ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোপা ফেরানোর আশা ডুলির

শিরোপা ফেরানোর আশা ডুলির
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২২

ওই একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে এই ঢাকাতেই। ওটাই ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ জয়ের একমাত্র স্মৃতি। তারপর আর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি লাল-সবুজের দল। তবে হামজা-শমিতদের নিয়ে গড়া এবারের দলকে নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী নতুন কোচ থমাস ডুলি। ‘আমরা কার বিপক্ষে খেলছি, তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা, যেটা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারাও একই কথা ভাবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলছি। তারাই সেই দল, যারা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু পিছিয়ে আছে বা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু এগিয়ে আছে। মাঠে নামার সময় আমাদের কী ধরনের মানসিকতা থাকে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে গিয়ে হামজাদের নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখার কথা বলেছেন ডুলি। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর মাঠে গড়াবে মর্যাদাপূর্ণ এ টুর্নামেন্ট। যেখানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ একটি অতিথি দলকেও আমন্ত্রণ জানানোর কথা রয়েছে। গতবার যেমন কাতারকে ডাকা হয়েছিল।

এদিন জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন করা হয়। যেখানে সার্কের সাতটি দেশের দূতাবাস ও ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের পর ফের বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। ভুটানের থিম্পুতে আগামী ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ড্র বা গ্রুপ নির্ধারণী অনুষ্ঠান। কোচ ডুলির সুরেই এদিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের কথা বলেছেন জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিন, তবে সতর্কও তিনি। ‘কোচ সবসময় জিততে চায়, এটাই আমাদের সবসময় মোটিভেট করে থাকে। আমাদের যেভাবেই হোক জিততে হবে, এটা আমি মনে করি আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। কারণ অনেক আগে আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এর মধ্যে আমরা হতে পারি নাই, সো আমি মনে করি যে এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই মিস করতে চাই না। কিন্তু কোচ যেটা বলল, আমরা ওভার এক্সাইটেড হতে চাই না বা ওভার কনফিডেন্ট হতে চাই না, আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে চাই, এবং আশা করছি, আমরা এই সাফ বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে পারব।’ 

দলের সিনিয়র ফুটবলার তপু বর্মণও মনে করেন এবারই শিরোপা ফিরে পাওয়ার সেরা সময়। ‘২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি, আসলে এটা আমাদের মনে হয় সবার মেইন টার্গেট, এবং আমরা আসলে এই সাফটা জিততে চাই এবং আমাদের দেশে খেলা, সব ক্রাউড থাকবে, আপনারা থাকবেন, দর্শক থাকবে... সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আমাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে, কিন্তু আমরা আসলে মাঠে সেটা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা সব থেকে বেটার এবং আমরা যোগ্য, সেজন্য আমরা এই সাফটা জিতেছি। তো এটাই আমাদের টার্গেট থাকবে।’

বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনা কাজে লাগতে চায় আয়োজক সংস্থা সাফ। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, ‘সদ্যসমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই এই ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উন্মাদনা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখেই স্বাগতিক হিসেবে দেশটির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একটি চমৎকার ও সফল আয়োজন উপহার দেবে।’ 

দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই মিশনে বাংলাদেশের কোচ তাঁর পরিকল্পনা ও দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে উল্লেখ করে কোচ বলেন, প্রত্যেকেই নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ ফুটবলারদের দিয়েছেন কোচ, ‘আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই, যাতে দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যান। তারা যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেন। তারা যাতে বলেন, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই যাতে দর্শকরা জয় নিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরতে পারেন।’ 

ঘরের মাঠে আট বছর পর সাফ খেলবে বাংলাদেশ। যেখানে শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ, ‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদের কাছেও আমার একটাই বার্তা– মাঠে নেমে, নিজের যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। এর আগ পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। তবে এদের ভুল হতেই পারে। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করেন।’ 

থমাস ডুলি ভক্তদের প্রতি মাঠে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চান, ভক্তরা যেন মাঠে এসে দলকে উৎসাহিত করেন এবং গ্যালারিতে আওয়াজ তুলে প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেন। ২৩ বছর ধরে যে স্বপ্নের শিরোপা জোটেনি, সেই খরা কাটাতে দলকে সেরা প্রস্তুতির সুযোগটা করে দিতে চান কোচ।

আরও পড়ুন

×