ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

পরিবেশ দিবস

কংক্রিটের জঙ্গল, বাড়ছে তাপমাত্রা

কংক্রিটের জঙ্গল, বাড়ছে তাপমাত্রা
×

আধুনিক শহরগুলো তাদের আশপাশের এলাকাগুলোর চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে

শশাঙ্ক সাদী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৮:০৯

ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ আমাদের জলবায়ুকে এক নতুন রূপ দিচ্ছে। পরিসংখ্যানমতে, মানবেতিহাসে এই প্রথমবার পৃথিবীর ৫০ ভাগের বেশি মানুষ শহরে বাস করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করবে। পৃথিবীর শহরাঞ্চলগুলো দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, সামাজিক গতিশীলতা এবং মানুষের অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন সমাজকে একসূত্রে সংযুক্ত করেছে, আর্থসামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হওয়ার পথ করে দিয়েছে। অথচ একই সঙ্গে নগরায়ণ আমাদের সময়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এই বৈপরীত্য বাংলাদেশের চেয়ে আর কোনো দেশ এত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে না। প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতার জন্য বিশ্বখ্যাত একটি দেশ এখন দ্রুত নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির দ্বৈত চাপে চ্যাপ্টা হওয়ার আশঙ্কায়। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা শুধু একটি জাতীয় ঘটনা নয়; এটি উন্নয়নশীল বিশ্বের শহরগুলোর জন্য পরিষ্কার সতর্কবার্তা।
 

নগরায়ণে উত্তপ্ত পৃথিবী
গবেষণা বলে যে আধুনিক শহরগুলো তাদের আশপাশের এলাকাগুলোর চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটি ঢাকা এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জলাভূমি, গাছপালার সবুজ বেষ্টনী এবং খোলা জায়গাগুলো ধীরে ধীরে কংক্রিট, অ্যাস্ফল্ট আর স্টিলের দাপটে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঢাকা শহর তীব্র মাত্রার তাপদাহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এটি হলো নগর-তাপদ্বীপের (আরবান হিট আইল‍্যান্ড) একটি বাস্তব উদাহরণ। একদিকে কংক্রিটের ভবন ও রাস্তা সূর্যের তাপ শোষণ ও ধরে রাখে এবং প্রতিফলন করে, বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, যানবাহন, শিল্পকারখানা ও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ম‍্যে দিয়ে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে। অন‍্যদিকে বৃক্ষ ও অন্যান্য গাছপালা কেটে ফেলে প্রাকৃতিকভাবে শীতল হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই কারণগুলো শহরের পরিবেশকে আশপাশের গ্রামীণ এলাকার চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ করে তুলছে। 
শহরে মানুষের জলবায়ুজনিত অভিবাসনের কারণে এই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন তাদের এমন শহরগুলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেগুলো নিজেরাই জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বছর ৫০ আগেও এই অভিবাসন হতো পাঁচ বা দশ বছর পরপর। এখন প্রতিবছর নদীভাঙন, বন্যা এবং অন্যান্য জলবায়ু-প্রভাবিত দুর্যোগে ঘরবাড়ি, জমি বা জীবিকা হারানোর পর টিকে থাকার সংগ্রামে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় চলে আসে। 
নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর আলাদা প্রক্রিয়া না, একে অপরের পরিপূরক এবং ক্রমশ একে অপরকে শক্তিশালী করছে।
 

অপরিকল্পিত নগরায়ণ: মূল‍্য দেয় পরিবেশ
ঢাকার নদীগুলো একসময় শহরের বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আর এখন সেগুলো দশকের পর দশকব‍্যাপী অবহেলার ক্ষতচিহ্ন বহন করছে। ঢাকার ঐতিহাসিক জীবনরেখা বুড়িগঙ্গা আজ শিল্পদূষণের কারণে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নদীদূষণকারী শিল্পগুলোকে স্থানান্তর করার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা পরিবেশগত ক্ষতি দূর করতে পারেনি। পরিবর্তে নীতির কার্যকর প্রয়োগের অভাব ও নীতিগত পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। ক্ষতিকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করার ফলে স্থানান্তরিত দূষণকারী শিল্পগুলো ধলেশ্বরী নদীকে এখন বিষাক্ত করছে! 

