ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টার্ক ঝড়ে লন্ডভন্ড বাংলাদেশ

স্টার্ক ঝড়ে লন্ডভন্ড বাংলাদেশ
×

ছবি- এএফপি

সেকান্দার আলী, ম্যাকাই থেকে

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩২

অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী তথা অ্যাবর্জিন জনগোষ্ঠীর নারী প্রতিনিধি ডি ক্লার্ক সুমিষ্ট ভাষায় স্বাগত জানান অতিথিদের। করতালিতে মুখর হয় স্টেডিয়াম। নাজমুল হোসেন শান্তরাও সম্ভাষণে খুশি হন। ভূমিপুত্রদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেলেও অজি ক্রিকেটারদের স্বাগত জানানোর ভাষা ছিল অন্যরকম। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে ঝড়ের মতো লন্ডভন্ড করে দেয় বাংলাদেশকে। ঝড়ের নাম মিচেল স্টার্ক। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার কিউরেটর পিটার কাজাকভ তো আগেই সতর্ক করেছিলেন গতি-ঝড়ের বার্তা দিয়ে।

পিটার বলেছিলেন, উইকেট হবে ফাস্ট বোলারদের স্বর্গ। ব্রিসবেনের গ্যাবার মাটি আনা হয়েছে ম্যাকাইয়ে। মাটি, কিউরেটর দুই তো গ্যাবা থেকে আনা। তাই পেস-স্বর্গ হওয়া স্বাভাবিক। পিটারের কথার ওপর হয়তো আস্থা ছিল না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও কোচ ফিল সিমন্সের। তাই দুজনেই বলেছিলেন, উইকেট দেখে স্পোর্টিং মনে হয়েছে। গোল্ডেন ডাক করার পর শান্তর বিশ্বাস হয়েছে, উইকেট পেস ও বাউন্সি! ড্রেসিংরুমের বাসিন্দারা ততক্ষণে আত্মদহনে পুড়ছেন। উইকেট ভুল পড়া, দলের ভেতরে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাশুল গুনতে হয় ব্যাটারদের। সকাল সকাল দেখতে হয় ব্যাটারদের ড্রেসিংরুমে ফেরার মিছিল।

ঢাকায় মানুষের ঘুম ভাঙার আগে ম্যাকাইয়ে বিপর্যয়। দূরদূরান্ত থেকে প্রিয় দলের খেলা দেখতে আসা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের ভীষণ মন খারাপ ততক্ষণে। পানি পানের বিরতির আগে মাঠ ছেড়ে যেতে দেখা গেল একটি গ্রুপকে। মাঠে বসে হতাশ হওয়ার চেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়াকেই হয়তো উত্তম মনে হয়েছে তাদের।

ডারউইনে বাংলাদেশ দলের ভাগ্য ভালো ছিল, টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। ওই ভুল সিদ্ধান্তে পরাজয়ের সাগরে ডুবে যেতে হয়েছিল স্বাগতিকদের। ম্যাকাইয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হয়নি কামিন্সের। টসে জিতে বোলিং নেন তিনি। বল হাতে নিয়েই ঝড় তোলেন স্টার্ক। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার ২২ গজে ঝড় ওঠে। প্রথম বলেই ওপেনিং জুটির বিচ্ছেদ। ভুল শট খেলে গালিতে ক্যাচ হন সাদমান ইসলাম। ব্যাটের কানায় চুমু দিয়ে ফিল্ডার ক্যামেরন গ্রিনের হাতে জমা পড়ে বল। মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন সাদমান। গোল্ডেন ডাক বাঁহাতি এই ওপেনারের। মুমিনুল হককে একপ্রকার ওপেনারের ভূমিকা নিতে হয়। দেখেশুনে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খুলেছিলেন তিনি। আশা করা হচ্ছিল ভালো কিছু হবে। কিন্তু স্টার্কের ঝড় তা হতে দেয়নি।

স্টার্ক নিজের দ্বিতীয় ওভারের শুরুতেও নেন উইকেট। তাকে উইকেট দেওয়ার কৃতিত্ব তানজিদ হাসান তামিমের। ওয়াইড ইয়র্কার বলে খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি। সাদমানের মতো তারও রানের খাতা খোলা হয়নি। গোল্ডেন ডাক করেন অধিনায়ক শান্তও। কিছুটা দুর্ভাগা বলা যায় তাকে। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলেও পারতেন। কারণ বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ার্স কলের কারণে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার মিছিলে যোগ দেন মুমিনুলও। ১৬ বলে ৯ রান করে স্টার্কের চতুর্থ শিকার হন তিনি।

হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল স্টার্কের সামনে। লিটন কুমার দাস বোলারকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন। যদিও ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকা হয়নি তার। জীবন পাওয়ার পরের বলেই স্টার্কের পঞ্চম শিকার হন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯তম বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক। ১২ রানে ৫ উইকেট শিকারের পর বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন অসিরা। টেস্ট ইনিংসে সর্বনিম্ন ২৬ রানের নিউজিল্যান্ডের রেকর্ডকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন তারা। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুক্ষণ টিকে যাওয়ায় শেষরক্ষা। নেতিবাচক বিশ্ব রেকর্ড গড়া থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিমও অনিরাপদ হন। ৪২ বলে ৫ রান করে কামিন্সের শিকার হন তিনি। ২৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

×