উপেক্ষার আগুনে পুড়ছিলেন রানা
ছবি: বিসিবি
...
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০০:৫২
কিছুদিন আগেও অখ্যাত একজন বোলার ছিলেন মেহেদী হাসান রানা। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে এসএস গেমসের স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য হলেও প্রচারের আলোয় আসার মতো তেমন কিছু করতে পারেননি। বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সে খেলার সুযোগ পেয়েই নিজেকে চেনালেন তিন ম্যাচে আট উইকেট নিয়ে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে মেহেদী হাসান রানার সঙ্গে কথা হয় সেকান্দার আলীর।
সমকাল: বিপিএলে প্রথমে দল পাননি। যখন পেলেন তখন ভালো কিছু করার জন্য কতটা উদগ্রীব ছিলেন?
মেহেদী রানা: একটু খারাপ লাগছিল এই ভেবে যে, এ বছর সবাই খেলবে, আমি খেলব না। তবে ভেতরে একটা বিশ্বাস ছিল, কোনো না কোনো কিছু হবে। রংপুরের সঙ্গে একদিন প্র্যাকটিস করলাম। পর দিন রাতে ইমরুল ভাই ও রিয়াদ ভাই আমাকে ফোন করে বললেন- আমাদের দলে তোমাকে নেওয়া হয়েছে, অন্য কোনো দলে প্র্যাকটিস করার দরকার নেই। উনাদের কথামতো পরদিন প্র্যাকটিসে গেলাম। রিয়াদ ভাই বললেন, তুমি প্রস্তুত থাকো ম্যাচ খেলবা। ভালো হওয়ায় একটা আত্মবিশ্বাস এসে গেছে।
সমকাল: ক্যারিয়ারের জার্নি নিয়ে বলবেন, কীভাবে এত দূর এলেন?
মেহেদী রানা: চাঁদপুর থেকে একটা সময়ে বিকেএসপির ক্যাম্পে গেলে সেখান থেকে বলেছিল, তোমার স্কিলে আর একটু ভালো করতে হবে, আগামী বছর আসো। পরের বছর গেলাম ও ট্রেনিং নিলাম। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ এবং ১৮ টুর্নামেন্টে খেলি। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলংকার সঙ্গে সিরিজ খেলি। কিন্তু ইংল্যান্ডে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ আর খেলা হয়নি। সুস্থ হয়ে ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে খেলি। বিশ্বকাপের পর আবার আমি ইনজুরিতে পড়ি। স্পোর্টস হার্নিয়া হয়েছিল। ওই কারণে ১৮ মাস আমার খেলার বাইরে থাকতে হয়েছে। এক বছর যত ধরনের খেলা হয়েছে, আমি তার বাইরে ছিলাম।
সমকাল: ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে কারও অবদান- কোনো কোচ?
মেহেদী রানা: অনেক কোচই ছিলেন। প্রথম যার কাছে শিক্ষা নিই তিনি ইমতিয়াজ স্যার। বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের ছাত্র তিনি। এরপর বিভাগীয় কোচেরও অবদান আছে। জাতীয় পর্যায়ে জাকি স্যার, এহসান স্যার আছেন।
সমকাল: এসএ গেমস থেকে ফিরেই বারুদ বোলিং, কীভাবে সম্ভব করলেন?
মেহেদী রানা: এসএ গেমসে ভালো হয়নি। তখন চিন্তা করছিলাম, পরে যেখানেই সুযোগ পাব শতভাগ দিয়ে খেলব। সেটাই করছি।
সমকাল: প্রত্যেক বোলারের একটা বিশেষত্ব থাকে, যেমন মুস্তাফিজের কাটার, আপনার কী?
মেহেদী রানা: আমার সুইং আছে। অন্য ভেরিয়েশন আছে। তবে সুইংয়ে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেই। ইনসুইং করি।
সমকাল: পরবর্তী টার্গেট?
মেহেদী রানা: অবশ্যই স্বপ্ন আছে। স্বপ্ন তো একটাই, জাতীয় দলে খেলা। আমার যখনই সুযোগ আসবে আমি চাইব শতভাগ দেওয়ার।
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯
- মেহেদি রানা
