ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নকশিকাঁথা

নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ওরা স্বাবলম্বী

নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ওরা স্বাবলম্বী
×

নকশিকাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত মেহেরপুরের সহগোলপুর গ্রামের নারীরা -সমকাল

ফারুক হোসেন, মেহেরপুর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২২ | ১৩:৪৩

বিকেল কিংবা অবসর সময়ে গ্রামের ঘরে ঘরে একা অথবা দলবেঁধে চলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ। শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাঁথায় ফুটে ওঠে বাহারি ডিজাইন আর মনোমুগ্ধকর নানা প্রতিচ্ছবি। এমন দৃশ্যই দেখা মেলে মেহেরপুর সদর উপজেলার সহগোলপুর গ্রামে। তাঁদের হাতে তৈরি এসব নকশিকাঁথাই চলে যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। এর মাধ্যমে ভালো পরিমাণ আয়ের সুযোগ হয়েছে গ্রামীণ জনপদের নারীদের।
তাঁরা জানান, পুরোনো শাড়ি, লুঙ্গি, বিছানার চাদরের সঙ্গে নতুন কাপড় যুক্ত করে তৈরি করা হয় বাহারি ডিজাইনের সব কাঁথা। বিদেশি ক্রেতারাও দেখতে আসছেন, হচ্ছেন মুগ্ধ।
একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নারীরা পেয়েছেন কাজের এ সুযোগ। প্রতিটি কাঁথা সেলাইয়ে সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকেন নারীরা। যেগুলো বিদেশে রপ্তানি হয় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়। ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশিদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি কাঁথা আরও বেশি দামে বিক্রি হয়।

সংশ্নিষ্টরা জনান, কাঁথা সেলাইয়ে জড়িতদের কেউ বিধবা, কেউ অতিদরিদ্র আবার কারও সংসারে একেবারেই নেই উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁরা সংসারের কাজের ফাঁকে দলে দলে বসে যান নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজে। ভালো পরিমাণ পারিশ্রমিক পাওয়ায় এ কাজে ভাগ্য বদলেছে সহগোলপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক নারীর। তাঁদের সফলতায় এ কাজে এখন যুক্ত শতাধিক নারী। যাঁরা সংসারে আর্থিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারছেন।
তাঁদের তৈরি এসব নকশিকাঁথা বিদেশে রপ্তানি করতে সহযোগিতা করছে সিডিএফ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে এসব কাঁথা পাঠানো হচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকেই কাঁথা তৈরির যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

কাঁথা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছানোয়ারা খাতুন বলেন, বিদেশে চলে যাওয়ায় এ কাজের গুরুত্ব বেড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন নারী যুক্ত হচ্ছেন এ কাজে।
শেফালী খাতুন জানান, আগে ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে দু'বেলা খেতে দিতে পারতেন না। এখন আয় হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে, এতে তাঁরা খুশি।

আমেনা খাতুন জানান, সংসারের কাজ শেষে বসে না থেকে কাঁথা সেলাই করে মাসে অন্তত ৬-৭ হাজার টাকা আয় হয়। এতে সংসারে পুরুষদের ওপর খরচের চাপ কমেছে।
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ইসমত আরা বলেন, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরাও অবদান রাখছে সংসারে।

সিডিএফ-এর সুপারভাইজার রেবেকা খাতুন বলেন, নানান ধরনের ম্যাট, ডিজাইনের বড় কাঁথা, বাচ্চাদের কাঁথাসহ হরেক রকম কাঁথা তৈরি হচ্ছে। এখন ৭০ থেকে ৮০টি বাড়ির শতাধিক নারী এ কাজের সঙ্গে যুক্ত।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন প্রভঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তাঁরা বিধবা, দরিদ্র ও অসহায় নারীদের নিয়ে কাজ করে থাকেন। নকশিকাঁথার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা, এতে সামাজিক মর্যাদা বাড়ছে তাঁদের।
এ কাজে জড়িত নারীদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান।

আরও পড়ুন

×