ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চিরকুটে মিলল আত্মহত্যার কারণ

গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বিশ্বনাথের সেই তরুণী

গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বিশ্বনাথের সেই তরুণী
×

প্রতীকী ছবি

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:২৫

সিলেটের বিশ্বনাথে এক তরুণীর আত্মহত্যার তিন দিন পর জানা গেল কেন তিনি এই পথ বেছে নিলেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান এই তরুণীর চিরকুট উদ্ধারের পর জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার হওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথের লালটেক গ্রামের নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন পপি বেগম (২১)। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন শুক্রবার তাকে দাফনও করা হয়। দাফনের দু'দিন পর রোববার পপির হাতব্যাগে একটি চিরকুট পান তার মা জোৎস্না বেগম।

চিরকুটে লেখা ছিল বুধবার রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলী চেরাগী গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে পপিকে উঠিয়ে নিয়ে যায় একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩৩) ও তার সহযোগীরা। রাতভর গণর্ধষণের পর তারা বৃহস্পতিবার ভোরে ভগ্নিপতির বাড়িতে রেখে যায় তাকে। পরে সকালে বাড়ি ফিরেই আত্মহত্যা করেন পপি। পপি লালটেক গ্রামের দরিদ্র শুকুর আলীর তৃতীয় মেয়ে।

লালটেক গিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে তেতলী থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন পপির বড় বোন হ্যাপি বেগম। দু'দিন পর হ্যাপির ছোট সন্তান অসুস্থ হলে পপিকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি চলে যান। এর চার-পাঁচ দিন পর বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে ওতপেতে থাকা জাহাঙ্গীর পপিকে উঠিয়ে নিয়ে সহযোগীসহ রাতভর ধর্ষণ করে।

পপির আত্মহত্যার পর বিশ্বনাথ থানার এসআই অরূপ সাগর চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠান। পরদিন শুক্রবার তাকে দাফন করা হয়। আর দাফনের দু'দিন পর রোববার বিকেলে পপির ব্যাগে একটি চিরকুট পান তার মা জোৎস্না বেগম।

তিনি বলেন, গণধর্ষণ করায় তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পপির হাতব্যাগ থেকে তিনি যে চিরকুট পেয়েছেন তাতে লেখা আছে, জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। রোববার রাতে চিরকুটটি থানায় পৌঁছে দিয়েছেন পপির বাবা-মা।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×