ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যত্রতত্র ডিজিটাল লেনদেনে ঝুঁকি

যত্রতত্র ডিজিটাল লেনদেনে ঝুঁকি
×

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:০০

শহুরে চলার পথে ব্যাংক বুথের ভিড় রাস্তা ছুঁয়েছে। এমন জায়গায় স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন কিন্তু কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। অনেকে আবার হোটেল বা ক্যাফেতে বসে ইন্টারনেট সংযোগে ল্যাপটপে জরুরি কোনো কাজ করছেন– এমন যে কোনো পাবলিক প্লেসে কিন্তু আপনার গ্যাজেটে ঢুঁ দিয়ে তথ্য বাগিয়ে নেওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়।

অতি গোপন পাসওয়ার্ড বা জরুরি ডেটা চুরি যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিষয়টি হয়তো অনেকের জানা। কিন্তু অনেকে এখনও সতর্ক থাকতে ভুলে যাই। ডিজিটাল লেনদেনে কতটা ঝুঁকি রয়েছে বা কীভাবে বাড়তি সতর্ক হওয়া যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন।

বুথের ড্যাশ বোর্ড

ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারে টাকা উত্তোলনের সময়ে ভালো করে দেখে নিন, অন্য কেউ আশপাশে রয়েছে কিনা। বুথের ভেতরে দুটি মেশিন থাকলে এটিএম ব্যবহারের সময় কি- বোর্ড কিছুটা বা যথাসাধ্য আড়াল করবেন।

আপনার আঙুলের নড়াচড়া পাশের লোকটি যেন কোনোভাবেই অনুমান করতে না পারেন। অধিকাংশ ব্যাংক এটিএম আপগ্রেড করলে পুরোনো এটিএমে স্কিমিং মেশিন ও গোপন     ক্যামেরা দিয়ে কার্ডের তথ্যে নজরদারি করে থাকতে পারে। সুতরাং কার্ড সোয়াইপের সময়ে তা অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। ট্রানজেকশন শেষ করার পরে এটিএম ড্যাশ বোর্ডের ক্যানসেল বাটন প্রেস করতে ভুল করা যাবে না।

স্ক্রিন লক

আবার সাইবার ক্যাফেতে বসে কোনো ধরনের অনলাইন ট্রানজেকশন না করাই শ্রেয়। জরুরি না হলে খেয়াল করতে হবে, দূর থেকে পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে বা বসে নজরদারি করছে কিনা।
ল্যাপটপ নিয়ে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় বসে অফিস বা ব্যবসার কাজ করার ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে।

ঠিক ওই মুহূর্তে আশপাশের কেউ ল্যাপটপ বা ডিভাইসে দৃষ্টিপাত করছে কিনা, তা দেখা প্রয়োজন। কাজ করার সময় ল্যাপটপ বা যে কোনো ডিজিটাল গ্যাজেট টেবিলে রেখে জরুরি প্রয়োজনে উঠতে হলে অবশ্যই স্ক্রিন লক করে যেতে হবে। অর্থাৎ যে কোনো ডিজিটাল পেমেন্টে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক থেকে লেনদেন করতে হবে। তা না হলে ঘটবে বিপত্তি আর তৈরি হবে বিভ্রাট।

কার্ড পেমেন্ট

অনলাইন, শপিংমল, রেস্তোরাঁ বা দোকানে কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধের সময় পিন নম্বরে কেউ খেয়াল করছে কিনা, তা দেখতে হবে। যে কোনো রেস্তোরাঁ বা কোথাও কার্ডে পেমেন্টের সময়ে পিন নম্বর কোনোভাবেই ক্যাশ কাউন্টারের ব্যক্তির কাছে শেয়ার করবেন না।

অনেক জায়গার ক্যাশ কাউন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফলে পিন নম্বর দেওয়ার সময়ে অন্য হাত দিয়ে পিওএস মেশিনের স্ক্রিন অবশ্যই আড়াল করা প্রয়োজন।

সিভিভি কোড

অফিস বা ব্যবসার কাজের জন্য পাবলিক প্লেসেই অনেক সময়ে ফোনে সহকর্মী বা পরিচিতজনের কাছে কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড, এটিএম কার্ডের পিন বা সিভিভি নম্বরের মতো জরুরি তথ্য দিতে পাশের ব্যক্তি তা শুনতে বা দেখতে পারে।

তাই এসব তথ্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের কোনো জরুরি তথ্য পাবলিক প্লেসে টাইপের প্রয়োজন হলে অবশ্যই তা আড়াল করতে হবে। অন্য কেউ যেন তা গোপনে দেখে নিতে না পারে।

গ্যাজেটের সব ধরনের অ্যাপ বা অ্যাকাউন্ট

টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন রাখা প্রয়োজন, যেন সাইবার প্রতারক এতে অনুপ্রবেশ ( ব্রেক) করতে ব্যর্থ হয়।

টার্গেট টু হ্যাক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিঙ্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় গেটওয়ে, যা অন্য ডিভাইসের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তখন সাইবার চক্র নিজের ইচ্ছামতো টার্গেটকে ব্ল্যাকমেইল করে। জনবহুল কোনো জায়গায় ওয়াইফাই পাস হচ্ছে আরেকটি বিপজ্জনক গেটওয়ে। অনেকে ব্লুটুথ থেকেও আশপাশে ব্যক্তির ডিভাইসে লগইন নিয়ে নেন। ভুক্তভোগী তা বুঝতেই পারেন না। চলতি বছরে সাইবার হামলার পরিসীমা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ঠিক সে কারণেই সবাইকে নিরাপত্তার প্রশ্নে বারবার সতর্ক করছে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সব ধরনের সংস্থা।

বছরের শেষভাগে আর্থিক লেনদেনে আরও জটিল সব ফাঁদ তৈরি হবে। এ বিষয়ে পরামর্শ ও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কাছে প্রায় প্রতিদিন সতর্কবার্তা দিয়ে ইমেইল আর মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×