পাকিস্তান সফরে যেতে ক্রিকেটারদের জোর করবে না বিসিবি
নাজমুল হাসান পাপন- ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫২
মুমিনুলদের পাকিস্তান সফর আগামী বছর জানুয়ারির শেষের দিকে। দুই টেস্ট আর তিনটি টি২০ ম্যাচের সিরিজ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দ্বিপক্ষীয় এ সিরিজটি আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও বিসিবি থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে শনিবার জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মূলত সরকারের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। তবে পাকিস্তান খেলতে যাওয়া শুধু সরকারের ছাড়পত্রের ওপরই নির্ভর করছে না, ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পাপন জানান, ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে যেতে না চাইলে কোনোরকম জোরাজুরি করা হবে না। নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তানে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা হয় না। গত চার বছর জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলংকা সেখানে টি২০ সিরিজ খেললেও নিরাপত্তা ভীতি কাটেনি। শ্রীলংকা দলও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে দুই ভাগে। প্রথমে টি২০ সিরিজ খেলেছে। এবার খেলছে টেস্ট সিরিজ। বিসিবিও চেয়েছিল শ্রীলংকার মতো দুই ভাগে টি২০ ও টেস্ট সিরিজ খেলতে। পিসিবিকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পিসিবি চায়, বিরতিহীন পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে। লাহোর ও করাচিতে টেস্ট খেলাতে চায় তারা। করাচি টেস্টকে দিবারাত্রির করার প্রস্তাবও করেছে তারা। পিসিবির প্রস্তুতি দেখে যে কারও মনে হবে, মাহমুদুল্লাহদের পাকিস্তান সফর হচ্ছে।
শনিবার বিসিবি সভাপতির কথাতেও সে রকম ইঙ্গিত ছিল, 'এর আগে মেয়েদর টিম গেছে, এইচপি দল গেছে। জাতীয় দলের ছাড়পত্র এখনও আমরা পাইনি। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি, আমরা নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়ে যাব। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর বলতে পারব আমাদের সিদ্ধান্ত কী হবে। কারণ তখন খেলোয়াড়দের মতামত জানতে চাওয়া হবে। তাদের মতামতও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পরই আমরা বসব। আশা করছি, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এটার একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।'
শ্রীলংকান ক্রিকেটাররা খেলেছেন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে, যেন যুদ্ধের ময়দানে কোনো সেনা ব্যারাকে। এ ধরনের পরিবেশে ক্রিকেট খেলা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন বিসিবির পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারের মধ্যেও পাকিস্তান সফর নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। গতকাল তাদের জন্য সুখবরই দিলেন বিসিবি সভাপতি পাপন, 'কেউ যেতে না চাইলে, যাবে না। এটা তো জোর করার কিছু নেই। বোর্ড থেকে কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না। এটা হলো এখন পর্যন্ত আমার চিন্তা। কাউকে জোর করে পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিকল্প দল যাবে নাকি ওরাই যাবে, সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।' বিসিবি সভাপতির এই কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক বাংলাদেশ।
- বিষয় :
- বিসিবি
