ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ভাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগ ও নিক্সনের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

ভাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগ ও নিক্সনের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
×

ফরিদপুর অফিস ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২২ | ১১:৫৮ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২২ | ১১:৫৮

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হয়েছে। শনিবার ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর উপলক্ষ্যে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলের উপজেলা কার্যালয়ে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। 

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ ফরিদপুর ৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি মহান সংসদের একজন আইন প্রণয়নকারী। আপনি আমাকে গালাগাল করেন। আমি কিন্তু ভয়ঙ্কর জিনিস। আমি যে গাইল দেব সে গাইলের কোনো মা-বাপ নাই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে কিছু পাগল আছে যারা জোরে জোরে কথা বলে, আপনার বাড়িটা যদি ফরিদপুর সদরে হইতো তাহলে আরও কিছু পাগল আপনি দেখতেন। কাজী জাফর উল্লাহর মতো একজন বয়স্ক মানুষকে আপনি গালাগাল করেন। আপনি ভদ্রভাবে শালীনতার সঙ্গে রাজনীতি করেন।’

ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুদ্দিন আহম্মেদ মানু, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক অনিমেশ রায়, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ বেপারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান কাফী এবং এম হক বাবু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান লিটু, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাকলাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুজ্জামানসহ উপজেলা ও পৌর যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতারা। 

অপরদিকে উপজেলার ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসা মাঠে এক যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘ফাইজুর, সাহাদাত, সাকলাইন এদেরকে আমি বিতারিত করছি। তারপরে জাফর উল্লাহ্ নিছে। এদের আমি সঙ্গে রাখি নাই। কারণ, আমি জানতাম, অনেকের মনে প্রশ্ন এদেরকে আপনি নিছেন কেন? যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম বানাইছে, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা আমার পাশে বসবে এটাই স্বাভাবিক।’ 

এ সময় তিনি কাজী জাফর উল্লাহকে ‘চোর’ সম্বোধন করে বলেন, ‘যখন দ্যাখছে পাশে বসে, সাথে আসে দালালি করতে পারে না, জমি দখল করতে পারে না তখন আবার বড় চোরের কাছে চইলা গেছে। ’

তিনি জাফর উল্লাহর উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আমি বলবো চাচা, এতো বড় নেতা আপনে, আড়াই বছর করোনার সময় আসেন নাই, বন্যার সময় আসেন নাই, দুই দুইবার জনগণ আপনাকে প্রত্যাখ্যান করছে যাদের জন্য, তাদের কোলে নিয়্যা বসছেন। আপনি বুঝেন না ভাঙ্গা সদরপুরের মানুষ কেন আপনাকে প্রত্যাখ্যান করে। আপনে মানুষ চিনেন না, আপনে একটা মাতালরে নিয়া আসছেন, আপনে একটা চোররে নিয়া আসছেন, যাদের অপকর্মের জন্য আমি বের করে দিছি তাদেরকে আপনি গ্রহণ করছেন।’

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমার ওই লাল চোখ ভাঙ্গার মানুষ চিনা ফালাইছে। আমি প্রমাণ করছি, তুই চোর ছিলি, তুই চোর আছিস এবং আগামীতেও চোর থাকবি।’

জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও কর্মী সমাবেশের সমালোচনা করে নিক্সন আরও বলেন, ‘ফরিদপুর থেকে প্লেয়ার হায়ার করোস, ইউনিয়ন থেকে করোস, তোদের ওই অফিসে (উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়) যাইতে আমাদের ইউনিয়ন লাগে না। শুধু পৌরসভার চার-পাঁচ জন কমিশনারই যথেষ্ট।’

ওই অনুষ্ঠানে ভাঙ্গার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এসএম আবু ফয়েজ রেজার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন, ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মুন্সী প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×