ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

'স্থানীয় ভালো কোচরা সুযোগ পেতেই পারেন'

'স্থানীয় ভালো কোচরা সুযোগ পেতেই পারেন'
×

ছবি: ফাইল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:২৭

জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট বিসিবির চাকরি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকায়। বিসিবিও তার চলে যাওয়ায় আপত্তি করেনি। বরং ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার অনুরোধে সাড়া দিয়ে ছাড়পত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি ল্যাঙ্গেভেল্টকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। খবরটি কানে আসার পরই নিজের ইচ্ছার কথাই মিডিয়ার সামনে বলে দিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন, 'আমার পেশা তো কোচিং, জাতীয় দলের ব্যাপারে আগ্রহের ব্যাপার অবশ্যই আছে।'

জাতীয় দলের সঙ্গে তার সম্পর্কটা বেশ পুরোনো এবং বিতর্কিতও। সম্প্রতি জাতীয় দলের প্রধান কোচ হয়ে শ্রীলংকা সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে কলম্বোর ক্যাসিনোতে গিয়ে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। সদ্য শূন্য হওয়া এ পদের জন্য নতুন একজনকে খুঁজতে হবে বিসিবির। তবে বোর্ড চাইলে বোলিং কোচ চেয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। দেশি কোচদের মধ্যে থেকেও একজনকে নিয়োগ দিতে পারেন তারা। এ পদের যোগ্য প্রার্থী দেশে আছে বলেই মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি নিজেও জাতীয় দলের বোলিং কোচ হতে আগ্রহী।

জাতীয় দলের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে মাহমুদের। জেমি সিডন্সের সময়ে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। প্রধান কোচের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের ভেতরেই চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া জাতীয় দলে আপৎকালীন কোচ ছিলেন দু'বার। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আর শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কোচিং ডিরেক্টর করা হয়েছিল তাকে। বিশ্বকাপের পর স্টিভ রোডসকে চাকরিচ্যুত করার পর প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে শ্রীলংকা গিয়েছিলেন তিনি। এই দুই সিরিজেই খারাপ ফল করে বাংলাদেশ। রাসেল ডমিঙ্গোকে নিয়োগ দেওয়ার আগেও প্রধান কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি, যদিও মুশফিকদের কোচ হতে বিসিবিতে সে সময় আবেদন করেননি। মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।

এবারও মিডিয়ার মাধ্যমেই বোলিং কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথা জানালেন, 'এর আগেও দু'বার আমি বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। বলাই ছিল যে, একটা সময়সীমার জন্য। তারপরও ধরুন যখন বাদ পড়ি, রেজাল্ট খারাপ হয়, তখন খারাপ লাগে। আমি এর আগেও বলেছিলাম, দীর্ঘ সময়ের জন্য কোচ করলে ভালো। একটা ট্যুরে দল গোছানো কঠিন। বাংলাদেশ দলকে আমি খুব কাছ থেকে দেখি, ছেলেদের ভেতরটা জানি।'

তবে একটা বাস্তবতাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি বিসিবির এ পরিচালক। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে খুলনার প্র্যাকটিস চলাকালে মিডিয়াকে তিনি বলেন, 'খেলোয়াড়দের কাছেও কোচ হিসেবে আমাদের (স্থানীয় কোচ) কতটা গ্রহণযোগ্যতা আছে সেটা একটা ব্যাপার। আর বিদেশি কোচের ব্যাপারে তো সবার মধ্যেই একটা উত্তেজনা থাকে। সেটিও একটা ব্যাপার।'

লোকাল কোচদের ব্যাপারে বিসিবির দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি, 'বাংলাদেশে যারা ভালো কোচিং করাচ্ছে, এখন তাদের একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে। আমি জেমস ফস্টারের কথাই বলি, খেলা ছেড়ে দেওয়ার এক বছরের মধ্যে বিপিএলের প্রধান কোচ হলেন। সে সুযোগটা কিন্তু আমাদের ছেলেদের নেই। বিসিবির উচিত স্থানীয় কোচদের তুলে আনা কাজের সুযোগ করে দেওয়া।'

শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তানের কোচদের উদাহরণ টেনে খালেদ মাহমুদ বলেন, 'শ্রীলংকায় দেখুন, সেখানকার অনেক কোচ বিদেশে কোচিং করাচ্ছে। পাকিস্তান-ভারত দলে স্থানীয় কোচ কাজ করছে। সেখানে আমরা নিজের দেশেই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি না।' বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, দেশি কোচরা স্কিলে পিছিয়ে। বোর্ড সভাপতির এ দাবির সঙ্গে একমত নন খালেদ মাহমুদ, 'পাপন ভাই কেন বলেছেন আমি জানি না। আমি মনে করি না, স্কিলের দিক থেকে পিছিয়ে আছে।'

আরও পড়ুন

×