‘খেলোয়াড়দের বলেছি, ফ্রান্সের কাছে হারাটা লজ্জার কিছু নয়’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২২ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৩৫
নকআউট পর্বে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে সুইডেন। এই পরাজয়কে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছেন সুইডিশ কোচ গ্রাহাম পটার। প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, দল নিখুঁত খেললেও ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো সহজ হতো না।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-এর টিকিট নিশ্চিত করে দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়ে সুইডিশ কোচ বলেন, ‘সেরা দলই জিতেছে। ফ্রান্সকে অভিনন্দন। এই ম্যাচে আমাদের নিখুঁত খেলতে হতো। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা নিখুঁত খেললেও হয়তো সেটি যথেষ্ট হতো না। কারণ প্রতিপক্ষের মান ছিল অসাধারণ।’
ফ্রান্সের কাছে হারলেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সুইডিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ম্যাচের পরেও আমি তাদেরকে বলেছি, ফ্রান্সের কাছে হারাটা লজ্জার কিছু নয়। তারা আমাদের চেয়ে ভালো দল এবং তাদের দলে বিশ্বমানের অনেক খেলোয়াড় রয়েছে।’
দুই দলের অভিজ্ঞতার পার্থক্যও তুলে ধরে এই ইংলিশ কোচ বলেন, ‘ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে দেখা যাবে যে, আমরা এখনো একটি তরুণ দল, যারা ধীরে ধীরে নিজেদের গড়ে তুলছে। সামনে আমাদের জন্য অনেক ভালো সময় অপেক্ষা করছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
গ্রুপ পর্বে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে ওঠে সুইডেন। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের কাছে একই ব্যবধানে হারে তারা। তবে শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে সুইডিশরা।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও এই আসরকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন পটার। তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট আমাদের শেখার এবং বেড়ে ওঠার দারুণ সুযোগ দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিপর্যয়ের পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, জাপানের বিপক্ষে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট পেয়েছি—সবকিছু ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমাদের এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দলে অনেক খেলোয়াড় প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ফ্রান্সের তুলনায় এটাও একটা বড় পার্থক্য। এবারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। ফুটবলে কখনও জিতবেন, কখনও হারবেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখা এবং আরও ভালো দল হয়ে ওঠা।’
- বিষয় :
- ফ্রান্স
- সুইডেন
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- নকআউট
