বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, মেয়র পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
রাঙামাটি অফিস ও বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২ | ০৫:৪৫ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২২ | ০৫:৪৫
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো জমির হোসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রহমত উল্লাহ খাজার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেই ধারণা করছেন ভোটাররা।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী জমির হোসেন বর্তমানে বাঘাইছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রহমত উল্লাহ খাজা পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি পরিষদের সমর্থনে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে তিনি বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
এবার এই পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। মঙ্গলবার দুপুরেই প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
২০০৪ সালে বাঘাইছড়ি পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথমে পৌর প্রশাসক দিয়ে পরিচালনা করা হলেও ২০১২ সালে বাঘাইছড়ির প্রথম পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবার পৌর নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ২৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিল পদে ৮ জনসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএম লারমা) দলের সমর্থিত প্রার্থী রুবেল চাকমা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১১ হাজার ১৭১ জন (পুরুষ ৫৮২০, মহিলা ৫৩৫১ জন। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯ টি, মোট ভোট কক্ষ হচ্ছে ৩৮টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষ সংখ্যা ৫ টি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রহমত উল্লাহ খাজার নৌকার প্রার্থী জমির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, ‘তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিছু কিছু কেন্দ্রে আমার লোকজন দাঁড়াতে পারছে না। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাতে প্রশাসনকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই জিতবো।’
অভিযোগ অস্বীকার করে জমির হোসেন বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যেসব অভিযোগ করেছেন, তা অবান্তর। নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট তৎপর রয়েছে। কাউকে হুমকি দেওয়ার প্রশ্ন উঠে না। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি তো কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার পায়তারার করছেন। জনগণ তাকে প্রত্যাখান করেছে।’
বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান জানান, নির্বাচনে দিনে ভোটাররা যাতে নিরাপদে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের বটতলী কেন্দ্রটি দুর্গম হওয়ায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাঈদুর রহমান বলেন, ‘যদি কেউ ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা সৃষ্টি করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
