ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ইবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে আন্দোলনে ছাত্রীরা

ইবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে আন্দোলনে ছাত্রীরা
×

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হল গেটের সামনে অবস্থান নেন আবাসিক ছাত্রীরা। ছবি: সমকাল

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:১১ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:১৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা নাসরিনের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে আন্দোলনে নামেন আবাসিক ছাত্রীরা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হল গেটের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা প্রভোস্টের খারাপ আচরণ, হুমকি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনার পর ছাত্রীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।

আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানান, এর আগে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ এনে গত ১ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। এরপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ছাত্রীরা একটি লিখিত অভিযোগ পড়ে শোনান। 

এতে তারা বলেন, প্রভোস্ট ম্যাম কথায় কথায় বলেন, হল কি তোমার বাবার? সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজনেও ছাত্রীদের ফোন রিসিভ করতে দেওয়া হয় না এবং ব্লকের অভ্যন্তরীণ গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, ছাত্রীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয় না, প্রভোস্ট ম্যাম সব সময় ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। 

এছাড়া ছাত্রলীগ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বোস রাখি কর্তৃক রাজনৈতিক হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন তারা। ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রিয়াঙ্কা ছাত্রীদের বলেন, হলে ছিট পেতে হলে ছাত্রলীগ করতে হবে। ছাত্রলীগ করলে হলে থাকতে পারবি, না করলে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

আন্দোলন শুরু কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রউপদেষ্টা ও প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্রীরা উপাচার্য না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে হলের অভ্যন্তরীণ গেটে তালা লাগিয়ে দেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম তোহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রউপদেষ্টা ও প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, আমরা ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীদের দাবিগুলো শুনেছি। তারা প্রভোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেব।

আরও পড়ুন

×