ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাতীয় দলে নিয়মিত হচ্ছে দেশি কোচ

জাতীয় দলে নিয়মিত হচ্ছে দেশি কোচ
×

আফগানিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে রাজিনকে। - ফাইল ছবি

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ২৩:১৭

জাতীয় দলের সঙ্গে দেশি কোচ রাখার নিয়ম করা হয়েছিল ২০১০ সালে আ হ ম মুস্তফা কামাল বিসিবি সভাপতি থাকার সময়। তখন সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজনকে। জেমি সিডন্সের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। তবে জেমির সঙ্গে লম্বা সময় কাজ করেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সহকারী কোচ, ফিল্ডিং কোচ- দুই ভূমিকাতেই দেখা গেছে তাকে। বিসিবি সভাপতির পদ থেকে মুস্তফা কামাল চলে যাওয়ার পর দেশি কোচদের সেভাবে জাতীয় দলে রাখা হয়নি। কালেভদ্রে আপৎকালীন দায়িত্ব পালন করেন কেউ কেউ। এখন থেকে জাতীয় দলে নিয়মিতই দেশি কোচ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, প্রতিটি বিভাগে একজন করে দেশি কোচ নিয়মিত রাখতে চান তারা। মূলত দেশি কোচদের শেখার সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া বলে জানান তিনি।

মুমিনুল হকদের নিউজিল্যান্ড সফরে ফিল্ডিং কোচ করা হয়েছিল মিজানুর রহমান বাবুলকে। গত বছর এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচ ছিলেন তালহা জুবায়ের। সোহেল ইসলাম বেশ কয়েকবার ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। খালেদ মাহমুদ সুজন তো প্রধান কোচ হিসেবে শ্রীলঙ্কা গেছেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর। পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে টিম ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। এবার তার অধীনে জাতীয় দলে দেশি কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তান সিরিজ থেকে। রাজিন সালেহকে করা হয়েছে ফিল্ডিং কোচ। তবে বিসিবি থেকে প্রস্তাব পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে পারছেন না তিনি। জালাল ইউনুস জানান, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট দলের সঙ্গে চুক্তি থাকায় এ সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কাজ করবেন রাজিন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বিদেশি ফিল্ডিং কোচ নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তিনি হতে পারেন ট্রেভর পেনি। সেক্ষেত্রেও সহকারী রাখা হতে পারে দেশি কোচ। এ ব্যাপারে জালাল ইউনুস বলেন, 'রাজিন সালেহকে দুই সিরিজের জন্য বলেছিলাম। লিগের কারণে সে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে পারবে না। তবে আমার চিন্তাভাবনা হচ্ছে এখন থেকে একজন করে দেশি কোচ জাতীয় দলের সঙ্গে রাখা। সেটা ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং, সহকারী কোচও হতে পারে। যাতে তারা নিজেরা শিখতে পারে এবং খেলোয়াড়রাও কমফোর্ট জোনে থাকে।'

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন পেস বোলিং কোচ হিসেবে চম্পকা রমানায়েকের কথা বলা হলেও বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি তাকে। বর্তমানে লন্ডনে থাকা চম্পকা ঢাকায় পৌঁছাবেন ২৩ ফেব্রুয়ারি। টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজে হয়তো থাকতে পারবেন না। তবে তাকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যেতে চায় বিসিবির। জালাল ইউনুস বলেন, 'চম্পকা লন্ডনে আছে। ও ঢাকায় ফেরার পর কথা বলব। চামিন্দা ভাসের পরিকল্পনা থেকে আমরা সরে এসেছি। চম্পকা রাজি থাকলে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ করতে চাই।' বিসিবি থেকে প্রস্তাব পেলে ভেবে দেখবেন চম্পকা। তিনি জানান, 'বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব পাইনি। জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব পেলে আমি ভেবে দেখতে পারি। তবে আমি এইচপিতে ভালো আছি। পেস বোলার তৈরি করতে পারছি। জাতীয় দলের বিষয়টি এখনও জানি না। কথা হলে বলতে পারব।' ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশ টাইগার দলের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন চম্পকা। জাতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে ১০ দিনের ক্যাম্পটি হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে।

আরও পড়ুন

×