২০১৪ সালে একবারই তারা বিশ্বমঞ্চে খেলেছে। একটা জয়ই সান্ত্বনা হয়ে আছে। তবে এবার বড় এক ইতিহাসের জন্ম দিয়ে মূল মঞ্চে পা রেখেছে। ইতালিকে বিদায় করে এসেছে বিশ্বকাপে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩০ নম্বরে আছে কানাডা। বসনিয়ার পিছিয়ে দ্বিগুণ (৬৪)। ঘরের মাঠে খেলবে কানাডা। ৪৫ হাজার দর্শকের গ্যালারি থেকে কানাডিয়ান ভক্তদের ‘আওয়ার গেম অন’ স্লোগান উঠবে। সব মিলিয়ে ম্যাচের ফেভারিট জেসে মার্সের দল। তবে ইনজুরির ধাক্কায় বেশ ব্যাকফুটেও তিনি। ইনজুরিতে ফ্রান্স ক্লাব নিসে খেলা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ময়েস বম্বিতোর টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেছে। বায়ার্ন মিউনিখের সেরা তারকা আলফনসো ডেভিসের খেলা এখনও নিশ্চিত নয়। শঙ্কা আছে ডিফেন্ডার রিচি লারিয়াকে নিয়েও। এসব ধাক্কা সামলে ইউরোপের প্রতিনিধি বসনিয়াকে হারানো কঠিন হবে স্বাগতিকদের জন্য।
ওই হিসেবে বসনিয়া ফিট এবং অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। দলটিতে তরুণ কিছু ফুটবলার থাকলেও কোচ সার্জেস বার্বারেজের মূল ভরসা ম্যানসিটি, রোমা ও ইন্টার মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার ৪০ বছরের এডেন জেকো। সঙ্গে স্টুটগার্টে খেলা ২৮ বছরের আর্মেডিন ডেমিরোভিক থাকবেন ফ্রন্ট লাইনের নেতৃত্বে। নিজেদের সেরা দিনে কানাডার মতো প্রতিপক্ষকে যারা গুঁড়িয়ে দিতে পারেন। ইউরোপের দল হওয়ায় বসনিয়ান ফুটবলের ধরন-কৌশল কানাডার চেয়ে উন্নত। দীর্ঘদেহী ফুটবলাররা বাতাসের বলে কর্তৃত্ব করবেন।
ফুটবল পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অপ্টা বলছে, জয়ের পাল্লা কানাডার দিকেই ভারী। ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। দুই দলই এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলবে। কারণ এই ম্যাচের জয়ই কানাডা কিংবা বসনিয়ার জন্য প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে হারের ভয়ও মাথায় রাখবে দুই দল।
কারণ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে হার মানে আসর থেকে অনেকটা ছিটকে যাওয়া। কানাডার ডিফেন্ডার ডি ফগিরোলেস তাই সুযোগটা নষ্ট করতে চান না, ‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, সারা জীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি। আমরা খেলতে মুখিয়ে আছি এবং অবশ্যই এই সুযোগ নষ্ট করা যাবে না।’
কানাডা কোচ জেসে মার্স শিষ্যদের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে দর্শকের চাপ মাথায় নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলার বার্তা দিয়েছেন, ‘মানসিক দিক থেকে সমুন্নত থাকো। মাথায় রেখো, দলটা ভক্তদেরও। কানাডা অভিবাসী সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় দেশ। সবাইকে এক পতাকার নিচে আনতে খেলো। বসনিয়াকে সম্মান করো। তারা কঠিন মানসিকতার দল। ওরা কিন্তু ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপে এসেছে।’
