ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই ম্যাচেই ভরাডুবি, জোন্সকে ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে যত কারণ

দুই ম্যাচেই ভরাডুবি, জোন্সকে ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে যত কারণ
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৩

কখনও মাসের বেতন না পাওয়ার কান্না, কখনওবা ‘জীবন গেল, জীবন গেল’ বলে নিরাপত্তার দোহাই। সবশেষে খোদ নিজের সহকারীর কোচের সঙ্গে হাতাহাতির কাণ্ড বাঁধিয়ে ‘ট্রিপল নাইন’-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চাওয়া! মাঠের ফুটবলের চেয়ে মাঠের বাইরের এই সস্তা মেলোড্রামায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্তারা যে জেরার্ড জোন্স নামের ব্রিটিশ কোচের ওপর মনে মনে প্রচণ্ড বিরক্ত ছিলেন, তা নিয়ে ঢাকার ফুটবলপাড়ায় কোনো গোপন ফিসফাস ছিল না। ভেতরের খবর, ফেসবুকে আসক্ত কোচকে বিদায় করার নকশাটা তৈরি হয়েছিল ঢাকাতেই। সামনে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট। তাই ‘ঝামেলা না বাড়িয়ে’ বাফুফে ম্যানেজমেন্ট জোন্সের কাঁধেই ঘুঁটিটা রেখেছিল। ভেবেছিল, মাঠের পারফরম্যান্স যদি এই খ্যাপাটে ব্রিটিশের সব দোষ ধুয়ে দেয়!

কিন্তু তাসখন্দে উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে দলের জঘন্য, ছন্নছাড়া ফুটবল বাফুফের ধৈর্যের শেষ সুতোটাও ছিঁড়ে দিল। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল হজম। ব্যস, বৃহস্পতিবার রাতে এলো সেই চূড়ান্ত খাঁড়া। জোন্সকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো–‘থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ, আপনার আর দরকার নেই।’ ব্রিটিশ কোচও ব্যাগ গুছিয়ে রাতের অন্ধকারে টিম হোটেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। এই সংকটের দিনে ‘ক্রাইসিসম্যান’ হিসেবে ডাগআউটে পা রাখছেন আতিকুর রহমান মিশু। যে মানুষটি প্রথম দুই ম্যাচে কোনো এক অজানা কারণে ডাগআউটে বসার অনুমতি পাননি, আগামী রোববার ভারতের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে তিনি এবার দলের ভাগ্যবিধাতা। জোন্সের নাটকের যবনিকা পতনের পর, ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে মিশুর হাত ধরে অনূর্ধ্ব-২০ দল কোনো রূপকথা লিখতে পারে কিনা, এখন সেটিই দেখার।

যশোর ও ঢাকায় থাকতে জেরার্ড জোন্সের পাগলামির মাত্রা ছাপিয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সিরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লকার রুমেও নাকি ঝামেলা বাধে তাঁর সঙ্গে। দলের ইংল্যান্ডপ্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অ্যাডাম আব্বাসকে নাকি তিনি জোর করে মিডফিল্ডে খেলতে বলেন, যদিও অ্যাডামের দাবি ছিল তিনি ফরোয়ার্ডে খেলে থাকেন, সেখানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শেষ পর্যন্ত জোন্সের ইচ্ছাতে তিনি সিরিয়ার বিপক্ষে মাঝমাঠে খেলে থাকেন। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর বাফুফে ম্যানেজমেন্ট জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে। 

সেই দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন আইরিশ কোচ মার্ক কক্স, যাঁকে এক মাসের জন্য পরামর্শক প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের জন্য ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে দুই বছরের চুক্তিতে আনা হয়। দুই বছরের চুক্তিতে আসা এই কোচের মেয়াদ দুই মাসও টিকল না। মেয়াদ ফুরোনোর আগে যদি জোন্সকে বিদায় করতে হয়, তবে অগ্রিম তিন মাসের বেতন গুনে দিতে হবে বাফুফেকে! এই বিপুল অঙ্কের জরিমানার ভয়ে নির্বাহী কমিটির কর্তারা এতদিন দাঁতে দাঁত চেপে জোন্সের সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেছেন, বারবার ফাইল উল্টে-পাল্টে ভেবেছেন ‘কী করা যায়’। অথচ বাফুফের অন্দরমহলের একটি বড় অংশের বিশ্বাস, এই খ্যাপাটে ব্রিটিশ মোটেও বোকা নন; বরং অত্যন্ত ধুরন্ধর। তিনি ঠান্ডা মাথায় একের পর এক বিতর্ক তৈরি করতেন; যেন বাফুফে বাধ্য হয়ে তাঁকে ছাঁটাই করে। তিনি ফিফার দরবারে নালিশ ঠুকে বসে বসে বাফুফের রাজকোষ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন!

আরও পড়ুন

×