ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্ক্যান থেকে স্ক্যাম

স্ক্যান থেকে স্ক্যাম
×

কিউআর কোডে বেশ কিছু প্রতারণার ফাঁদ তৈরি হয়েছে

সাব্বিন হাসান 

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:১০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৩১

হরহামেশা ক্যাশলেস পদ্ধতির জটিল সব ফাঁদে পড়েন সাধারণ গ্রাহক। জানা গেছে, সারাদেশে কিউআর কোডের ব্যবহার করে অন্তত ২৫ রকমের পদ্ধতিতে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি রয়েছে। কারণ, কিউআর কোড তৈরির প্রক্রিয়া বেশ সহজ। প্রতারক কেন, সাধারণ যে কেউ মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে এই কোড তৈরি করতে পারবেন।

এর আগে প্রতারক চক্র জ্বালানি তেল সরবরাহের পাম্পে বা পথের ধারে দোকানের বাইরে ঝুলিয়ে রাখা কিউআর কোডের ওপর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব জুড়ে দিয়ে বিশেষ কোড দৃশ্যমান করে। ফলে কেউ যে কোনো ধরনের পেমেন্ট করার সময় ওই স্থানে স্ক্যান করলে টাকা সরাসরি পৌঁছায় প্রতারকের ব্যাংক খতিয়ানে।

শুধু এই পদ্ধতি কেন, আরও কয়েক ধরনের পদ্ধতি শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ম্যালওয়্যারযুক্ত প্লাগ-ইন ব্রাউজার প্রতিস্থাপন করে দেওয়া। যদি কোনোমতে এই ম্যালওয়্যার ডিভাইসে প্রবেশ করে, তখন প্রতারক ওই কোড ব্যবহার করে ব্যাংকের হিসাব থেকে যে কোনো পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে পারবে।

কীভাবে কাজ করে

প্রশ্ন আসতে পারে, কীভাবে কাজ করে এমন পদ্ধতি। উদাহরণে বলা যায়, যে কেউ এমন কিউআর কোড স্ক্যান করা মাত্রই ব্রাউজারে স্বয়ংক্রিয় প্লাগ-ইন ইনস্টল হয়ে যায়। আদতে তা ক্লাউড নাইট ম্যালওয়্যার। আক্রান্তের ডিভাইস থেকে এর অটোফিল ডিটেইল হাতিয়ে নেওয়া তখন সহজ হয়ে যায়।

অটোফিল ডিটেইল কী

এটি এমন কৌশলগত পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া, যেখানে আক্রান্তের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে অনেকে গুগল বা অন্যসব ফরম পূরণ করেন। চাকরি বা কোনো প্রশিক্ষণ করা বা জিনিস কেনা, এমনকি কোনো সংস্থার জরিপের (সার্ভে) প্রয়োজনে যে ফরমে নিবন্ধন করা হয়, সেখানে প্রয়োজনে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, কার্ড নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর– এমন কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া হয়, সেখানে বাধ্য হয়েই বসাতে হয় পাসওয়ার্ড কোড। এমন তথ্যের প্রায় সবকিছু অধিকাংশের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

অনেকেই সেখানে ওকে অপশনে গিয়ে তা চেপে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার যে কারও মোবাইলের ব্রাউজারে যদি ক্লাউড নাইনের মতো ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে, তাহলে সেটি খুব গোপনে ও ক্রমান্বয়ে সেই অটোফিলে সংরক্ষিত থাকা তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। যার মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্যের পরিমাণ বেশি। সুতরাং যে কোনো কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় অবশ্যই আমলে নিতে হবে অটোফিল সিস্টেমের মাধ্যমে তথ্য যেন ছড়িয়ে না পড়ে। কারণ, ওই সব তথ্য অনেক আগে থেকে ব্রাউজারে সংরক্ষিত হয়ে থাকে।

ইদানীং ব্র্যান্ডশপ বা সুপরিচিত জায়গা থেকে পণ্য কেনার পরও কিউআর কোডের মাধ্যমে বুঝেশুনে পেমেন্ট করতে হবে। ক্লাউড নাইনে পরিষেবার মাধ্যমে এমন পদ্ধতিতে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। যদি এই ম্যালওয়্যার মোবাইল বা ল্যাপটপে প্রবেশ করে, তাহলে সেখান থেকে অনেক ধরনের গোপন তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রান্তের ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি অপ্রত্যাশিত সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শে বলেছেন, কঠিন প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে মাঝেমধ্যে নিজের সব ডিভাইসের ব্রাউজার কিছুদিন পরপর যাচাই করা শ্রেয়। অন্যদিকে, যে কোনো প্রয়োজনে অনলাইন ফরম পূরণে বিশেষ সময়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অনেকের ব্যবহৃত ডিভাইসের ব্রাউজারে এমন তথ্য সংরক্ষিত রয়ে যায়। আর সেই ফোন চুরি বা খোয়া গেলে ওই ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য থেকে ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

×