কেশবপুরের আব্দুস সামাদ হত্যা: ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:২৬
যশোরের কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামে ১৯৯৫ সালে আব্দুস সামাদ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির জামিন বাতিল করে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। পাঁচ আসামি হলেন-রফিক ওরফে রফিকুল ইসলাম, রাজ্জাক, তোরাব, জাকির হোসেন ও সোহরাব হোসেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। অন্যদিকে হত্যা মামলার বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান রুবেল এবং আসামিদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১টায় যশোরের মহাদেবপুরে মো. নজর আলী শেখের ছেলে আব্দুস সামাদকে ঘর থেকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। পরে নজর আলী অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার ছেলে সামাদকে মমিনপুর রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন সামাদের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর কাটা, রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ছিল। এ অবস্থায় সামাদকে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সামাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরে খুলনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় ৩ ফেব্রুয়ারি সামাদের বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তখন আসামিরা মামলা তুলে নিতেও বাদীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং হামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। আসামিরা হলেন রফিক ওরফে রফিকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, দ্বীন মোহাম্মাদ ওরফে মিন্টু, শাহাদাৎ ওরফে মেঝ, রাজ্জাক, তোরাপ, জাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, রাজ্জাক কাগুচি, রফিক ও আমজাদ হোসেন। তবে মামলা চলাকালে আসামি আমজাদের মৃত্যুর কারণে তার নাম বিচারকাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
যশোরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হলেও পরে মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট অভিযুক্ত ১১ আসামির যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে রায় ঘোষণা করেন খুলনার ট্রাইব্যুনাল।
এ ছাড়া মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় প্রত্যেক আসামিকে ১০ বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়। পরে ওই বছরই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন। এরমধ্যে আসামি রফিকুল, রাজ্জাক, সোহরাব, জাকির এবং তোরাব আপিল শুনানি চলাকালে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট থেকে জালিয়াতি করে জামিন নেন। তারা জামিনের নথিতে ৯ মাস জেলে থাকার তথ্য ৯ বছর দেখিয়ে জামিন পান। পরে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আসামিদের জামিন স্থগিত করে আসামিদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
ওই আদেশের পর আসামিরা আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। এরপর ২ বছর ৫ মাস কারাভোগের পর আসামিরা পুনরায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে এবং চলতি বছরের ১৫ মে জামিন পান তারা। এ পর্যায়ে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। যার ধারাবাহিকতায় সোমবার আপিল বিভাগ শুনানি শেষে ওই পাঁচ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
- বিষয় :
- হত্যা মামলা
- যশোর
