খসে খসে পড়ছে বিম-প্লাস্টার ভেতরে বসত বিষধর সাপের
সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে যশোরের মনিরামপুরের নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিক। সম্প্রতি তোলা সমকাল
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের মনিরামপুরের নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। ভবনের ছাদ, বিম ও কলামের প্লাস্টার খসে পড়ছে। তিন পাশে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, জমেছে কচুরিপানা। এ ছাড়া ক্লিনিকের ভেতরে প্রায়ই বিষধর সাপ ও পোকামাকড়ের দেখা মেলে। এমন ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট-নেহালপুর সড়কের পাশে ১৯৯৯ সালে পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত হয় নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিক। বর্তমানে পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, নেবুগাতী, কুচালিয়া ও দিগঙ্গা– এই পাঁচটি গ্রামের নারী-শিশুসহ অন্তত সাত হাজার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দুই কক্ষের ছোট ভবনটির দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লিনিকের ভেতরে পানি জমে যায়। আর বাথরুমটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা নারী রোগীরা।
বর্তমানে ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিঠুন বিশ্বাস সপ্তাহে ছয় দিন নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি সপ্তাহে দুদিন করে পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) তুলি রায় এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) হাবিবুর রহমান দায়িত্ব পালন করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মিঠুন বিশ্বাস। শরীর ব্যথা ও জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘চিকিৎসা তো নিয়মিত পাই, কিন্তু ক্লিনিকের অবস্থা বেহাল দেখে ভয় লাগে। বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতরে পানি জমে থাকে।’ দিগঙ্গা গ্রাম থেকে আসা গৃহবধূ লক্ষ্মী রানী মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাঙাচোরা ক্লিনিক, বসার জায়গা নেই, একমাত্র বাথরুমটাও নষ্ট। আমাদের নারীদের খুব কষ্টে পড়তে হয়।’
সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ভবনের কঙ্কালসার অবস্থা ও সাপের আতঙ্ক নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ হোসেন ফয়সাল জানান, নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবা যেন বিঘ্নিত না হয় এবং ঝুঁকি এড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে অতি শিগগিরই ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ভবন ধস