শ্রমিকবাহী বাসে জোরে গান বাজিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৩২ | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৫৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক বহনকারী একটি বাসে এক নারী শ্রমিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় জোরে গান বাজিয়ে বাসের চালক, হেলপার ও কনডাক্টর মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে।
ধর্ষণে অভিযুক্ত বাসটির হেলপার নুরনবীকে আটক করা হলেও বুধবার তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালিয়াকৈরের মাঝুখান এলাকার দেবা লিমিটেড নামে পোশাক কারখানার কাজ শেষে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছিলেন। চালকের আসনে থাকা হেলপার নুরনবী বাসটি চালিয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা নিয়ে গেলে সেখানে সব শ্রমিক বাস থেকে নেমে যান। ওই সময় এক নারী শ্রমিক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গাড়িতে থাকা চালক ওয়াসিম তাকে জিজ্ঞেস করে কোথায় যাবেন।
ওই নারী শ্রমিক জানান, পুলিশ লাইনের তিন রাস্তা মোড়ের পাশেই তার বাসা, সেখানে যাবেন। ওয়াসিম তাকে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে শ্রমিক বাসে ওঠান। পরে চালকের আসনে থাকা নুরনবী বাসটি ওই সড়কের নির্জন জায়গায় থামিয়ে বাসের সাউন্ড বক্স জোরে চালাতে থাকে। এ সুযোগে ওয়াসিম, আল মামুন ও নুরনবী ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ শেষে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। বাস থেকে নেমেই ওই নারী শ্রমিক কারখানার নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবীরকে ফোনে ঘটনাটি জানান। হুমায়ুন কবীর একটি প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হন। তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তিনি কারখানায় ফিরে আসেন।
এদিকে কারখানার শ্রমিকরা জানান, ঘটনার পরের কয়েকদিন ওই বাসের চালক, হেলপার ও কনডাক্টর শ্রমিকদের বহন করতে আসেনি। মঙ্গলবার সকালে ধর্ষক নুরনবীকে ওই বাসে পেয়ে যান শ্রমিকরা। তাকে ধরে কারখানার ভেতর নিয়ে মারধর করা হয়। বুধবার দুপুরে কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে ধর্ষক নুরনবীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানান শ্রমিকরা।
নুরনবী ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলে, 'আমি বাস চালিয়ে সড়কের পাশের একটি নির্জন জায়গায় বাস থামাই। পরে বাসের সব লাইট বন্ধ করে দিয়ে ওস্তাদ (চালক) ওয়াসিম ও কনডাক্টর আল মামুন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। আমি ওই নারীকে স্পর্শও করি নাই।'
এ ব্যাপারে কারখানার নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চান না- এ বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। ওই কারখানার প্রশাসনিক ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি তিন দিন ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জামাল বলেন, বিষয়টি জানার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেউ সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার ভুক্তভোগী নারীকে মামলা করার পরামর্শ দেন।
- বিষয় :
- সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
- শ্রমিকবাহী বাস
- কালিয়াকৈর
