ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই দুম্বায় শুরু, তিন বছরে কোটি টাকার খামার

দুই দুম্বায় শুরু, তিন বছরে কোটি টাকার খামার
×

নিজ খামারে দুম্বাকে খাবার দিচ্ছেন রবিউল ইসলাম। সম্প্রতি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাঠারিপাড়া গ্রামে সমকাল

আমিরুল হক, নীলফামারী 

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের ভিডিও দেখে শখের বশে যাত্রা শুরু করেছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের তরুণ রবিউল ইসলাম। শুরুতে ছিল মাত্র দুটি তুর্কি জাতের দুম্বা। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। বর্তমানে এসব দুম্বার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা।

সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামে গড়ে ওঠা এই খামারে এখন পাঁচজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন। মরুভূমির প্রাণী হলেও স্থানীয় আবহাওয়ায় দুম্বাগুলো সহজেই মানিয়ে নিয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শুধু খামারটি দেখতে আসছেন, আবার অনেকেই নতুন করে দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।
রবিউল জানান, প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে প্রথমে দুটি, পরে আরও ছয়টি তুর্কি জাতের দুম্বা কিনতে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ছয় মাসের মধ্যেই বাচ্চা দেওয়া শুরু করে প্রাণীগুলো। বর্তমানে প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বার দাম দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা। ওজন হয় ৫০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত।

তিনি বলেন, দুম্বার রোগবালাই তুলনামূলক কম। প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারে খরচ হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈলই তাদের প্রধান খাদ্য। সময়মতো টিকা দিলে দ্রুত বেড়ে ওঠে। একটি দুম্বা বছরে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। তিন মাস বয়সেই একটি বাচ্চার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ কেজি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁর কাছে দুম্বা কেনার আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিদিনই ফোন, মেসেঞ্জার ও ইমোতে ক্রেতাদের দুম্বা দেখাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, শিক্ষিত তরুণ রবিউল ইসলাম চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে তাঁকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ দুম্বার খামার গড়ে তুলতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×