ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্কিমিং ফাঁদ কী ও কেন

স্কিমিং ফাঁদ কী ও কেন
×

.ডিজিটাল লেনদেনে ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপে প্রয়োজন সতর্কতা কার্ডের সক

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৪ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৮:৩৯

ইনস্টাগ্রামে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সোয়াইপ প্রতারণার কথা বর্ণনা করে ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। অল্প সময়ের মধ্যে ওই ভিডিও লক্ষাধিক ভিউ ও শেয়ার হলে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা নড়েচড়ে বসেন। ইতোমধ্যে ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েকটি দেশের পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা সাধারণ গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ডে সোয়াইপ পদ্ধতিতে লেনদেনে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছেন।

ঘটনার নেপথ্যে

জ্বালানির প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করেছেন কোনো অচেনা আর নির্জন পেট্রোল পাম্পে। জ্বালানি তেল নেওয়া শেষে বিল পরিশোধ করবেন গ্রাহক। পাম্পের কর্মীকে তিনি বললেন, বিল দেবেন, কিন্তু ক্রেডিট কার্ডে।

বিল পরিশোধে পেট্রোল পাম্পের কর্মী তখন পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন এগিয়ে দিলেন। প্রথমবার কার্ডটি সোয়াইপ করে পিন নম্বর দিলেন গ্রাহক। কিন্তু বিল পেমেন্ট হলো না। দ্বিতীয়বার সোয়াইপ হলো, এবারও পেমেন্ট প্রসেস অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। তৃতীয়বারে সোয়াইপ করার পর অবশেষে পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। জ্বালানি মূল্য পরিশোধ করে গ্রাহক পাম্প থেকে চলে গেলেন। কিন্তু ঠিক তার কয়েক সপ্তাহ পরে ওই গ্রাহকের কাছে যখন ক্রেডিট কার্ডের মাসিক বিল পৌঁছাল, তখন বিস্ময়ে দেখলেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রায় লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এর বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না; আসেনি কোনো ইমেইল বা মেসেজের বার্তা।

আসলে ঘটনা কী
সাধারণ ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এমন প্রতারণা কৌশল নতুন করে সামনে এলো। বিশ্বের বেশ কিছু দেশে কয়েক বছর ধরে এমন কৌশলে ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অনেক ঘটনা ঘটে। একেই বলা হচ্ছে স্কিমিং।

সহজ ভাষায়, স্থানীয় কোনো এটিএম বুথ থেকে অর্থ তোলার সময় কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান বা ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো সেই ভিডিওর মতো পেট্রোল পাম্পে কার্ডে টাকা তোলা বা বিল পরিশোধের সময়ে এটিএম বা পিওএস মেশিনে বিশেষ যন্ত্র স্থাপন করা হয়।

যখন ঝুঁকিপূর্ণ
বিল পরিশোধে গ্রাহক যখন কার্ড সোয়াইপ করে, তখন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের সব ধরনের গোপন তথ্য, যেমন– কার্ড নেম, এক্সপায়ারি ডেট, সিভিভি এমন সব কপি করে নেয় প্রতারক চক্র। পরে স্কিমিং মেশিনের সঙ্গে কখনও গোপন ক্যামেরা জুড়ে দেয়।

এতে গ্রাহক সোয়াইপ করার পরে গোপন পিন নম্বর জেনে যায় চক্রটি। তারপর সেই কার্ড ব্যবহার করে অর্থ তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এটিএম কাউন্টারে স্কিমিং যন্ত্র বসিয়ে অনেক গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। বিশেষ এমন কাজে পারদর্শী হিসেবে সামনে আসে নাইজেরিয়ান ও রোমানিয়ান কয়েকটি গ্যাংয়ের নাম।

জানা গেছে, প্রতিটি ঘটনার পরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ব্যাংক এটিএম পরিষেবায় এখন এমন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেন কেউ স্কিমিং মেশিন নিয়ে প্রতারণা করতে গেলেই কর্তৃপক্ষ তা তাৎক্ষণিক জানতে পারে।

কিন্তু পিওএস মেশিনে কেউ স্কিমিং মেশিন স্থাপন করছেন কিনা, তার ওপরে সব সময় নজর রাখা সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র পিওএস যন্ত্রে স্কিমিং মেশিন ও গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত প্রতারক চক্র এমন পেট্রোল পাম্প বা বিপণিকেন্দ্র নির্বাচন করে, যার অবস্থান অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি। যে স্থান প্রায় নির্জন। চলতি পথে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক বাধ্য হয়ে সেখানে জ্বালানি নিতে আসেন। বিল পরিশোধের সময় তাড়াহুড়োয় পিওএস মেশিনে কোনো কারচুপি বা আলাদা যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা যাচাই করার সময় থাকে না। 

তাই সাধারণ গ্রাহকের উদ্দেশে সাইবার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শে বলেছেন, কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করার প্রয়োজনে অবশ্যই যাচাই করতে হবে সোয়াইপিং যন্ত্রে কোনো বাড়তি যন্ত্র বা ক্যামেরা দৃশ্যমান রয়েছে কিনা। সন্দেহ হলে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
অপেক্ষাকৃত ফাঁকা বা নির্জন অঞ্চলে কার্ড ব্যবহার করে পরিষেবা বা পণ্যমূল্য পরিশোধ না করাই ভালো। সম্ভব হলে যত্রতত্র ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। কোনোভাবে এমন বেআইনি লেনদেন হয়েছে জানামাত্রই আগে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে কার্ড ব্লক করার উদ্যোগ নেওয়া। কার্ডের পিন নম্বর মাঝেমধ্যে বদলে ফেলা। 

আরও পড়ুন

×