সব কাজে একই এআই নয়
না বুঝে অনেকে এআই প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি
সাব্বিন হাসান
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:২৪ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১৯:৩৭
তথ্য সাজানো, চটজলদি স্লাইড বা তথ্যের বিন্যাসে ভালো কাজ করে চ্যাটজিপিটি। অন্যদিকে গবেষণা, সহজ করে লেখা ও অনুবাদের জন্য নোটবুক-এলএম বেশ কার্যকর। ডকুমেন্টকে সহজ করা, গল্পের ছলে জটিল বিষয়কে সহজ করে লেখা– এসব কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদনা করে ক্লড। আগে কাজের ধরন বুঝে কোন টুলটি যথাযথ হবে, তা নির্বাচন করার পরই এগোতে হবে। লিখেছেন সাব্বিন হাসান
চলতি সময় এখন এআই ট্রেন্ডের নিয়ন্ত্রণে। যেন এটি দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো এআই টুল এখন অনেকেই কোনো না কোনো কাজে ব্যবহার করেন। ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট বা অফিস অ্যাপের মতো সব টুলে ইমেইল লেখা, মিটিং সামারি তৈরি, শিডিউল প্ল্যানিং, এমনকি কনটেন্ট তৈরির কাজ করে দিচ্ছে নিমেষে। প্রশ্ন হলো, এর কারণে কি সত্যিই মানবিক উৎপাদন বা প্রোডাক্টিভিটি আদতে বেড়েছে, নাকি না বুঝেই এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি সবাই। দক্ষ অনেকের কাছেই এআই এখন সময় বাঁচানোর দারুণ উপায়।
শিক্ষার্থীরা জটিল গবেষণাকাজ সহজ করতে এটি হরহামেশা ব্যবহার করছেন। সব ধরনের পেশার একঘেয়ে কাজ অটোমেট করছে। ক্রিয়েটররা এখন আগের তুলনায় দ্রুত আইডিয়া জেনারেট করতে পারছে। যে কোনো ইমেইল বা প্রেজেন্টেশন আউটলাইন লিখতে যেখানে আগে ৩০ মিনিট সময় লাগত, এখন তার খসড়া তৈরি হয় মাত্র কয়েক মিনিটেই। এসবের কারণে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির মতো জটিল সমস্যা সামনে দৃশ্যমান হয়েছে।
ইংরেজি সম্পাদনা থেকে শুরু করে সাধারণ সমস্যার সমাধান– সবকিছুতেই এখন এআই প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন ব্যবহারকারীরা। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার দক্ষতা অনেকাংশে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আরেকটি বাস্তব সমস্যা হলো তথ্যের আধিক্য (ইনফরমেশন ওভারলোড)।
এআই খুব দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করে দেয়; কিন্তু তা সব সময় নির্ভুল হওয়ার শর্ত পূরণ করতে পারে না। ফলে এআইর তৈরি করা কাজ পুনরায় যাচাই করা, সম্পাদনা করা বা ভুল সংশোধনের পেছনে বাড়তি সময় দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে যে সময়টা সাশ্রয় হয়, পরে তা যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) করতেই শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে ফেক প্রোডাক্টিভিটির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সারাক্ষণ এআই টুল পরীক্ষা করা, ড্রাফট জেনারেট করা বা প্রম্পট ঠিকঠাক করার পেছনে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়।
অনেকের ধারণা, এআই অনেক কাজ করে দেয়। কিন্তু দৃশ্যত অর্থবহ কাজ করতে ঠিকই সময় ব্যয় করতে হয়, অর্থাৎ মানবিক স্পর্শ ছাড়া ফিনিশিং নির্ভরযোগ্য হয় না। এবার তাহলে প্রশ্ন আসবে,
এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সমাধান কীভাবে আসবে?সদুত্তর হচ্ছে, কাজের ধরন বুঝে টুল নির্বাচন
করে কাজ করতে হবে।
যেসব ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করবেন
পুনরাবৃত্তিমূলক ও একঘেয়ে কাজে;
প্রথম ড্রাফট তৈরি;
আইডিয়া খোঁজা বা ব্রেইনস্টর্মিং করতে বিপুল সংখ্যক তথ্য গুছিয়ে রাখতে।
যা কিছু এড়িয়ে যেতে হবে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা সৃজনশীল ও জটিল চিন্তাভাবনার প্রয়োজনে এআই এড়িয়ে যাওয়া শ্রেয়। এ ছাড়া জরুরি তথ্য বা ফ্যাক্ট যাচাই করার সময়ে এর থেকে বিরত থাকা উচিত। কৃত্রিম মেধা অ্যাসিস্ট্যান্ট তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর, যখন একে মানবিক বুদ্ধিমত্তার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রযুক্তি দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেওয়া অবশ্যই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং এর ব্যবহার কৌশলের সহায়তায় সময় সাশ্রয় করা। সেই সময়টুকু পরিপূর্ণ গভীরতা আর অর্থবহ কাজে বিনিয়োগের মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা দৃশ্যমান হবে।
দাপ্তরিক প্রেজেন্টেশন তৈরির কাজে এখন ক্রমে যা অপরিহার্য হয়েছে, তা হলো এআই। যে কোনো বিষয়ভিত্তিক লেখা, ডেটা সংগ্রহ, নতুন আইডিয়া, এমনকি গবেষণা– সবই যেন করে দেবে এআই। অনেকে প্রেজেন্টেশনের স্লাইডে কী লেখা থাকবে, বক্তব্য তৈরিতে এআইর সহায়তা নেয়।
সাধারণত চ্যাটজিপিটি, নোটবুক-এলএম এবং ক্লড– এ তিনটি এআই টুলকে সাধারণত একই ধারার চ্যাটবট হিসেবে বিবেচনা করা হলেও প্রেজেন্টেশন, পিচ ও ডক তৈরির ক্ষেত্রে এদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাহলে এবার প্রশ্ন আসবে, কোন এআই টুল বেশি উপযোগী। সদুত্তর খুঁজতে সামনে এলো কিছু তথ্যচিত্র। তালিকার শীর্ষে প্রথমেই রয়েছে চ্যাটজিপিটি। অনেকে মনে করেন, আলোচিত তিনটির মধ্যে বর্তমানে চ্যাটজিপিটির রয়েছে সবচেয়ে বেশি অনুসারী।
এ ছাড়া গল্পের ছলে কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝানো, প্রেজেন্টেশন তৈরি, স্টোরিটেলিং বা স্ক্রিপ্টিংয়ে জিপিটি এখনও এগিয়ে।
- বিষয় :
- এআই
- চ্যাটজিপিটি
- চ্যাটবট
- ওপেনএআই
- ক্লড