বায়ুদূষণ আরেকটি ক্রমবর্ধমান সংকট। যানবাহন, শিল্প, ইটভাটা ও নির্মাণস্থল থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়মিতভাবে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় স্থান দিচ্ছে। একই সঙ্গে জলাভূমি এবং সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস হওয়ায় বায়ুর মান উন্নত করার প্রাকৃতিক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে।
তবে পরিবেশের এই অবক্ষয়ের জন্য শুধু সরকার বা শিল্পগুলোকে দায়ী করা যায় না। ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন কার্যকলাপও শহুরে পরিবেশ দূষণে প্রত‍্যক্ষ অবদান রাখে। নর্দমায় ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং একটু বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। ড্রেনে আর খালে ফেলা গৃহস্থালির বর্জ্য পরিবেশগত সংকট ত্বরান্বিত করে। অতিরিক্ত পানি ও গ‍্যাস-বিদ‍্যুৎ শক্তির ব্যবহার আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা ব্যবস্থাগুলোকে বেকায়দায় ফেলছে।
এই চিত্র আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বহুজাতিক সংস্থা বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি-চালিত একটি দূরবর্তী বৈশ্বিক ঘটনা না; এটি প্রতিদিনের বাড়ি, বাজার, স্কুল এবং পাড়া-মহল্লায় নেওয়া অগণিত স্থানীয় সিদ্ধান্তের দ্বারাও প্রভাবিত হয়। তাই কোনো জলবায়ুবান্ধব শহর গড়ে তোলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন উভয়ই প্রয়োজন।

জীবননাশী সংকট: শিশুরাই সবচেয়ে বিপন্ন
বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অতি সামান্য, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, খরা আরও ঘন ঘন ও তীব্রতর হচ্ছে–যা রাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
শহরাঞ্চলে ছিন্নমূল জলবায়ু অভিবাসীদের বস্তিগুলো বন‍্যা, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং নিম্নমানের আবাসন পরিস্থিতির তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বারবার দুর্যোগের কারণে আগামী দশকগুলোতে আরও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা ঢাকা শহরের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন রাষ্ট্রের সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করে না। সবচেয়ে বড় বোঝাটি পড়ে শিশুদের ওপর। লাখ লাখ বাংলাদেশি শিশু জলবায়ু সংকটের একেবারে সামনের সারিতে বেড়ে উঠছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগবালাই ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থ জীবন ব্যাহত করছে। চরম আবহাওয়ার সময় স্কুল বন্ধ থাকে। দূষিত বায়ু এবং দূষিত পানির সংস্পর্শে এসে তাদের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। জলবায়ু দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো প্রায়ই তাদের সন্তানদের স্কুলে রাখতে হিমশিম খায়। এতে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
শহরের বস্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে বাস করা শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ এবং তাদের পরিবারগুলো এমন সব ঝুঁকির কবলে পড়ছে, যেগুলো তৈরিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং এগুলো থেকে বেরিয়ে আসার সক্ষমতা তাদের খুব কম।

অভিযোজনশীল শহর: শিক্ষা নিতে পারি 
নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শহরগুলো সমাধানেরও অংশ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শহর প্রমাণ দেখাচ্ছে যে সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলা সম্ভব। ২০১১ সালের বিধ্বংসী বন্যার পর ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহর তার বন্যা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। রাস্তাঘাটে কংক্রিটের বদলে বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে যেতে পারে এমন ধরনের উপাদান ও নকশা ব‍্যবহার, সবুজ অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং নতুনভাবে নকশা করা গণপরিসরে বিনিয়োগের মাধ্যমে শহরটি বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি আরও বাসযোগ্য এলাকা তৈরি করেছে।

সিঙ্গাপুর আরেকটি শক্তিশালী উদাহরণ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এটি পার্ক, সবুজ করিডোর, ছাদ-বাগান এবং জল-সংবেদনশীল নকশার মাধ্যমে শহরের পরিকল্পনায় পদ্ধতিগতভাবে সবুজ স্থানকে একীভূত করেছে। এই দুটো উদাহরণ প্রমাণ করে যে নগরায়ণ এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা পরস্পরবিরোধী না হয়ে সহযোগীও হতে পারে।
এই উদাহরণগুলো বাংলাদেশে হুবহু নকল করে প্রয়োগ করা যাবে না, কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, শাসন কাঠামো এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি ওই দুই দেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। তবে এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে জলবায়ু সহনশীলতা কোনো অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা নয়, এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের ফসল।

