দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম মেয়েদের
ক্রীড়া প্রতিবেদক, নাগোয়া থেকে
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৮
সবুজগালিচাতে হতাশার দৃশ্য। হারের কষ্ট ঋতুপর্ণা-মারিয়া মান্দাদের চোখেমুখে। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারটি অনুমেয়ই ছিল। উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা পারেননি ঘুরে দাঁড়াতে; দেখাতে পারেননি লড়াকু পারফরম্যান্স। এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছেন ৬-০ গোলে। দুই ম্যাচে দুই কোরিয়া মিলে বাংলাদেশের নামের পাশে ১৬ গোল হজম। নারী ফুটবলের দৈন্য যেন ফুটে উঠেছে ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে। দুটি বড় হারের পর পিটার বাটলারের দল তাকিয়ে মিয়ানমার ম্যাচের দিকে, যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২১ সেপ্টেম্বর।
উত্তর কোরিয়ার ম্যাচে দল নিয়ে পরীক্ষা চালান কোচ বাটলার। ঋতুপর্ণা-মনিকার মতো তারকাদের বসিয়ে জুনিয়রদের দিয়ে খেলার সূচনা করেন ব্রিটিশ এ কোচ। অনভিজ্ঞ ফুটবলাররা সেদিন খেই হারিয়ে প্রথমার্ধে হজম করেছিলেন ৭ গোল। সেদিনের সেই ভুল গতকাল করেননি বাটলার। সিনিয়রদের নিয়েই শুরুর একাদশ সাজান। তাতে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ হজম করে ২ গোল। আর এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের সীমানায় আক্রমণের চেষ্টাও চালান মেয়েরা। কিন্তু বিরতির পর কোরিয়ার আক্রমণের ঝড়ে পারেননি নিজেদের মেলে ধরতে। এই অর্ধে হজম করেন ৪ গোল। শেষদিকে দ্রুত গোল হজম করেছেন মেয়েরা।
ম্যাচ শেষে সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ বাটলার, “সত্যি বলতে গেলে, ৬-০ ব্যবধানটি একটু বেশিই নির্মম বলে মনে হয়েছে। তবে আমরা এমন ধরনের দল যে একবার গোল খেলে পরপর তিনটি খেয়ে বসি– একেবারে দ্রুত পরপর। এর কারণ হলো, আমরা মাঝেমধ্যে অত্যন্ত শক্ত ও সহনশীল হতে পারি, আবার কখনও কখনও ফুটো তাঁবুর মতো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাই– মজার ছলেই যেন গোল হজম করতে থাকি। তবে সার্বিকভাবে আমি সেদিন যা বলেছিলাম তারই পুনরাবৃত্তি করব– এই স্তরটি বর্তমানে আমাদের জন্য একটি অনেক বড় ধাপ, আর আমি ‘বর্তমানে’ কথাটির ওপর জোর দিচ্ছি।”
কোরিয়ার মতো দলের কাছে হারটা অনুমেয়ই ছিল। তবে পরাজয়ের ব্যবধান নিয়ে আছে প্রশ্ন। বড় হারেও যেন লজ্জা নেই বাটলারের, ‘বর্তমানে আমাদের সেই অবকাঠামো বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। এই স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। আর প্রতিপক্ষকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা বেশ ভালো দল। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই স্তরে খেলছে; অলিম্পিক, এশিয়ান কাপ, এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে। তাই এই মানের একটি দলের কাছে হারায় কোনো লজ্জা নেই। তবে হতাশ তো হতেই হয়। তবুও আমরা আমাদের ক্ষত ভুলে, ঝেড়ে-মুছে আবার ঘুরে দাঁড়াব। আর যেমনটা বলেছি, এই সবকিছুই মূলত মিয়ানমার ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ।’
দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে এত বড় পরাজয়ের দেখা মেলেনি। দুটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো তুলনা চলে না বলে মনে করেন বাটলার, ‘যদি অনেক দিক থেকে বিচার করি, তবে দুটি বিষয়কে একসঙ্গে মেলানো কঠিন– আপেল আর নাশপাতির মতো পার্থক্য। আপনি এ দুটি ম্যাচকে একে অপরের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন না। আমি এ দুটি ম্যাচকে এক ধরনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছি এবং এর ওপর জোর দিয়েছি। কারণ আমি জানতাম, তারা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমরা মূলত নিজেদের অর্জিত সাফল্যেরই শিকার হয়েছি। এই স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা আমাদের এখনও হয়নি এবং এটি খুবই স্পষ্ট, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে।’
- বিষয় :
- এশিয়ান গেমস
- নারী ফুটবল