সংকট পিছু ছাড়ছে না, সেবাবঞ্চিত রোগী
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে সিঁড়িতে অবস্থান নিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার তোলা সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় হাসপাতালে এসেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ফলে দিন দিন এ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র জানায়, ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র আস্থার স্থল এই ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল। হবিগঞ্জ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নানা বয়সী রোগী। অনেক রোগী চিকিৎসক না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসকের ৭৬টি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২০ জন। ফলে ৫৬টি পদ শূন্য পড়ে আছে। কোনো রকমে কচ্ছপগতিতে চলছে এর চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ছাড়া হাসপাতালে ১৭৭ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ১৪২ জন। এতে নার্সের ৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। টেকনিশিয়ানের ৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন, ফলে ২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়ার্ডবয়, গার্ড, ক্লিনারসহ ৬২টি পদের জায়গায় কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৫ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্স ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের। রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছে সচেতন মহল।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুজিনা বেগম বলেন, তাঁর ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এই হাসপাতাল শুধু নামেই। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে বলে। মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের অনেক বিভাগে চিকিৎসক নেই। যে কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হয় রোগীদের। এ ছাড়া যে ক’জন চিকিৎসক রয়েছেন, তারাও ঠিকমতো ডিউটি করেন না।
২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। চিকিৎসকসহ
জনবল সংকট থাকায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তবুও আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি।
- বিষয় :
- হাসপাতাল