কৌতুক ভাবা প্রস্তাবেই বিশ্বকাপে পিকো
বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের সামনে ‘দেয়াল’ হয়ে দাঁড়ান পিকো লোপেস
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১০:২৯
আয়ারল্যান্ডের শামরক রোভার্স ক্লাবে পিকো লোপেসের খেলার সুযোগটা এসেছিল আকস্মিকভাবেই। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার আগে ব্যাংকার ছিলেন কেপ ভার্দের এই ডিফেন্ডার। ঘটনাক্রমে পুরো দস্তুর ফুটবলার হওয়া পিকো যখন কেপ ভার্দের হয়ে খেলার প্রস্তাব পান, প্রথমে নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি। জাতীয় দলের কোচের প্রস্তাবকে কৌতুক ভেবে সাড়া দিতেও দীর্ঘ সময় নেন তিনি। আর এখন কিনা দুর্দান্ত পারফম্যান্সে বিশ্বকাপে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন এই ডিফেন্ডার!
সোমবার বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের সামনে ‘দেয়াল’ হয়ে দাঁড়ান পিকো। সঙ্গে গোলরক্ষক ভোজিনহার নৈপুণ্যে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকান দ্বীপ দেশটি। যে ম্যাচটি পিকোর স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি গর্বের উপলক্ষও এনে দিয়েছে। এই ম্যাচের পর থেকে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার কেপ ভার্দের এই ফুটবলার।
১৯৯২ সালের ১৭ জুন কেপ ভার্দিয়ান বাবা কার্লোস এবং আইরিশ মা জুডির ঘর আলো করেন পিকো। আয়ারল্যান্ডেই বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনায় মনোযোগী পিকোর ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ছিল। যে কারণে একটি আইরিশ ব্যাংকে চাকরির পাশাপাশি আইরিশ প্রিমিয়ার লিগের দল বোহেমিয়ানে খেলতেন। তাঁর পারফরম্যান্স নজর কাড়ে বোহেমিয়ানের প্রতিপক্ষ ডাবলিনের ধনী ক্লাব শামরক রোভার্সের। শামরক তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থে প্রস্তাব দেওয়ায় তিনি ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ফুটবলে মনোযোগ দেন।
২০১৮ সালে সামাজিক মাধ্যম ‘লিংকডইন’-এর মাধ্যমে কেপ ভার্দের তৎকালীন কোচ রুই অগুয়াসের থেকে একটি মেসেজ পান পিকো। যেটি গুগল অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে বুঝতে পারেন তাঁকে ‘ব্লু শার্কস’ দলে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন। এ কারণে জবাব দিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ৯ মাস পর আবারও কোচ রুই অগুয়াস তাঁর কাছে জানতে চান তিনি তাঁর প্রস্তাবটি বিবেচনা করছেন কিনা।
পিকো জানান, দ্বিতীয়বার কোচের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনিু ‘ব্লু শার্কস’ দলে খেলতে রাজি হন এবং এ ব্যাপারে আগেভাগেই সাড়া দিতে না পারায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমার জন্য যদি এখনও প্রস্তাবটি উন্মুক্ত থাকে, তাহলে আমি সানন্দে জাতীয় দলের অংশ হতে চাই।’ তবে প্রথমেই কোচের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা। ‘আসলে প্রাংক ফোন কল ও মেসেজের (দুষ্টুমি করে কাউকে বোকা বানানোর উদ্দেশ্যে করা) যুগেই আমি বেড়ে উঠেছি। এ কারণে আমি এ ব্যাপারে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতাম। কোনো আকর্ষণীয় প্রস্তাব কৌতুক কিনা সে ব্যাপারে সন্দিহান থাকতাম।’ আইরিশ সানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবতে পারিনি, আমার কাছে এভাবে জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব আসবে।’
ক্লাবের পক্ষে পাঁচ লিগ শিরোপাসহ আটটি ট্রফি জয়ী পিকো জাতীয় দলের হয়ে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন ২০১৩ সালে কেপ ভার্দেকে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে খেলতে দেখে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। ওই সময়ে (জাতীয় দলের খেলা দেখে) আমার মনে হতো আমি যদি সেখানে খেলতে পারতাম। আমি ভাবতাম, আমার জীবনে কী কখনও এমনটা ঘটবে?’ সে ঘটনার ১৩ বছর পর আজ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দেশের ঝান্ডা ওড়াচ্ছেন এই শামরক তারকা।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- ফিফা
