ম্যানহোলে মিলল প্রচুর সরকারি ওষুধ
ম্যানহোল থেকে ওষুধগুলো উদ্ধার করেন স্থানীয়রা- সমকাল
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:২৮ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:৫৮
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পরিত্যাক্ত ম্যানহোল থেকে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার উপজেলার উজানচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছন থেকে এগুলো ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
সরেজমিনে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের পরও স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবনের পেছনে ম্যানহোলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে রয়েছে। এ সময় স্থানীয় হাসিবুল হাসান রিপন, আলাউদ্দিন শেখ আলাল, মুরাদ মৃধাসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, উজানচর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ সহকারী কমিনিটি মেডিকেল অফিসার মোকলেছুর রহমান এখানে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষকে সরকারি ওষুধ না দিয়ে ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ বাজার থেকে কিনে নিতে বলেন। সরকারি ওষুধের কথা বললে তিনি রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ ছাড়া সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই তিনি টাকার বিনিময়ে ওষুধ সরবরাহ করেন। মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ফেলে দেওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে মোকলেছুর রহমান ওই ম্যানহোলের ভেতর থেকে আরো কিছু ওষুধ অনত্র সরিয়ে ফেলেছেন বলেও তারা দাবি করেন।
মুক্তি বেগম নামে স্থানীয় এক নারী জানান, তিনি বিভিন্ন সময় শারীরিক অসুস্থ্যতা নিয়ে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছেন। কোনদিনও তাকে সরকারি ওষুধ দেওয়া হয়নি। এখানে এলেই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাজার থেকে ওষুধ কিনে নিতে বলেন মোকলেছুর রহমান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মোকলেছুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। সরকার থেকে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। আর যেগুলো সরবরাহ থাকে না সেই ওষুধগুলোই কেবলমাত্র বাজার থেকে কিনতে বলা হয়। ম্যানহোলের মধ্যে কীভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ এলো এ ব্যাপারে তার জানা নেই বলে দাবি করেন।
উজানচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. আফরোজা সুলতানা কয়েকদিন আগে এখানে যোগদান করেছেন জানিয়ে বলেন, ম্যানহোলের মধ্য থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গুলো স্বাস্থ্য বিভাগের নয়। কিছু ওষুধ বিদেশি এবং কিছু ওষুধ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোকলেছুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব পেলে এবং কোন প্রকার অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছি।
