ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘নাম্বার নাইন’ খুঁজছেন ডুলি

‘নাম্বার নাইন’ খুঁজছেন ডুলি
×

ছবি- বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৩ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৩

ভালো হোক মন্দ হোক প্রতিটি দলেই একজন গোল করার লোক থাকেন; যাঁকে আমরা স্ট্রাইকার, সেন্টার ফরোয়ার্ড কিংবা ‘নাম্বার নাইন’ বলে থাকি। অবাক হলেও সত্য বাংলাদেশ দলে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে অভ্যস্ত কোনো ফুটবলার নেই। আসিয়ান কাপের আগে একেই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হেড কোচ টমাস ডুলি। সে সঙ্গে চোটের ধাক্কা, ফিটনেস ঘাটতি তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি নিয়ে স্বস্তিতে নেই কোচ।

স্ট্রাইকারের অভাব রাতারাতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আপৎকালীন সমাধান হিসেবে ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলারদের মধ্য থেকে একজনকে ‘নাম্বার নাইন’ বানানোর চেষ্টা করছেন ডুলি। গতকাল মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করেই কথা বলেছেন কোচ। ডুলির মতে এ সমস্যা শুধু জাতীয় দলের নয়, ঘরোয়া ফুটবলেরও, ‘আমাদের দলে কোনো প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই। আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে– কেন আমাদের লিগে কোনো নাম্বার নাইন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবই তাদের ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করে। ফলে আমরা স্থানীয় নাম্বার নাইন তৈরি করতে পারছি না।’ বিশ্বনাথকে আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল টমাস ডুলির। সান ম্যারিনোর বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স সে ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছিল। কিন্তু চোটের কারণে বিশ্বনাথ ছিটকে যাওয়ায় সে ভাবনা থেকে সরে আসতে হয়। রাকিব, মজিবুর রহমান বা শাহরিয়ার ইমনের মধ্য থেকে একজনকে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তৈরি করার কথা ভাবছেন কোচ। তবে এখনও কাউকে চূড়ান্ত করেননি।

সেন্টার ফরোয়ার্ড বানানো প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কাউকে না কাউকে খুঁজে নিতে হবে। আমাদের এমন একজনকে এই পজিশনে খেলাতে হবে, যে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবে। সে কে হতে পারে? আমরা এখনও নিশ্চিত নই। আমাদের মাথায় কিছু নাম রয়েছে– যেমন রাকিব, মজিবুর বা ইমন। আমাদের দেখতে হবে কে এগিয়ে আসে।’ গোল করার অনুশীলন এখনও শুরু করেনি বাংলাদেশ। আগে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করে নিতে চাইছেন ডুলি। এরপর শুরু হবে ফিনিশিংয়ের কাজ। তবে হাতে মোটেই সময় নেই।

বাংলাদেশ দলের আরেকটি বড় সমস্যা হলো ফিটনেস ঘাটতি। সান ম্যারিনো ম্যাচের পর দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রায় দুই মাস ধরে দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। সে ঘাটতি পূরণের জন্য গত ২৭ আগস্ট জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডুলি বলেন, ‘বেশির ভাগ খেলোয়াড় সান ম্যারিনো ম্যাচের পর কিছু করেনি। আমি এটা বলছি না যে তারা একেবারে কিছুই করেনি। তারা প্রায় দুই মাস ধরে নিজের মতো করে অনুশীলন করছে। আমাদের যে খেলোয়াড়রা দেশের বাইরে রয়েছে, তারা অবশ্যই তাদের ক্লাবের সঙ্গে খেলছে। কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়রা অনুশীলনে ছিল না।’ এ ঘাটতি পূরণের জন্য ক্যাম্পে বাড়তি অনুশীলন করতে গিয়ে অনেকের আবার মাংসপেশিতে টান লেগেছে। এতে আছেন জামাল ভূঁইয়া, ফয়সাল আহমেদ ও বিশ্বনাথ ঘোষ। এর মধ্যে বিশ্বনাথ তো ছিটকেই গেছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু করবে বাংলাদেশ। আর ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে তারা।

আরও পড়ুন

×