হাজীগঞ্জে দোকানের ভেতর স্কুলছাত্রের রক্তাক্ত লাশ
চাঁদপুর প্রতিনিধি ও হাজীগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৪
হাজীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মকিমাবাদ গাইন বাড়ির ফরিদ হোসেনের দোকান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। হত্যার শিকার মারুফ হোসেন রিয়াদ (১৬) গাইন বাড়ির ফারুক মিয়ার বড় ছেলে। সে আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। ঘটনার পর থেকে দোকানে থাকা কর্মচারী ফারুক হোসেন উধাও। সে পার্শ্ববর্তী কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় কাউন্সিলর জাহেদুল আজহার আলম বেপারী বলেন, সকালে দোকানের মালিক ফরিদ কর্মচারী ফারুককে ঘুম থেকে জাগাতে এসে দোকান বন্ধ দেখেন। পরে শাটার ভেঙে দেখেন রিয়াদের লাশ। পুলিশকে জানানো হয়। হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন রনি বলেন, হত্যার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান ও হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ স ম মাহবুব-উল আলম লিপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত রিয়াদের মা রোজিনা বেগম বলেন, ফারুক হোসেনের সঙ্গে একটি মোবাইল নম্বর নিয়ে হট্টগোলের কথা জানতে পেরেছি। এ ছাড়া রিয়াদের চাচা শাকিল প্রায় দুই মাস আগে একটি ব্রেসলেট নিয়ে বিরোধে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তখন হাসপাতালে নিয়ে সেলাই দেওয়া হয়। থানায়ও একটি অভিযোগ দিয়েছি। রিয়াদের বাবা ফারুক মিয়া বলেন, সপ্তাহখানেক আগে আমার নতুন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় কে বা কারা। আমার সঙ্গে কিসের শত্রুতা? আমার ছেলেকেও খুন করল! সকাল থেকে শাকিল ও কর্মচারী ফারুক পলাতক।
দোকান মালিকের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, ফারুক হোসেনের সঙ্গে রিয়াদের আগে বন্ধুত্ব ছিল। ইতোমধ্যে একটু খারাপ সম্পর্ক দেখেছি। দোকানটি ফারুক পরিচালনা করত। প্রতিদিন বিকেলেই দোকানটি বন্ধ করা হয়।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দোকান মালিক ফরিদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ওসি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় স্কুলছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা দোকানে রেখে গেছে। হত্যার কারণ তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ছেলেটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে সবাই ভুল তথ্য দিচ্ছে। তার শরীর ও গলায় চিকন ধারালো কিছু দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয়েছে।
- বিষয় :
- লাশ উদ্ধার
- হাজীগঞ্জ
