বাংলাদেশে বাড়ছে এসইও সেবার চাহিদা, কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে ভাইজার এক্স
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৯ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৯
বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ধীরে ধীরে প্রচলিত মার্কেটিং, যেমন লিফলেট, টিভি বিজ্ঞাপন কিংবা বিলবোর্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সার্চ ইঞ্জিনভিত্তিক মার্কেটিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের মোট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ এখন ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ২০২৬ সালে আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) সেবার চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে, কারণ এখন ব্যবসাগুলো বুঝতে পারছে—গ্রাহক যেখানে সার্চ করছে, সেখানে উপস্থিত থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাড়তে থাকা চাহিদার মধ্যে ঢাকার উত্তরায় অফিস নিয়ে পরিচালিত ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ভাইজার এক্স এসইও এজেন্সি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট টিম জানিয়েছে, গত এক বছরে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এসইও সেবার জন্য যোগাযোগ করছে।
শুধু গুগলেই নয়, এখন ChatGPT, Google AI Overviews, Perplexity-এর মতো এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্মেও মানুষ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে তথ্য খুঁজছে। ফলে শুধু সার্চ ইঞ্জিনে ভালো অবস্থান অর্জন করাই নয়, নতুন প্রজন্মের এআই প্ল্যাটফর্মগুলোতেও দৃশ্যমান থাকা ব্যবসার জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভাইজার এক্স তাদের এসইও কৌশলকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করছে, যাতে ক্লায়েন্টরা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল সার্চের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে।
বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের ৫,০০০-এর বেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাইজার এক্স এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যারা সার্চ ইঞ্জিন থেকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার গ্রোথ বাড়াতে কাজ করে। তাদের পরিচালিত বিভিন্ন এসইও ক্যাম্পেইনে অনেক প্রতিষ্ঠানের অর্গানিক ট্রাফিক ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি মানসম্মত লিডও কয়েকগুণ বেড়েছে।
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানই উপলব্ধি করছে, এসইও কোনো অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। সেই লক্ষ্যেই ভাইজার এক্স এসইও, ডেটাভিত্তিক কৌশল এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জন্য আলাদা পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ফার্নিচার ব্র্যান্ড হাতিল ফার্নিচার-এর জন্য পরিচালিত চার মাসের একটি এসইও ক্যাম্পেইনে প্রতিষ্ঠানটি অর্গানিক ট্রাফিক ১১৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ৪০ লাখের বেশি ইমপ্রেশন অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও ব্র্যান্ডটি সার্চ ইঞ্জিনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
একইভাবে, ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম-এর জন্য পরিচালিত ছয় মাসের একটি এসইও ক্যাম্পেইনে অর্গানিক ট্রাফিক ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২১৬টি নতুন কিওয়ার্ড গুগল সার্চের শীর্ষ অবস্থানে এসেছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি তরুণ সহজেই বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারছেন।
বাংলাদেশের পরিচিত এসইও এক্সপার্ট এবং ভাইজার এক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল মোস্তফা বলেন, এখন মানুষের কেনাকাটা হোক বা কোনো সেবা খোঁজা—সবকিছুর শুরুই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন থেকে। আর এখন সেই সার্চের ধরনও দ্রুত বদলাচ্ছে। গুগলের পাশাপাশি মানুষ ChatGPT, Google AI Overviews, Perplexity-এর মতো এআই প্ল্যাটফর্মেও তথ্য খুঁজছে। তাই এখন শুধু সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন করলেই হবে না, এআই যেভাবে মানুষের তথ্য খোঁজার ধরন বদলে দিচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গেও ব্যবসাগুলোকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। ভাইজার এক্সের লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এমন একটি শক্তিশালী এসইও কৌশল তৈরি করে দেওয়া, যাতে তারা গুগল, ChatGPT, Google AI Overviews, Perplexity সহ নতুন প্রজন্মের সার্চ প্ল্যাটফর্মে আরও ভালোভাবে দৃশ্যমান হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার গ্রোথ নিশ্চিত করতে পারে।
ডিজিটাল প্রতিযোগিতা এবং অনলাইন বিজ্ঞাপনের ব্যয় বাড়তে থাকায়, আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনে বিনিয়োগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এসইও ভবিষ্যতে দেশের ব্যবসার ডিজিটাল গ্রোথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।