ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মরক্কোর বারুদ প্রত্যাবর্তন

মরক্কোর বারুদ প্রত্যাবর্তন
×

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ১১:৪১

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো। বৃহস্পতিবার সকালে আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লড়াইয়ে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অ্যাটলাস সিংহরা ৪-২ গোলে হারায় ৫২ বছর পর টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া হাইতিকে। যদিও গোলের ব্যবধানে ম্যাচের আসল চিত্র ফুটে ওঠেনি। জয়রথ ছুটিয়ে চলা মরক্কোকে এ ম্যাচটি জিততে হয়েছে অনেক ঘাম ঝরিয়ে। ‘সি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ব্রাজিল জয় তুলে নেওয়ায় গোল ব্যবধানে সেলেসাওদের পেছনে থেকে পয়েন্ট টেবিলের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে পর্বে ওঠে মরক্কো।

আফ্রিকার দলটির সঙ্গে ক্যারিবীয় দেশটির শক্তির তুলনা চলে না। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৪০ ম্যাচে অপরাজিত এবং সবশেষ ১৮ ম্যাচ জিতে নতুন দুই বিশ্বরেকর্ড গড়া মরক্কোর সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল হাইতি। ম্যাচের শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় হাইতি। জ্য কেভিন দুভার্নে বল বাতাসে ভাসিয়ে লেনি জোসেফের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন। বিপদ আঁচ করতে পেরে মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বৌনু পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু জোসেফের ব্যাকহিল গোলরক্ষকের শরীরে লেগে পোস্টে আশ্রয় নেয়।

সমতায় ফিরতে মরিয়া মরক্কো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও বিরতির মাত্র ৬ মিনিট আগে গোলের দেখা পায়। বিলাল আল খানুসের ডিফ্লেক্ট হওয়া শট ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসাইড। বক্সে থাকা আশরাফ হাকিমি সুযোগ পেয়েই নিশানা ভেদ করেন। কিন্তু মরক্কোর উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চার মিনিট বাদেই উইলসন ইসিদোরের দর্শনীয় গোলে ম্যাচে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বল টেনে নিয়ে জোরালো শটে নিশানায় বল পাঠান ইসিদোর। তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত গোল পরিশোধে সক্ষম হয় অ্যাটলাস সিংহরা। এবার হাকিমির বানিয়ে দেওয়া বলে লক্ষ্যভেদ করেন ইসমাইল সাইবারি। এ নিয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেন সাইবারি।

দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় পর্যন্ত মরক্কোকে এগিয়ে যেতে দেয়নি ক্যারিবিয়ান দেশটি। ৭৮ মিনিটে চাদি বিষাদের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে রাহিমি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ম্যাচে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি। ৮৯ মিনিটে রাহিমির থেকে বল পেয়ে গোল পোস্টে পাঠিয়ে দেন গেসিমে ইয়াসিন। দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ শেষে যেটি গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেন রেফারি।

এ পরাজয়ে হাইতি টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতে বিদায় নিলেও মাঠে দলটির পারফরম্যান্স ফুটবলবোদ্ধাদের প্রশংসা পেয়েছে। ম্যাচ শেষে হাইতি কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বলেন, ‘আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে এমনিতেই বিশ্বকাপে খেলতে আসিনি। যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছি। আমি আশা করি, আমরা ভক্ত সমর্থকদের জন্য যেটুকু দিতে পেরেছি সেটা তাদের জন্য যথেষ্ট। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এক পয়েন্ট পাইনি। আমাদের ভক্ত-সমর্থকদের অন্তত এক পয়েন্ট উপহার দিতে পারলে ভালো লাগত।’

ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের বিষয়টি স্বীকার করে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওহাবি বলেন, ‘আমরা বড় জয় দিয়ে গ্রুপ সেরা হতে চেয়েছিলাম। এ ম্যাচে হাইতির হারানোর কিছুই ছিল না এবং তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য সহজ ম্যাচ ছিল না।’

আরও পড়ুন

×