খুলনায় নিক্সন মার্কেটে ভিড় , নিউমার্কেট ফাঁকা
ঈদের কেনাকাটা করতে খুলনার নিক্সন মার্কেটের রেলওয়ে হাসপাতাল সড়কে ক্রেতার ভিড়। শনিবারের ছবি - সমকাল
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২২ | ২৩:২৬
কেউ কিনছেন, কেউ দেখছেন। ফুটপাত থেকে সড়ক, দোকানের ভেতরে-বাইরে, পা ফেলার জায়গা নেই। তীব্র গরমে ঘেমে নেয়ে উঠলেও ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। পছন্দের পোশাক কিনতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। এই চিত্র খুলনার মধ্যবিত্তের বাজার হিসেবে পরিচিত ডাকবাংলো নিক্সন মার্কেটে। কম দামে ভালো পোশাক কিনতে এই মার্কেটের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। তাই মধ্যবিত্তের মার্কেট বলা হলেও এখানে ভিড় করেন উচ্চ থেকে নিম্ন আয়ের সবাই।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর ডাকবাংলো মোড় এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রায় ১৭টি মার্কেট রয়েছে। দোকান রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। এখানে তৈরি পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল, শাড়ি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের পোশাক থেকে শুরু করে ফুটপাতের পণ্য- সবই আছে এসব মার্কেটে। দামও সাধ্যের মধ্যে। তাই সবারই পছন্দ এই এলাকা।
শুক্র ও শনিবার ডাকবাংলো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মানুষের প্রচ ভিড়। হেঁটে মার্কেটে প্রবেশ করতেই বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নতুন দোকান বসানো হয়েছে, এতে হাঁটার পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। বাজারের প্রতিটি দোকানই ক্রেতায় ঠাসা। ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত দোকানিরা কথা বলার ফুরসত পাচ্ছেন না।
কে আই গার্মেন্টের শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পর আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন। করোনার কারণে দুই বছরে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ বছর বেচাকেনা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। ঈদের আগে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখি।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ভাগ্নে-ভাতিজার জন্য কিনতে এসেছি। প্রচ ভিড় ও গরমে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কেনাকাটা তো করতেই হবে। এ বছর পোশাকের দাম বাড়তি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হেরাজ মার্কেটের বিপরীতে খুলনা বিপণি কেন্দ্র। এর প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই ওড়নার মার্কেট। এখানে পা ফেলার জায়গা নেই। প্রতিটি দোকানের সামনে নারী ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
খুলনা বিপণি কেন্দ্র দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, ঈদে অনেকদিন ছুটি পাওয়ায় মানুষ আগেভাগে কিনে বাড়ি চলে যাচ্ছে। আর পরপর দুই দিন ছুটি হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, যে সংখ্যক মানুষ সেই সংখ্যক বিক্রি হচ্ছে না। কম দামের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারের ভেতরে পাইকারি শাড়ি ও লুঙ্গির দোকান। কম দামের কাপড় বিক্রি হওয়ায় এসব দোকানেও ক্রেতার ভিড় দেখা গেছে।
কয়েকটি দোকানে দেখা গেছে, জাকাতের জন্য বস্তা ধরে কাপড় কিনছেন অনেকে।
ডাকবাংলো মোড়ের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উচ্চবিত্তের নিউমার্কেটে। সেখানে অধিকাংশ দোকান দেখা যায় ক্রেতাশূন্য।
ছোট দুই মেয়ে ওহী ও সহীকে নিয়ে নিউমার্কেটে পোশাক কিনতে এসেছেন নগরীর জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া তুষার। তিনি বলেন, লোকজন কম থাকায় নিউমার্কেটে ঘুরে স্বস্তি আছে। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে পণ্য কেনা যায় না। তাই বাইরের শোরুম দেখে পোশাক কিনতে হবে। সেদিকে যাচ্ছি।
নিউমার্কেটের খুলনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম তারিক বলেন, যে রকম আশা করেছিলাম, সেই তুলনায় ক্রেতা নেই।
- বিষয় :
- ঈদের কেনাকাটা
- নিক্সন মার্কেট
- ঈদের বাজার