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, চাই বাস্তবায়ন
বাংলাদেশের জলবায়ু নীতিতে তেমন কোনো ফাঁক নেই। জাতীয় জলবায়ু মোকাবিলা কৌশল, অভিযোজন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি–সবই এই চ্যালেঞ্জের জরুরি অবস্থাকে স্বীকার করে। তবে আসল ফাঁক হলো এর বাস্তবায়ন।
কার্যকরী পরিবর্তন আনার জন‍্য বাংলাদেশের জলবায়ু কার্যক্রমকে অবশ্যই কাগুজে ঘোষণাপত্র এবং পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ঊর্ধ্বে যেতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনার সব সিদ্ধান্ত জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন করে পরিচালনা করা উচিত। চকচকে অবকাঠামোর নামে অপরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য জলাভূমি ও জলাশয়গুলোকে ধ্বংস না করে রক্ষা করতে হবে। শিল্পদূষণ মানদণ্ড কারও মুখ দেখে বেছে বেছে নয়, ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। স্থিতিশীল উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা স্বাধীন নিরীক্ষার অধীন হতে হবে।
একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে নাগরিকরা সব দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় স্থিতিশীলতা তৈরির উদ্যোগে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্কুলগুলোকে জলবায়ু সাক্ষরতার কেন্দ্র করে তুলতে হবে। এতে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরণীরা কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞানই নয়, বরং এটি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপগুলোও বুঝতে পারবে।
জলবায়ু অ্যাডভোকেসি কর্মী এবং নাগরিক সংগঠনগুলোকে অবশ্যই জবাবদিহির প্রশ্নে তাদের নীতিগত চাপ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে শহর উন্নয়ন ও পরিবর্ধন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মতামত যেন কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। জলবায়ু আন্দোলন সফল হবে যদি তা সম্মেলন ও প্রচারণার গণ্ডি ছাড়িয়ে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, শ্রমিক, অভিবাসী, ছিন্নমূল বস্তিবাসী এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে সবচেয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করে। এই কাজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। যে সংকট তৈরিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য, তার জন্য তাকে অসম মূল্য দিতে হচ্ছে। যদিও বছর বছর বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বহুগুণে বেড়েছে, প্রকৃত তহবিলের পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য শুধু প্রতিশ্রুতিই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব আর্থিক সহায়তা ও সহজলভ্য অভিযোজন তহবিল, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির নিঃশর্ত হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার জন্য বিশ্বাসযোগ্য সহায়তা ব্যবস্থা।

একটি সম্মিলিত দায়িত্ব
জলবায়ু কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ ক্রমবর্ধমানভাবে শহরগুলোতেই নির্ধারিত হবে। সেখানেই পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়, সেখানেই জলবায়ু ঝুঁকিগুলো কেন্দ্রীভূত থাকে, আবার সেখানেই সমাধানের সবচেয়ে বড় প্রভাবক অর্থাৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকেন।
ঢাকার যে শিশুরা জলাবদ্ধ পানিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে, প্রচণ্ড তাপ সহ্য করছে এবং দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে, তারা কোনো বিমূর্ত পরিসংখ্যান নয়। তারা সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সম্প্রদায় এবং ব্যক্তিবর্গের নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করছে। তবে ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।
সরকারকে অবশ্যই শহরের শাসন পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই দায়িত্বশীলভাবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অবলম্বন বা উদ্ভাবন করতে হবে। নাগরিকদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জলবায়ু আন্দোলনকারীদের অবশ্যই জবাবদিহির দাবি অব্যাহত রাখতে হবে। ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই উষ্ণায়নের কঠোরতম পরিণতির সম্মুখীন হওয়া মানুষদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে।
কংক্রিটের জঙ্গল বাস্তব। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বাস্তব। কিন্তু আরও সবুজ, স্বাস্থ্যকর এবং স্থিতিশীল পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার জন‍্য আমাদের সক্ষমতাও সমানভাবে বাস্তব।
প্রশ্নটি এই নয় যে পরিবর্তন সম্ভব কিনা। প্রশ্নটি হলো, অপরিবর্তনীয় পর্যায়ে যাওয়ার আগেই আমরা আমাদের শিশু, কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন‍্য কার্যকর পদক্ষেপ নেব কিনা।

শশাঙ্ক সাদী: লেখক ও উন্নয়ন বিশ্লেষক

আরও পড়ুন

×