ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শামির বোলিং অনুসরণ করেন রাহি

শামির বোলিং অনুসরণ করেন রাহি
×

ছবি: বিসিবি

...

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:৪৯

ইন্দোর টেস্ট তিন দিনেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং কোনো বিভাগেই সেভাবে ভালো হয়নি। এমন হতাশার ম্যাচেও ভালো বোলিং করেছেন পেসার আবু জায়েদ রাহি। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির উইকেট শিকার করেছেন তিনি। রোববার ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে নিজের বোলিং এবং গোলাপি বল নিয়ে কথা বলেন রাহি। ক্রীড়া প্রতিবেদক, ইন্দোর থেকে

প্রশ্ন: গোলাপি বলে কোনো সেশন করেছেন?

রাহি: আমার মেজ ভাই ইংল্যান্ড থেকে একটা পিঙ্ক বল নিয়ে এসেছিলেন। ওটা নেড়েচেড়ে দেখেছি। গত নিউজিল্যান্ড টেস্টের আগে উনি দেশে এসেছিলেন। তখন বলটা এনেছিলেন। বল থাকলেও বোলিং প্র্যাকটিস করা হয়নি। তবে, আমি সুইং করেছি।

প্রশ্ন: ঢাকায় কুকাবুরা বলে প্র্যাকটিস করেননি?

রাহি: তখন আমি জাতীয় লিগে ছিলাম। আমি প্র্যাকটিস করলে সুইং বুঝতে পারব। লাল বল ও গোলাপি বলের পার্থক্য বুঝতে পারব। গোলাপি বলে ভারতও খেলেনি। দুই দলের জন্যই নতুন। যারা ভালো খেলবে, তারাই ফল পাবে।

প্রশ্ন: ইন্দোর টেস্টে ভারতের সেরা ব্যাটসম্যানদের আউট করেছেন। দারুণ সুইং করাচ্ছিলেন বল?

রাহি: চেষ্টা করেছি বলটা সুইং করাতে। যেহেতু বেশি মুভমেন্ট পাচ্ছিলাম না, তাই সুইংয়ের ওপর জোর দেই। আর আমি তো সিম বোলার। আমি চেষ্টা করছি, ভালো জায়গায় বোলিং করার।

প্রশ্ন: লাইন-লেন্থ ধরে বল করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

রাহি: ভালো লেন্থ-লাইন ধরে বল করতে হয়। কারণ, লাইন-লেন্থ হলো টেস্ট বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক জায়গায় বোলিং করলে ব্যাটসম্যান ভুল করলে সুযোগ সৃষ্টি হয়। আমিও সেভাবে বল করেছি। এ কারণে বেশ কিছু সুযোগ এসেছে।

প্রশ্ন: বোলিংয়ের কোন জায়গায় পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ?

রাহি: প্রথম ম্যাচে অনেক বাউন্ডারি বল দিয়েছি আমরা। ওগুলো কম হলে ভালো হতো।

প্রশ্ন: ভারতের তিন পেসার খুব ভালো মানের। লাইন-লেন্থ ধরে বল করে। তাদের বোলিং দেখে কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে?

রাহি: হ্যাঁ, অবশ্যই শেখার ছিল। উনারা এত সিনিয়র বোলার, অনেক টেস্ট খেলছেন। শামি (মোহাম্মদ শামি) ভাইয়ের বল ফলো করেছি। শামি ভাইয়ের সঙ্গে কালও কথা বলছি। যেহেতু শামি ভাইয়ের সঙ্গে আমার একটু মেলে, আমরা দু'জনই সিম বোলার। আমি শামি ভাইয়ের বল অনেক সময় দেখছি। মাঠের ভেতরে যখন ছিলেন, তখন শামি ভাইয়ের বলগুলা মনোযোগ দিয়ে দেখেছি। মাঝে মধ্যে হাইটও মিলিয়েছি যে, দেখি আমার থেকে হাইট বেশি না। আমার সমান। তখন ভেতর থেকে মনে হয়েছে, চেষ্টা করলে শামি ভাইয়ের মতো বল করতে পারব।

প্রশ্ন: টেস্টের পর কোচিং স্টাফ কথা বলেছেন?

রাহি: অবশ্যই। আমি মাঠে এসেছি এজন্য যে, এই গোলাপি বলের বিষয়ে আলোচনা করব। নতুন বল, তাই মুভমেন্ট একটু দেখা উচিত। আসলে কোচ বলেছেন, বেশি ভেবে লাভ হবে না। চাপ বাড়বে। খামোখা চাপ বাড়িয়ে লাভ কী। আরও বলেছেন, ইন্টার ব্যাটসম্যানদের বোলাররা কত বোলিং করছে। ওরা ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে। এই ভাবে বোলিং করলে ভালো হবে। ওদের লাইনটা দেখার চেষ্টা করব। ওরা একই লাইনে বোলিং করে। আমিও একই জায়গায় বোলিং করার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: এবাদতের সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতাগুলো ভাগাভাগি করেন?

রাহি: অবশ্যই। এবাদত একদম নতুন বলতে গেলে। আমিও নতুন। মাত্র ছয়টি টেস্ট খেলেছি। এবাদতের তিনটি টেস্ট হয়েছে। এবাদত কিন্তু ভালো বোলিং করেছে গত ম্যাচে। এবাদতের সঙ্গে আমার কথা হয়ছে বা ন্যাশনাল লিগ থেকে কথা হচ্ছে। লাইনটা একটু এগিয়েছে। এখন ভালো ছন্দে আছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে তো পেস বোলারদের খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নিশ্চয়ই খারাপ লাগে?

রাহি: না, এরকম কিছু না। সবসময় আমার একটাই চেষ্টা থাকে, যখন ম্যাচ খেলব তখন যেন ভালো খেলি। এর আগে একটা পেস বোলার খেলিয়েছে, সেখানে আমি খেলেছি। তখনও চেষ্টা করেছি, পরবর্তী ম্যাচে যেন নিজেকে প্রমাণ করতে পারি।

প্রশ্ন: এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে মোটিভেট করেন কী করে?

রাহি: আমি সবসময় আমার প্ল্যানে থাকি। চেষ্টা করি, সব জায়গায় ভালো ক্রিকেট খেলতে। 'এ' দল, এইপি বা জাতীয় দল- আমার একটাই মোটিভেশন, ভালো খেলা। প্রথম টেস্টেও সেটাই করার চেষ্টা ছিল। বিরাট বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। তার উইকেট পাওয়া স্বপ্নের মতো। এটা ড্রিম উইকেট। অবশ্যই বিরাট কোহলি আমার লাইফের ড্রিম উইকেট।

প্রশ্ন: ক্যাচ ফেলে না দিলে পাঁচ উইকেট হতে পারত। ক্যাচ ফেলায় হতাশ?

রাহি: হতাশ না। ক্যাচ ছুটে যাওয়া ক্রিকেটেরই অংশ। মিস হয়ে গেলে তো কিছু করার নেই। আমি যদি এই মিস নিয়ে বসে থাকি, তাহলে খারাপ হবে। সাইফ কিন্তু একটা ভালো ক্যাচ ধরেছে। খুব ভালো ক্যাচ ধরেছে। এটাও তো পার্ট অব ক্রিকেট।

আরও পড়ুন

×