শেয়ারবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস যুগের অবসান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৭:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইস যুগের অবসান হয়েছে। গত সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে পুনর্গঠিত কমিশনের প্রথম সভায় অবশিষ্ট দুই কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার যা কার্যকর হয়েছে।
বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নিয়েই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো দেশের শেয়ারবাজারে আর কখনোই ফ্লোর প্রাইস ফিরবে না। অব্যাহত দরপতনের মুখে ২০২০ সালের মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল ড. খায়রুল হোসেনের কমিশন। পরে শিবলী রুবাইয়াত কমিশন ২০২১ সালের ১৭ জুন প্রত্যাহার করে নেয়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই শিবলী রুবাইয়াত কমিশন শেয়ারবাজারের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল। তাতেও দরপতন বন্ধ হয়নি। উল্টো লেনদেন তলানিতে নামে। এ অবস্থায় একাধিক দফায় ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে ওই কমিশন। সর্বশেষ ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস বহাল রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাকি সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছিল।
ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর উভয় কোম্পানির শেয়ারদরে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত প্রায় ১০ শতাংশ হারে পতন হয়েছে। এই বড় দুই কোম্পানির বড় দরপতন সত্ত্বেও শেয়ারবাজার সূচক বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫১৯ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
গতকালের ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ২০ পয়সা কমায় মূল্য সূচক অন্তত ২০ পয়েন্ট হারায়। অন্যদিকে বেক্সিমকো লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারপ্রতি ১১ টাকা কমে ৯৯ টাকা ১০ পয়সায় নেমেছে। তবে সূচকে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কারণ এ শেয়ারটি এখন সূচকে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন সূচকে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও গতকাল অন্য ব্যাংকসহ বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫১ কোম্পানির মধ্যে ২৩৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮০টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৭টির।
এদিকে গতকাল শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। শুধু ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের থেকে ৩১৫ কোটি টাকা বেশি।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার