ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফাইনালটা হবে ফিফটি ফিফটি

ফাইনালটা হবে ফিফটি ফিফটি
×

জামাল ভূঁইয়া

জামাল ভূঁইয়া

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪৫

৪৮ দলের বিশ্বকাপটি এখন শেষ পর্যায়ে। আমার মতে ফাইনালে দুটি সেরা দলই উঠেছে। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে তারা কেন বিশ্বসেরা। আবার লামিনে ইয়ামালের স্পেনও দেখিয়ে দিয়েছে নিজেদের সামর্থ্য। আমার কাছে মনে হচ্ছে ফাইনালটা হবে ফিফটি-ফিফটি। আমরা যদি আর্জেন্টিনাকে দেখি, এবারের বিশ্বকাপে তারা বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখেছে। কেপ ভার্দের ম্যাচ থেকে শুরু করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা এককথায় অবিশ্বাস্য। মানসিকভাবে আর্জেন্টিনা এখন অনেক শক্তিশালী। তাদের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে শুরুতে গোল হজম করলেও তা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য আছে। অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। প্রতিটি ম্যাচেই তারা আগে গোল করেছে এবং সেটি ধরে রেখেছে। আর্জেন্টিনার বিপরীত অবস্থানে স্পেন। তারা যদি আগে গোল হজম করে সেটি কীভাবে ফিরিয়ে দেবে, তা স্পেনের কাছ থেকে দেখার সুযোগ এখনও হয়নি। তবে আমার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনাকে গোল করার জন্য খুব একটা জায়গা দেবে না স্পেন।

এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে অর্গানাইজড টিম হলো স্পেন। বিশেষ করে মাঝমাঠে তারা খুবই শক্তিশালী। রদ্রি, দানি ওলমো, রুইজের মতো ফুটবলাররা পুরো মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাদের আছে পাসিং ফুটবল খেলার রীতি। নিজেদের কাছে বল দখলে রেখে আক্রমণে যাওয়াটা স্পেনের অন্যতম কৌশল। বিপরীতে আর্জেন্টিনার বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের মানসিকতা। আমি শুরুতেও এই কথা বলেছি তারা জানে গোল হজম করার পর কীভাবে ফিরে আসতে হয়। শেষ দিকে তারা এতটাই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে, যা কিনা প্রতিপক্ষের থামানোটা কঠিন হয়ে যায়। এখন দেখার বিষয় স্পেন আক্রমণ করার সেই সুযোগটা দেয় কিনা। কারণ, স্পেনের কৌশলই হচ্ছে নিজেদের কাছে বল রাখা।

আর্জেন্টিনা যদি প্রথমে একটা গোলও দেয়, সেটি ধরে রাখতে পারবে না কিনা তা আমি জানি না। কারণ স্পেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে আগে গোল হজম করেনি। তবে পিছিয়ে পড়লেও স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আছে। লামিনে ইয়ামালের মতো ফুটবলার যেকোনো মুহূর্তে খেলা পাল্টে দিতে পারেন। আর আর্জেন্টিনার দুর্বল জায়গা হলো হঠাৎ করেই তারা গোল হজম করে। স্পেনের বিপক্ষে এমনটা হলে বিপদে পড়বে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করছেন। স্পেনের লেফট ব্যাক কিন্তু খুবই শক্তিশালী। বিশেষ করে কুকুরেয়া অসাধারণ খেলছেন। সর্বশেষ ম্যাচে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে, অলিসের মতো ফুটবলারকে আটকে রেখেছেন।

স্পেনের জন্য চিন্তার বিষয় হলো লিওনেল মেসির ফর্ম। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে খেলছেন তাতে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ঘুম হারাম হওয়ার কথা। অনেকেই বলেছিলেন এমএলএস-এ (মেজর লিগ সকার, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার পেশাদার পুরুষদের ফুটবল লিগ) খেলা মেসি কি এমন পারফরম্যান্স করবেন বিশ্বকাপে? মেসি প্রমাণ করেছেন তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। এই বিশ্বকাপে আটটি গোল করার সঙ্গে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তাই মেসিকে আটকানোটা অনেক কঠিন হবে স্পেনের জন্য। এখন তো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও মেসি এগিয়ে। যদি বিশ্বকাপও না জিততে পারে আমার কাছে মনে হচ্ছে মেসি এবারের বিশ্বকাপে দুটি ট্রফি পাবে। একটি গোল্ডেন বুট আরেকটি সেরা খেলোয়াড়ের অ্যাওয়ার্ড গোল্ডেন বল।

জামাল ভূঁইয়া, জাতীয় দলের অধিনায়ক

আরও পড়ুন

×