আসিয়ান কাপে বাস্তববাদী ডুলি
থমাস ডুলি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:২০
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর– তিনটি দলই শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে। ফিফা আসিয়ান কাপে প্রিমিয়ার বিভাগে এই দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখাটা বাড়াবাড়ি। তাই ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বাস্তববাদী। গতকাল রোববার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আসিয়ান কাপ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ডুলি বলেন, ‘আসিয়ান কাপ নিয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে।
আমরা যাদের বিরুদ্ধে খেলব– যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া, তারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৪০, ৫০ বা ৬০ ধাপ এগিয়ে। এটা স্পষ্টতই অনেক কঠিন। আমি আমার খেলোয়াড়দের বলি, যেসব দল র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের পেছনে আছে, তাদের বিপক্ষে আমরা কোনোভাবেই হারতে পারি না। আমাদের মনোযোগ দিতে হবে যেন তারা আমাদের বিপক্ষে গোল করতে না পারে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়াও কিন্তু একই কথা বলবে। তাই কাজটা আমাদের জন্য অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে।’
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত হবে ফিফা আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার বিভাগের খেলা। এই প্রতিযোগিতা সামনে রেখে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনুশীলন করছে জাতীয় ফুটবল দল। প্রতিদিন দুই বেলা দলকে অনুশীলন করাচ্ছেন ডুলি। এই পর্যন্ত হওয়া অনুশীলনে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বাংলাদেশ কোচ, ‘আমরা দিনে দুবার করে অনুশীলন করেছি, কারণ আপনারা জানেন খেলোয়াড়রা স্যান মারিনো থেকে ফেরার পর প্রায় দুই মাস তেমন অনুশীলনের মধ্যে ছিল না। অনেক দিন অনুশীলন না করে হঠাৎ করে অনুশীলন শুরু করাটা বেশ কঠিন। তাই জাতীয় দলের ক্যাম্পটি একটু আগে শুরু করতে পেরে আমি আনন্দিত, কারণ বাংলাদেশে লিগ শুরু হয়নি। লিগ শুরুর জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং লিগ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে দিনে একবার করে অনুশীলন করার পরিকল্পনা ছিল– যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতো।’ আপনি যদি বড় দেশগুলোর দিকে তাকান, তবে দেখবেন তারা মৌসুম শুরুর আগে ছয় সপ্তাহের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নেয়। যেখানে প্রথম সপ্তাহে দিনে তিনটি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দুটি করে এবং পরের সপ্তাহে দুই বা তিনবার দুটি করে সেশন থাকে। তবুও বুন্দেসলিগা বা প্রিমিয়ার লিগের মতো লিগ শুরু করার জন্য তারা শতভাগ ফিট থাকে না। তাই বুঝতেই পারছেন, দুই মাস অলস বসে থাকার পর এক সপ্তাহ দিনে একটি করে অনুশীলন করলে খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি কতটা বেড়ে যায়! এজন্য আমরা বাফুফে এবং লিগের ক্লাবগুলোর মালিকদের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা একই মতে ছিলেন এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আগেভাগে অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছেন। খেলোয়াড়রা সত্যিই দারুণ কাজ করছে।’
নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ঘরের মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ডুলি। এখন আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ায় সেটা আর হচ্ছে না। আমেরিকান এ কোচ নাকি আসিয়ান কাপে খেলতে চাননি– সামাজিক মাধ্যমে এমনটা প্রকাশ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মনগড়া কথা প্রচার করা হয়েছে বলে জানান ডুলি, ‘আপনারা সবসময় বড় দলের বিপক্ষে খেলা দেখতে চান! এখন আমরা বড় দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি এবং এখান থেকে নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে হবে। আমি চেয়েছিলাম সাফ টুর্নামেন্টের আগে এমন কিছু দলের সঙ্গে হোম ম্যাচ খেলতে, যাদের আমরা হারাতে পারি; সহজে না হলেও অন্তত কিছু আত্মবিশ্বাস যেন পাওয়া যায়। কিন্তু অনলাইনে অনেকেই না জেনে নানা রকম মনগড়া কথা লিখছেন। অন্য দলগুলোকে আমাদের দেশে এনে খেলানো তো আর আমাদের হাতে নেই! আমরা শুধু প্রস্তাব দিতে পারি। কিন্তু তারা বলেছে আসিয়ান কাপ, নেশনস লিগ বা অ্যারাবিক কাপের মতো টুর্নামেন্ট থাকায় তারা আসতে পারবে না। এজন্যই আসিয়ান কাপের এই সুযোগে আমি অনেক খুশি। এটা আমাদের জন্য দারুণ একটি প্রতিযোগিতা হবে। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে এবং খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।’
ঠিকানা বদল করে শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন হামজা চৌধুরী। তাঁকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত ডুলি, ‘আমি শুধু হামজার প্রথম ম্যাচটি দেখতে পেরেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচের সময় আমাদের টিম মিটিং থাকায় দেখতে পারিনি, তবে রাতে ভিডিও রেকর্ডিং দেখে নেব। হামজা অবশ্যই এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমরা দলে চাই। সে ট্রাভেল করে দলে যোগ দিলে তাকে সরাসরি প্রথম দলের সাথে কিছু সময় অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে যেন সে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। তবে রাতারাতি অনেক বড় পরিবর্তনের আশা করা ঠিক হবে না, দেখা যাক সামনে কী হয়।’ দলের প্রস্তুতি ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘সমর্থকদের আবেগ আমি বুঝি, তবে তাদের এটাও বুঝতে হবে যে ফিফা উইন্ডোর কিছু নিজস্ব নিয়ম আছে। ক্লাবগুলো শুধু ফিফা উইন্ডোর নির্ধারিত দিনগুলোতেই খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য থাকে। যদি কোনো ফিফা উইন্ডো ২১ তারিখে শুরু হয়, তবে ক্লাব খেলোয়াড়কে ২১ তারিখেই ছাড়বে। সে হয়তো ২২ তারিখে এসে পৌঁছাবে এবং ২৪ তারিখেই ম্যাচ থাকবে। তবে হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়দের মূল সুবিধা হলো তারা জানে এই পর্যায়ে কীভাবে খেলতে হয়। তাদের নতুন করে সবকিছু শেখানোর প্রয়োজন পড়ে না। সে এলেই নিজ গুণাবলি ও দক্ষতা দিয়ে দলের হাল ধরতে পারবে। একইভাবে শমিত, তারিক, জায়ানের মতো খেলোয়াড়রাও সামর্থ্যবান। তবে সব খেলোয়াড়কে সবসময় আগেভাগে ক্যাম্পে পাওয়া সম্ভব হয় না।’
- বিষয় :
- আসিয়ান কাপ